এনামুল হক জুবের
কমরেড বরুণ রায়ের জন্ম এক সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে। একটি সামন্ত পরিবারে জন্ম নিলেও বেছে নিয়েছিলেন কৃষক প্রজার পক্ষের রাজনীতি। বিদ্যালয়ে পড়াশুনাকালে তিনি প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের সাথে যুক্ত হন। আন্তরিকতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নেতৃত্বের কাতারে চলে আসতে সক্ষম হন। ছাত্র ফেডারেশনের কর্মী হিসাবে বরুণ রায় কমিউনিস্ট পার্টির সংস্পর্শে আসেন। ৫২’র ভাষা আন্দোলনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ‘ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের’ যৌথ গেরিলা বাহিনীর সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সুনামগঞ্জ-১ আসন থেকে জয়লাভ করেন। রাজনীতির জন্য তিনি অনেকবার কারাবরণ
করেছেন। প্রয়াত কমরেড বরুন রায়ের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বরুণ রায় স্মৃতি সংসদের আয়োজনে স্মরণ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। রবিবার সাড়ে ৪ টায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র আইনজীবী ও কলামিষ্ট হোসেন তওফিক চৌধুরী, শিক্ষাবিদ পরিমল কান্তি দে, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. চাঁন মিয়া, সুনামগঞ্জ সনাকের সভাপতি ধূর্জটি কুমার বসু, জেলা উদীচীর সভাপতি ও প্রয়াত কমরেড বরুণ রায়’র সহধর্মিনী শীলা রায়, জেলা উদীচীর সদস্য নির্মল ভট্টাচার্য, বরুণ রায় স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রমেন্দ্র কুমার দে মিন্টু, কৃষক নেতা অমর চাঁন দাস, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরীর সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সালেহ আহমদ, জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি গৌরি ভট্টাচার্য্য, জেলা সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. এনাম আহমেদ, প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক অ্যাড. খলিল রহমান, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি দুর্জধন দাস দুর্জয়।
আলোচনা সভার শুরুতে প্রয়াত কমরেড বরুণ রায় স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এর আগে শহরে একটি র্যালি বের হয় এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
আলোচনা সভা শেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। এছাড়াও ৭০ জন অসহায় দরিদ্রের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।
জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জে কমরেড প্রসূন কান্তি রায় (বরুণ রায়) এর দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বিকাল ৩টায় সাচনা বাজারস্থ রেইন্ট্রি তলায় কমরেড বরুণ রায় স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন স্মৃতি পরিষদের সভাপতি বিদ্যুৎ জ্যোতি চক্রবর্ত্তী।
স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কমরেড বরুন রায় স্মৃতি সংসদ সুনামগঞ্জের সদস্য চিত্তরঞ্জন তালুকদার।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিত রায়ের স্বাগত বক্তব্যে সূচিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, সাবেক উপ-সচিব রইছ উদ্দিন, স্মৃতি সংসদের উপদেষ্টা অজিত লাল রায়, নিখিল রঞ্জন তালুকদার ও প্রেসক্লাব সভাপতি অঞ্জন পুরকায়স্থ।
বক্তব্য দেন স্মৃতি পরিষদের সহ সভাপতি আফতাব উদ্দিন আহমদ, মো. আলী আমজাদ, আবু তাহের তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. বিষ্ণুপদ সূত্রধর, অর্থ সম্পাদক মিশন তালুকদার, সদস্য মো. নবী হোসেন প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন সাহিত্য সম্পাদক পংকজ শীল, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক উত্তম পাল, ক্রীড়া সম্পাদক জিয়াউর রহমান, সদস্য রিপন তালুকদার, সদস্য জোহরা আক্তার প্রমুখ।
সভায় বক্তারা কমরেড বরুণ রায়ের বিপ্লবী জীবনাচরণ নিয়ে আলোচনা করেন।
বিশ্বম্ভরপুর
বিশ্বম্ভরপুর উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর আয়োজনে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সাবেক সংসদ সদস্য জননেতা কমরেড বরণ রায়ের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার স্থানীয় প্রেসক্লাবে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর উপজেলা শাখার সভাপতি স্বপন কুমার বর্মনের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন চক্রবর্তীর পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি চিত্তরঞ্জন গোস্বামী, আব্দুল গনি আনসারী, মোঃ জহির মিয়া, আবুল কায়ের, শফিকুল হাসান (সুজন), আরফিনুর রহমান (সানি), শাহ্ রাকিব প্রমুখ।