- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানি সংকট

বিশেষ প্রতিনিধি
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সুনামগঞ্জের ডলুরা বর্ডার হাটে স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানির সমস্যা প্রকট। হাটে পায়খানা-প্রশ্রাবের কোন ব্যবস্থাই নেই। বিশুদ্ধ পানির সংকট শুরু থেকেই ছিল। অথচ এই হাট চালু হলে প্রতি মঙ্গলবার কমপক্ষে তিন হাজার মানুষ বাজারে ক্রয়-বিক্রয় করেন। কমপক্ষে ছয় ঘণ্টা বাজারে অবস্থান করেন হাজারো মানুষ। করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল এই বাজার। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ভারতের বর্ডার হাট পরিচালনা কমিটির চিঠি পাওয়া গেছে। ভারতীয় পক্ষ হাট চালু করতে আগ্রহী। দুই পক্ষের বৈঠক শেষে আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই বর্ডার হাট খুলে দেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জ সীমান্তের ডলুরা এলাকায় ২০১২ সালের ২৪ এপ্রিল গড়ে ওঠা দেশের দ্বিতীয় ডলুরা—বালাট বর্ডার হাট দেশের অন্যতম জনপ্রিয় বর্ডার হাট। প্রতি মঙ্গলবার এই হাট বসত। করোনাকালে হাট বসা বন্ধ ছিল। এপারের ২৫ জন দোকানি এবং ওপারের ২৫ জন দোকানি এই হাটে বিক্রেতা হিসেবে বসেন। দুই দেশের কার্ডধারী ক্রেতা আছেন প্রায় ৮০০ জন। বাজারের ৫ কিলোমিটার এলাকার বাসিন্দারাই ক্রেতা—বিক্রেতার কার্ড পেয়েছেন। সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত হাট বসে। শুরু থেকেই হাটে এপারের ক্রেতা বা দর্শনার্থী বেশি হচ্ছেন।
বাজার পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য, জাহাঙ্গীর নগর প্রাক্তন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোকশেদ আলী বললেন, বর্ডার হাট বন্ধ হবার আগে পর্যন্ত টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানির জন্য ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে সকলের। করোনার সময় হাট বন্ধ ছিল। এ নিয়ে কেউ কোন কিছুই করেন নি। এখন যেহেতু হাট চালু হবে টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা জরুরি।
মোকশেদ আলীর ছেলে নূর আহমেদ বাবার পক্ষে বর্ডার হাট পরিচালনা কমিটিতে দায়িত্ব পালন করতেন। নূর আহমেদ বললেন, বর্ডার হাটে ওপারের (ভারতীয়রা) কার্ডধারীরা ছাড়া অন্যরা খুব একটা আসেন না। এপারের অনেকে দর্শনার্থী দূর দূরান্ত থেকেও ওখানে যান। এরা কেনাকাটার পাশপাশি টয়লেটও ব্যবহার করেন। শুরুতে ওখানে একটি সাবমার্জেবল টিউবওয়েল ছিল। অনেকদিন হয় এটাতে পানি ওঠে না। বাজারের পরিচ্ছন্নতা কর্মী পাশের ডুবা থেকে পানি তুলে এনে ট্যাংকিতে পানি রাখতেন। এই পানি দিয়েই সকলে টয়লেটে যেতেন। নূর আহমদ জানান, শুরু থেকে এপাশে দুই টয়লেট এবং ভারতীয় পাশে দুটি টয়লেট ছিল। এখন একটাও ব্যবহার উপযোগী নয়। করোনার আগে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ভারতীয় পক্ষ তাদের অংশের দুটি এবং আমাদের অংশের দুটি আমরা মেরামত করবো। দোকানীরা খরচের অংশ চাঁদা তুলে দেবেন।
ড্রেনেজ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভালো না থাকায় বাজারে সব সময়ই দুর্গন্ধ ছড়ানোর কথা জানালেন স্থানীয় তরুণ আব্দুল ওদুদ।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বললেন, ডলুরা বর্ডার হাট চালু করার আগ্রহ প্রকাশ করে হাটের ভারতীয় পক্ষের পরিচালনা কমিটি মঙ্গলবার চিঠি দিয়েছেন। এই নিয়ে ৩—৪ দিনের মধ্যেই দুইপক্ষের আনুষ্ঠানিক বৈঠক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বৈঠক শেষে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বর্ডার হাট চালু হবে। হাটের ওয়াসরুমগুলোর অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে জানিয়ে তিনি বললেন, ওয়াসরুমগুলো দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ওখানে বিশুদ্ধ পানির জন্য টিউবওয়েল বসানো হবে। বর্ডার হাট চালু করে হাটে কেনা বেচা চলবে, ওখানকার টয়লেটসহ অন্যান্য উন্নয়ন কাজও চলবে।
তিনি জানান, গেল ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে উদ্বোধন হওয়া সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার সীমান্তের বাগানবাড়ী বর্ডার হাট ও তাহিরপুরের লাউড়েরগড় বর্ডার হাটও পর্যায়ক্রমে চালু হবে।

  • [১]