- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সড়কের বিভিন্ন মোড়ে দুর্ঘটনা বাড়ছে

আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার সুরমা ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের সংকীর্ণ যাতায়াত সড়কের বিভিন্ন মোড়ে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে চলেছে। এসব ঘটনায় মালবাহী গাড়ি ছিটকে পড়ছে সড়কের পাশে খালে বা জমিতে। আবার কোনো কোনো গাড়ি ও মটরবাইক মুখোমুখি সংঘর্ষে যাত্রী সাধারণ আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় অপ্রয়োজনীয় স্পীডবেকার এবং অদক্ষ গাড়ি চালককে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। দুর্ঘটনা বন্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি স্থানীয় সচেতনমহলের।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, হালুয়ারঘাট বাজার থেকে মঙ্গলকাটা বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে রয়েছে অপ্রয়োজনীয় স্পীডবেকার ও দুইটি সড়কের মোড়। বেরীগাঁও পয়েন্ট থেকে কৃষ্ণনগর পয়েন্ট পর্যন্ত রয়েছে একাধিক স্পীডবেকার ও কয়েকটি সড়কের মোড়। মঙ্গলকাটা বাজার থেকে ইসলামপুর গ্রাম পর্যন্ত রয়েছে আরও দুইটি সড়কের মোড়। প্রধান এই তিন সড়কে দৈনন্দিন দুর্ঘটনা বেড়ে চলেছে। এই সড়ক দুর্ঘটনায় অতীতে অনেকের অঙ্গহানী ও প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে। কয়েকদিন আগে একই দিনে কৃষ্ণতলা ও মীরেরচর সড়কের মোড়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন একাধিক যাত্রী। যাত্রীরা বর্তমানে সিলেট ও সুনামগঞ্জের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। গত রবিবার দুপুরে বেরীগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের সড়ক থেকে একটি ট্রলি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে পড়ে মুগাই নদীতে।
গত সপ্তাহে বেলাবরহাটী মোড়ে ও কৃষ্ণতলা মোড়েও একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন ব্রীজের সংযোগ সড়কে মাটি কম থাকায় দুর্ঘটনার কারণ বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। বেরীগাঁও পয়েন্টে ব্রীজের বাম পাশে নলুয়া অভিমুখে সড়কে যেতে এবং আমজদ হাজীর বাড়ি অভিমুখে সড়কের মোড়ে, নলুয়া কবরস্থানের পাশে, মুক্তিযোদ্ধা সমাধির পাশে, বানীপুর গ্রামের দক্ষিণ দিকের মোড়ে, কৃষ্ণনগরের মোড়ে, কোনাগাঁও মোড়ে এবং মীরেরচর মোড়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। মঙ্গলকাটা বাজারের দক্ষিণে ব্র্যাক অফিসের পাশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েকবার। বাজারের উত্তরে ইসলামপুর সড়কের মফিজ ব্রীজের পাশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানান অনেকে। ইব্রাহীমপুর ও জগন্নাথপুর এলাকায় মেইন সড়কে অসংখ্য স্পীডবেকার নির্মাণ করায় যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি বেড়েছে।
এই প্রধান তিন সড়কে প্রতিদিন চলাচল করে যাত্রীবাহী মটরবাইক, সিএনজি, অটোরিক্সা, মালবাহী পিকআপ, ট্রলি ও ট্রাক। প্রতিদিন মালবাহী গাড়ি করে রড, সিমেন্ট, টিন, বালু, পাথর, ইট, ইটের টুকরা, মাটিসহ নানা জাতের মালামাল আনা নেয়া করে থাকে। অদক্ষ চালক থাকায় সড়কের মোড়ে মটরবাইক মালবাহী গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষের প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। আবার মুখোমুখি দুই মটরবাইকের ও সংঘর্ষ ঘটে। মটরবাইক নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পাড়ায় স্পীডবেকারে অথবা ব্রীজের সংযোগ সড়কে উঠা নামার সময় দুর্ঘটনায় কবলিত হয়।
কৃষ্ণনগর এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল আওয়াল বলেন, এলাকায় এবার সড়ক দুর্ঘটনার মাত্রা অনেকটা বেড়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ শারীরিক ও আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
সুরমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকায় প্রায় সকল স্থান থেকে এখন দুর্ঘটনার খবর আসছে। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন। সড়কে চলাচল এখন কারো জন্য নিরাপদ নয়। নিরাপদ সড়কের দাবি আমাদের।
সুনামগঞ্জ উত্তর সুরমা উন্নয়ন পরিষদের আহ্বায়ক মো. আব্দুর রব বলেন, হালুয়ারঘাট-মঙ্গলকাটা ও চৌমুহনী এবং বেরীগাঁও-কৃষ্ণনগর সড়কের মোড়ে প্রায় সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এবার অন্যান্য সময় থেকে বেশি পরিমাণে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। আমাদের জানমালের নিরাপত্তায় এবং নিরাপদ সড়ক বিনির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনী ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

  • [১]