- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সড়কে দুর্ভোগ

পুলক রাজ
নতুন হাছননগর, আপ্তাবনগর, পাঠানবাড়ি, পশ্চিম সুলতানপুর, পূর্ব সুলতানপুর, কেজাউরা নিয়ে তিন নম্বর ওয়ার্ড। এসব এলাকার সড়কের পিচ-খোয়া উঠে স্থানে স্থানে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। সৃষ্টি হওয়া ছোট-বড় গর্ত এড়িয়ে যানবাহন চলতে হয় এঁকেবেঁকে। সড়ক ভেঙে পাথর বেরিয়ে গেছে। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ট্রাক, লেগুনা, সিএনজি, অটোরিকশা, রিকশা সহ বিভিন্ন যানবাহন। ধীরগতিতে যান চলায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। গর্তে পড়ে দুর্ঘটনাও ঘটছে। সোনাখাল ব্রিজ থেকে নতুন হাছননগর মাদ্রাসা পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কটি যানবাহন চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে পথচারীরা আছেন ভোগান্তিতে। নতুন হাছননগর হয়ে আপ্তাবনগর সড়ক ধসে পড়ে যেতে পারে যেকোনো সময়। বিপদের আশঙ্কা নিয়ে পথচলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
তিন নম্বর ওয়ার্ডের জনগণের কাছ থেকে জানা যায়, সড়ক সংস্কার কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। যেহেতু বর্ষাকালে সংস্কার কাজে অস্বাভাবিক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় তাই এখনই সময় সড়ক সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করার ।
আপ্তাবনগরের রইছ মিয়া বলেন, আপ্তাবনগর এলাকার সড়কের পাশে মাটি নেই। যানচলাচল করলে ভয় লাগে। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছি। যানবাহন নিয়ে খালে পড়ার ঘটনাও ঘটছে।
গ্রামের মনিরা বেগম বলেন, পৌরসভার পানির নলকূপটি প্রায়ই অকেজো হয়ে পড়ে। এ কারণে কয়েক শ’ পরিবার বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত হয়। এলাকায় জনসাধারণের জন্য কোন বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা না থাকায় পানি নিয়ে বিপদে আছে মানুষ ।
মশিউর রহমান বলেন, নতুন হাছননগর মাদ্রাসা পয়েন্টের যে সড়কটি রয়েছে, সেই সড়কে আমাদের যাতায়াত করতে সমস্যা হয়। মানসম্পন্ন কাজ না হওয়ায় সড়কের পাথর ওঠে গেছে।
মো. বজলু মিয়া বলেন, সুনাখালী ব্রিজ থেকে মাদ্রাসা পয়েন্টে জরুরী ভাবে ড্রেন তৈরি করতে হবে। নতুন হাছননগরের কিছু বসত বাড়ি এখনো আছে, ওখানকার মানুষকে আমন জমি পারি দিয়ে পৌরসভার সড়কে আসতে হয়। নতুন হাছননগরের মাদ্রাসা পয়েন্টে ফুটপাতে দোকানপাঠ বসার কারণে এবং সড়কে জ্যাম লেগে থাকে । এলাকার কাউন্সিলর এসব সমস্যার দিকে একটু নজর দিলে ভাল হয়।
পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফজর নূর বলেন, কেজাউরায় দুইটি নতুন সড়ক করেছি। একটা ইট সলিং এবং আরেকটা মাটি দিয়ে। পূর্ব সুলতানপুরে একটা সড়ক, মহিলা মাদ্রাসা ও পাঠানবাড়ির দুইটি সড়কের কাজ হয়েছে।
তিনি বলেন, পশ্চিম সুলতানপুর, আপ্তাবনগর-পাঠানবাড়ি কবরস্থানের সড়কের কাজ শুরু হবে। এছাড়াও আরো যেসব সড়ক রয়েছে, আমি যদি সুস্থ থাকি অবশ্যই হয়ে যাবে। সোনাখালির ব্রিজ থেকে গুজাউরা পর্যন্ত ড্রেন করার পরিকল্পনা চলছে।
তিনি বলেন, আমাদের তিন নম্বর ওয়ার্ড একটু শহরের বাহিরে। এজন্য মানুষে আমাদেরকে পঞ্চগড় বলে। দ্রুত সড়কে মাটি ভরাটের চেষ্টা করছি। মাদ্রাসা পয়েন্টের সড়ক করেছিলাম গত বন্যায় ভেঙে গেছে। যতটুকু ভেংগেছে দ্রুত মেরামত করা হবে।
তিনি বলেন, যতটুকু সম্ভব হয় মানুষকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। দশের কাজ দশে মিলে করতে হয়। সড়কের পাশ থেকে মাটি তুলে নিয়ে যাওয়ায় আপ্তাব নগররের সড়ক ধসে গেছে। পানির সংকট আমার ওয়ার্ডে শুধু নয়, পুরো পৌরসভায় পানির সংকট রয়েছে। এলাকা বাল্য বিবাহমুক্ত।

  • [১]