স্টাফ রিপোর্টার
২০২১ সালে ৩৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় সুনামগঞ্জ জেলায় নিহত হয়েছেন ৩৭ জন। দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ১০ জনই শিশু। এদের বেশিরভাগই মারা গেছেন সিএনজি, বাস, মোটরসাইকেল, হ্যান্ডট্রলি, ট্রাক্টর চাপা এবং পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায়। সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলায়। এ উপজেলায় ৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩ জন। বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতায় ঘটেছে বেশিরভাগ দুর্ঘটনা।
১০ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের শান্তিগঞ্জ এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সোহেল মিয়া (৩২) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। ১২ জানুয়ারি দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের বদলপুর পয়েন্টের পাশে সিএনজি চাপায় এক শিশুর মৃত্যু হয়। ২০ জানুয়ারি শান্তিগঞ্জ থানা সংলগ্ন শান্তিগঞ্জ এলাকায় বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে আজিজুর রহমান (১০) নামের এক শিশু নিহত হয়। ১০ ফেব্রুয়ারি শান্তিগঞ্জের ডাবরে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ১ জন নিহত ও ২ জন গুরুতর আহত হয়। ১১ ফেব্রুয়ারি ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের তাজপুরে মোটরসাইকেল চাপায় রিয়া বেগম (৭) নামের এক স্কুল ছাত্রীর মৃত্যু হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি দিরাই রফিনগর ইউনিয়নের মাছিমপুর থেকে ইজিবাইকে দিরাইয়ে আসার পথে ইজিবাইকের চাকায় চাদর পেঁচিয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের কৃষ্টপুর গ্রামে হ্যান্ডট্রলির চাকায় পৃষ্ট হয়ে ৯ বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি শাল্লা উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের নিকটে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় একজন পথচারী নিহত হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি ও ২৬ ফেব্রুয়ারি মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের মহিষখলা বাজারে ও পার্শ্ববর্তী সড়কে অবৈধ হ্যান্ডট্রলি চাপায় এক শিশু ও এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর মৃত্যু হয়। ২৩ মার্চ সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের গোবিন্দগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় আবু বক্কর (২৮) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ৪ এপ্রিল শাল্লা উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের পাশে দিরাই-শাল্লা সড়কে ট্রাক্টর চাপায় বাদল দাস (৩৫) নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ৮ এপ্রিল জামালগঞ্জে উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের পূর্ব কালিপুর গ্রামে ট্রলির ধাক্কায় এক শিশু নিহত হয়। ২৭ এপ্রিল উপজেলার মধ্যনগরের পিপড়াকান্দা নামক এলাকায় রড বোঝাই ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে মানিক মিয়া নামের এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ২৯ এপ্রিল ধর্মপাশা উপজেলার চামরদানী ইউনিয়নের জলুষা গ্রামে ট্রাক্টর চাপায় রাহুল মিয়া নামের ৫ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ৪ জুন শান্তিগঞ্জ উপজেলার দিরাই-মদনপুর সড়কের গাগলী এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে পড়ে এক যাত্রী নিহত এবং আরও ২০ যাত্রী আহত হন। ২২ জুন সুনামগঞ্জ- সিলেট সড়কের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়কলস মোড়ে যাত্রীবাহী বাস পানিতে ডুবে একযাত্রী নিহত ও ১০ জন আহত হয়। ২৯ জুন ছাতক উপজেলার সিরাজগঞ্জ-কামারগাঁও সড়কের জাউয়াবাজার ইউনিয়নের কৈতক পয়েন্ট এলাকায় নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ব্যাটারী চালিত টমটম খাদে পড়ে চালকের মৃত্যু ঘটে। ১২ জুলাই জগন্নাথপুর জগন্নাথপুর-আউশকান্দি-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের সোনাতলা নামক স্থানে ইটের খোয়াভর্তি ট্রাক্টর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে চালকের মৃত্যু হয়। ১৬ জুলাই জগন্নাথপুরে দুর্ঘটনায় আহত পুলিশ কনস্টেবল চিকিৎসাধীন অবস্থায় জনি মিয়া (২৩) মারা যান। এর আগে ১৩ জুলাই মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়নের বাঘমারা ঠাকুর হাটি সংলগ্ন ব্রিজের পাশে বিজিবির গাড়ির ধাক্কায় যাত্রীসহ অটো গাড়ি সড়কের পাশের গর্তে পড়ে চালক নিহত হয়। ২০ সেপ্টেম্বর তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর বাজারের পশ্চিমের রাস্তায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মাসুক মিয়া (২৪) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। ২৫ সেপ্টেম্বর সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের সাথে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের রনি মিয়া, জনি মিয়া ও তোফাজ্জল নামের তিন ভাইয়ের মৃত্যু হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মানিগাঁও গ্রামের সামনের রাস্তায় হ্যান্ডট্রলির সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক চালক নিহত এবং সঙ্গে থাকা অপর এক আরোহী গুরুতর আহত হন। ১ অক্টোবর শান্তিগঞ্জ উপজেলার দামোধরতপী এলাকায় পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় পিষ্ট হয়ে হাফছা (৯) নামের এক শিশু নিহত হয়। ৭ অক্টোবর সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের আহসানমারা সেতুতে পিকআপ ভ্যানের নিচে চাপা পড়ে এক মোটর সাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়। ১০ অক্টোবর ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের হাসনাবাদ এলাকায় ট্রাক এবং সিএনজি ফোরস্ট্রোকের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ ২ ব্যক্তি নিহত এবং নারীসহ ৩ ব্যক্তি আহত হন। ১৩ অক্টোবর শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্বপাগলা ইউনিয়নের দামোধরতপী এলাকায় সিলেট -সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে ঢাকাগামী একটি বাসের সাথে মুখোমুখী সংঘর্ষে তিন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়। ২১ নভেম্বর চাচা-ভাতিজাসহ তিন বরযাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে বিয়ের আনন্দ ম্লান হয়ে যায়। সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের ডাবর পয়েন্ট থেকে পাগলা-জগন্নাথপুর সড়কে প্রবেশের সময় সড়কের উপর পার্কিংয়ে থাকা মালবাহী বিকল ট্রাকের পেছন ধাক্কা দেয় মাইক্রোবাস। এসময় মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। গাড়ীর ছাদ উড়ে সড়কের পাশে পড়ে যায়। মাইক্রোবাসে থাকা ১১ যাত্রী গুরুতর আহত হন। ৪ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ভৈষাপাড় গ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক শিশুর ৫ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ।
এছাড়াও ১০ মার্চ দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাগলা বাজার সংলগ্ন ডাবর পয়েন্টে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে পড়ে কমপক্ষে ১৫ জন, ২১ আগস্ট শান্তিগঞ্জ উপজেলার গাগলী-দেবের গ্রাম পয়েন্টে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ১০ জন এবং ১৯ সেপ্টেম্বর দিরাই-মদনপুর সড়কের দেবগ্রাম এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহি বাস খাদে পড়ে ৩০ জন আহত হন।