স্টাফ রিপোর্টার
চলতি বছর সুনামগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৭টি। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা সর্বোচ্চ ৪টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও ছাতকে ৩টি, শান্তিগঞ্জে ৩টি, জগন্নাথপুরে ২টি, দিরাই ২টি, দোয়ারায় ১টি, তাহিরপুরে ১টি, ধর্মপাশায় ১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত মৃত্যু নিহত হয়েছে ১৪ জন এবং আহত হয়েছেন ৮ জন।
এক নজরে চলতি বছর ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনা-
বছরের শুরুতেই ২ জানুয়ারি জগন্নাথপুরে ট্রলি-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়। ঐদিন সকাল ৭টার দিকে উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের আলীগঞ্জ বাজার সংলগ্ন ঢাকা-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের উমরপুর গ্রামের অটোরিকশা চালক শুভ মিয়া (২৫) ও জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের এরালিয়া গ্রামের আমির হোসেন (৫০)।
৮ জানুয়ারি জগন্নাথপুরে চলন্ত ট্রলিতে উঠতে গিয়ে নিহত হয় স্কুলছাত্র মুজ্জামেল হক (১১)। বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের জগদীশপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
২৫ জানুয়ারি দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর রাবারড্যাম সড়কে ট্রলি ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রলি চালক লুকু মিয়া (৪২) নিহত হয়।
৩০ জানুয়ারি তাহিরপুরের বাদাঘাট ইউনিয়নের বলদার হাওরপাড়ে ধরুন গ্রামে ট্রাক চাপায় শিশু রাহাত মিয়া (৭) নামের নিহত হয়।
৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টায় শান্তিগঞ্জের পাগলায় মাইক্রোবাস (হাইয়েস)-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে দিরাই উপজেলার চান্দপুর গ্রামের সিএনজি চালক জ্যোতিষ চন্দ্র দাশ (৪০) নিহত হন।
১০ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে ট্রাক চাপায় রাসেল (২০) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। দ্রুত গতির একটি মাল বোঝাই ট্রাক ঐ মোটরসাইকেল আরোহীকে চাপা দেয়। নিহত রাসেল বিশ্বম্ভপুর উপজেলার সুলকাবাদ ইউনিয়নের ভাদেরটেক গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে।
৩ মার্চ দুপুরে দিরাই উপজেলায় সিলেটগামী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে শিশুসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।
১৬ এপ্রিল ছাতকের সড়ক দুর্ঘটনায় আব্দুস শহিদ (৪৪) নামের এক পিকআপ চালক নিহত এবং আরও ২ ব্যক্তি আহত হয়। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের ছাতকের বোকারভাঙ্গা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
১৮ এপ্রিল ছাতকের শহরের মন্ডলীভোগ এলাকার সুজন চৌধুরী সড়কে ট্রাকের ধাক্কায় শাহীন মিয়া (১৮) নামের শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
১৬ এপ্রিল সকালে পৌর শহরের নতুন বাসস্টেশন এলাকায় নীলাদ্রী পরিবহন একটি বাস ও একটি লোকাল বাসের মধ্যে সংঘর্ষে অসীম দেবনাথ (৩০) নিহত হন। তিনি জগন্নাথপুর উপজেলা ভবানীপুর গ্রামের সর্বা দাসের ছেলে। আহত ব্যক্তির নাম আলমগীর (৩৭)। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানার সাদিপুর গ্রামের মহসিন মিয়ার ছেলে।
৪ মে রাত সাড়ে ১১টায় শান্তিগঞ্জের পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের নবীনগর গ্রামের সামনে ঢাকাগামী বাসের ধাক্কায় পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের চিকারকান্দি গ্রামের ফাহিম উদ্দিন (৩২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়।
৭ মে সুনামগঞ্জ সিলেটের আঞ্চলিক মহাসড়কের জানিগাঁও এলাকায় সিএনজি অটোরিক্সা উল্টে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন কবি, প্রাবন্ধিক এবং সুনামগঞ্জ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (অবসরপ্রাপ্ত) সাবেক কর্মকর্তা কুমার সৌরভ।
৭ জুন শান্তিগঞ্জের নোয়াখালী বাজারের নিকটস্থ ইমামনগরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ জন আহত হয়।
২৮ জুন ভোরে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শিশু তাছমিন বেগম (৪) মৃত্যু হয়। এর আগে ২৭ জুন দুপুরে সুনামগঞ্জ থেকে সিএনজি যোগে নিজ বাড়ি সদর উপজেলার কাঠইর ইউনিয়নের নারাইণপুর যাওয়ার পথে সিএনজিটি উল্টে গিয়ে মা ও শিশু কন্যা আহত হয়।
২৭ সেপ্টেম্বর ধর্মপাশায় ইজিবাইক উল্টে সদর ইউনিয়নের হলিদাকান্দা পূর্বপাড়া গ্রামের বশির মিয়া (৫০) নামের এক চালকের মৃত্যু হয়েছে। সকাল আটটার দিকে একই ইউনিয়নের মেউহারী গ্রাম সংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
২ নভেম্বর দিরাইয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় বিশ্ব (৪৫) আহত হন।
২৭ নভেম্বর ছাতকে সড়ক দুর্ঘটনায় আব্দুস ছালামের (৩০) মৃত্যু হয়। ঘটনায় আহত হয় এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছাদিক মিয়া (১৮)। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের বোকারভাঙ্গা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এদিকে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের এবং আহত হয়েছেন ৫ জন। আজহ ও নিহতদের সকলেই কৃষক ও জেলে। ১৩ মে বজ্রপাতে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের কাড়ারাই গ্রামে কৃষক আব্দুস সোবহানের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হন আরও ২ কৃষক। ১৮ মে ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের কৃষক মতিউর রহমানের মৃত্যু হয়। ৫ জুন শাল্লা উপজেলার চাকুয়া গ্রামের কৃষক রাধিকা চন্দ্র দাস, ৪ জুলাই ধর্মপাশার কাইঞ্জার হাওরে মানিক মিয়া ও নিয়াশা ওরফে নুরুজ্জামান নামের দুই জেলে, ২৮ জুলাই ছাতকে কৃষক জইন উদ্দিন, ৩১ জুলাই তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরি ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে শামীম জমাদ্দারের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত জন আরও ১ জন। ২৮ আগস্ট শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের সদরপুর পশ্চিম পাড় (গাঙেরহাটি) গ্রামের কৃষক বাবুল চন্দ্র দেব, ৩০ আগস্ট ধর্মপাশার শালদিঘা হাওরে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে পাইকুরাটি ইউনিয়নের বেকুইজুড়া গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে খোকন মিয়া (৪৪) ও জিলন মিয়া (৩২) এবং ২ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জের খরচার হাওরে গৌরারং ইউনিয়নের উজান শাফেলা গ্রামের ফজর আলীর মৃত্যু হয়। এঘটনায় আহত হন আরও ২ জন।