বিশেষ প্রতিনিধি
সড়ক নয় যেন মৃত্যুকূপ। গাড়ি উল্টে খাদে পড়ে প্রাণহানী ঘটছে প্রায়ই। সড়কের পাকা অংশের পরে মাটি না থাকায় (রোড সোল্ডার না থাকায়) সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের ১০ টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গত তিন দিনে ৪ ব্যক্তির প্রাণহানী এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন। দুটি দুর্ঘটনাই ঘটেছে সড়কের পাশে মাটি না থাকায় গাড়ি উল্টে খাদে পড়ে।
চালকরা বলছেন, ‘গাড়ি চালানোর সময় বা ক্রসিংয়ের সময় একটু অসতর্ক থাকলেই এসব পয়েন্টে গাড়ি উল্টে প্রাণহানীর আশংকা রয়েছে’।
শুক্রবার বেলা ১১ টায় সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের তাজপুর এলাকায় বাস উল্টে খাদে পড়ে ২ পথচারী নিহত এবং ১০ যাত্রী আহত হয়েছেন। এর আগে বুধবার রাতে ছাতকের জাতুয়ায় দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত হয়েছে এবং ৩ জন আহত হয়েছে।
বাস চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের হালুয়ারগাঁও, বাহাদরপুর, জানিগাঁও, নীলপুর, গোন্দিপুর, আহসানমারা, জয়কলস, শান্তিগঞ্জ, পাগলবাজার (বাজার পাড় হয়ে), জান্দরটুপি, বাউরকাপন, কারাই থেকে জাতুয়া, ভোকারভাঙা ও বদিরগাঁও হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার সড়কের পাশে মাটি নেই। এসব এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের ১৮ ফুট পাকা অংশের পরে একেবারেই মাটি নেই। সড়ক থেকে ১ থেকে ২ ফুট নিচু স্থানেও রয়েছে মাটি। এসব এলাকায় গাড়ি চালানোর সময় সামান্য অসতর্ক হলেই দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে।
সড়কের অনেক অংশে কোন ভাবেই দুটি বড় গাড়ী ক্রস করতে পারছে না। সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের ৪৬ কিলোমিটার প্রশস্তকরণের জন্য দুই বার দরপত্র আহ্বান করলেও কর্তৃপক্ষ দুই বারই বাতিল করে দেন। সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে পূনরায় দরপত্র আহ্বানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের সিলেট বিভাগের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী চন্দন কুমার বসাক সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের অনেকস্থানে সোল্ডার একেবারেই নেই স্বীকার করে বলেন, ‘১৮ ফুট সড়ককে ২৪ ফুটে উন্নীতকরণ এবং সড়কের দুই দিকে ৩ ফুট মাটির সোল্ডার করার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল, এই দরপত্র বাতিল করে আরেকবার দরপত্র আহ্বানের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এই অবস্থায় সড়কের সোল্ডারে মাটি ফেলার জন্য দরপত্র আহ্বান করা যাবে না। তবে বৃষ্টির মৌসুম শেষে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে মাটি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’