স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
তাহিরপুরে হঠাৎ পাহাড়ি ঢলের পানিতে যাদুকাটা, বৌলাই, রক্তি, পাটলাই ও পইকরতলা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ৩ দিনে ভারতের মেঘালয় পাহাড়ে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে মঙ্গলবার হঠাৎ দুপুরে নদীর পানি বৃদ্ধি পায়। অনেকেরই নদীর তীরে শুকনো স্থানে উঠানো নৌকা ঢলের পানিতে ভেসে যায়। অপরদিকে নদী পারাপারে বাঁশের সেতু ¯্রােতের পানিতে ভেঙে গেছে। এমতাবস্থায় সেতুর বাঁশ উঠানোর জন্য তারা প্রাণপণে চেষ্টা চালাচ্ছেন।
শ্রীপুর গ্রামের নৌকা চালক তোফাজ্জল মিয়া জানান, বৌলাই নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় তার নৌকাটি নদীর শুকনো চরে অবস্থান করছিল। হঠাৎ করে পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নৌকাটি পানিতে ভেসে অনেক দূরে চলে যায়। অনেক কষ্ট করে স্রোতের বিপরীতে নৌকাটি বেয়ে ঘাটে নিয়ে আসেন।
রতনশ্রী গ্রামের রেফাজুল জানান, মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ বৌলাই নদীর উপর লোকজন পারাপারের জন্য বাঁশের সেতু ঢলের পানিতে ভেঙে নিয়ে যায়। এমতাবস্থায় তারা অনেক কষ্ট করে কিছু বাঁশ উঠিয়েছেন। অধিকাংশ বাঁশই ঢলের পানির তোড়ে নিয়ে যায়।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য তুজাম্মিল হক নাসরুম বলেন, বৌলাই নদীতে পানি আসায় তাহিরপুর বাজারে নৌপথে মালামাল পরিবহনে অনেক সুবিধা হয়েছে। তবে ক্রমাগত নদীর পানি বাড়তে থাকলে উপজেলার বিভিন্ন ফসলরক্ষা বাঁধগুলো হুমকির মুখে পড়বে।
পাটলাই নদী পাড়ের বাসিন্দা সুলেমানপুর গ্রামের হাবুল মিয়া বলেন, পাটলাই নদীর পানি প্রচুর পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সুলেমানপুর বাজারে খেয়া নৌকায় লোকজন পাড়াপাড়ে মাঝির অনেক কষ্ট হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোডের্র নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, পাহাড়ি নদীর উৎসমখি যাদুকাটায় এক মিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল মাঠকর্মীদের সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে যেন ফসল রক্ষা বাঁধে কোন ধরনের ক্ষতি না হয়।