আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
কী করে একজন নারীকে কেটে ছয় টুকরা করে হত্যার পরও অতি স্বাভাবিকভাবে সংঘটিত ক্রাইম স্পটের পাশেই ব্যবসা পরিচালনা করেছে খুনিরা তা ভেবে অবাক হতে হয়। ভয়—ডর কিংবা কোনো আতঙ্কের ছাপ ছিল না তাদের চেহারায়। এ যেন সিনেমা কিংবা নাটকের গল্পকে হার মানায়। এসব কথা এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জগন্নাথপুর পৌরশহরের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার ঔষধ কেনার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন এক সৌদিপ্রবাসীর স্ত্রী। পরদিন পৌরশহরের একটি তালাবদ্ধ ফার্মেসি থেকে ওই নারীর ছয় টুকরা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলার প্রধান আসামি ফার্মেসির মালিক জিতেশ চন্দ্র গোপ (৩০) সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকার অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পুলিশ। শনিবার সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডের কারণ। জড়িত তিনজনের মধ্যে জিতেশ ঘটনার পর পলাতক ছিল। তাকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকায় গ্রেপ্তার করে সিআইডি। অপর গ্রেপ্তারকৃত অনজিৎ গোপ ও অসীত এ দুজন বীভৎস এই হত্যাকাণ্ডের পরও স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছিল তাঁদের নিজ নিজ দোকানে।
রবিবার পৌরশহরের জগন্নাথপুর বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিহত নারীর মরদেহ উদ্ধারের সময় ফার্মেসির পাশেই নিজ মুদিদোকানে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন অনজিৎ গোপ। অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক ছিলেন তিনি। তাঁর মতো স্বাভাবিক ছিল পাশের দোকানের অরূপ ফার্মেসির মালিক অসীত গোপও। শুক্রবার রাতে দুইজনকে সিআইডি পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। হত্যাকাণ্ডে এ দুজন জড়িত এখবর ছড়িয়ে পরলে হতবাক হয়ে যান ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা।
শহরের স্থানীয় এক ব্যক্তি জানালেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় ফার্মেসীর পাশেই মুদিদোকানে অনজিৎকে দেখেছি একদম স্বাভাবিক। জিতেশ ঘটনার রাতে সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর দোকান থেকে আলু কিনে নিয়ে গেছে বলে অনজিৎ জানায় আমাদেরকে। এ খুনের ঘটনায় অনজিৎও জড়িত শুনে হতবাক আমি। কী করে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত থেকে মানুষ অতি স্বাভাবিক থাকতে পারে।
গোবিন্দ নামের এক ব্যবসায়ী জানালেন, লাশ উদ্ধারের সময় অসীতও তাঁর ঔষধের দোকানে স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল। একটি বীভৎস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে এতো স্বাভাবিক থাকতে পারে এটা ভাবতে যেন বিশ্বাসই হচ্ছে না। এমন ঘটনায় সিনেমাকেও হার মানায়।
জগন্নাথপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহির উদ্দিন জানান, লোমর্হষক এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফাঁসি দাবি করছি।