- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষিত-হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধ হচ্ছে না

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ শহর ও শহরতলীর লোকদের বিরক্ত করছে বিভিন্ন যানবাহনে ব্যবহৃত উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী হাইড্রোলিক হর্ন। যাত্রীবাহি বাস, ট্রাক, পিক-আপ, লেগুনা থেকে শুরু করে মোটরসাইকেলে পর্যন্ত এই হর্ন ব্যবহৃত হচ্ছে।
পাশাপাশি উঠতি বয়সের কিছু যুবক নিজেদেরকে হিরো প্রমাণের জন্য মোটরসাইকেলের সাইলেন্সার (ধুয়া ও শব্দ নিয়ন্ত্রণকারী কভার) খোলে উচ্চ শব্দ তৈরি করে বেপরোয়া গতিতে শহরে ঘুরাফেরা করে।
হাইড্রোলিক হর্ন বাজানোর ব্যাপারে হাইকোর্টের নির্দেশনাও জানা নেই অনেকের। এটি বন্ধের জোরালো উদ্যোগ নেই সুনামগঞ্জে।
জানা যায়, যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে নির্দেশনা চেয়ে চলতি বছরের ২২ আগস্ট হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) এ রিট করে। ওই রিটে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার বন্ধে পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
এ ছাড়া রুল জারির পাশাপাশি বাজারে থাকা সব হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করে চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে পুলিশ প্রধান, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি (হাইওয়ে), যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) এবং বিআরটিএর চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়। গাড়ির মালিকদের ১৫ দিনের মধ্যে কাছের থানায় হর্ন জমা দিতে হাইকোর্ট নির্দেশ দেন। আর পুলিশ কর্তৃপক্ষকে জমা হওয়া হাইড্রোলিক হর্নগুলো ধ্বংসের জন্য বলা হয়। এ নির্দেশনা রাজধানীসহ সারাদেশের সব যানবাহনের জন্য প্রযোজ্য বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।
হাইকোর্টের রায়ের পরও সুনামগঞ্জে ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশের জোরালো  
তৎপরতা দেখা য়ায় নি। শহরে হর্নের যন্ত্রণায় রাস্তার পাশের দোকাটপাট ও বাসা-বাড়িতে বসাও দায় হয়ে পড়েছে।
শহরের হাছননগরের বাসিন্দা সমাজকর্মী মুজাহিদুল ইসলাম মজনু বলেন,‘শহরে ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলে উচ্চ মাত্রার হর্ন বাজানোর মাধ্যমে প্রতিনিয়তই শব্দ দূষণ হচ্ছে। শান্তিপ্রিয় শহরবাসী এখন এসব যানবাহনের মাত্রাতিরিক্ত হর্নের শব্দে অতীষ্ট। এসব রোধে আইনশৃংখলা বাহিনীর তৎপরতা আগের মত চোখে পড়ে না।’
ওয়েজখালীর বাসিন্দা বাবুল মিয়া জানান, কোন কারণে একটু জটলা হলেই তীব্র হর্ন বাজানোর প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এতে কার কি সমস্যা হলো তা বুঝার ও জানার প্রয়োজন মনে করেন চালকরা। এসব রোধে সংশ্লিষ্ট আইনশৃংখলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো প্রয়োজন।’  
উকিলপাড়ার বাসিন্দা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা বলেন,‘ আমার বাসা প্রধান রাস্তা থেকে অন্তত একশ ফুট দূরে; কিন্তু রাস্তার গাড়ির হর্নের শব্দ আমার বসার জায়গা পর্যন্ত শুনা যায়। এতেই বুঝা যায় এই শব্দ কতটুকু ক্ষতিকর।’
মো. রফিক নামের অটো বিকশা চালকের কাছে উচ্চ শব্দের হর্ন লাগানোর বিষয়ে জানতে বলেন,‘সব ড্রাইভারই এই জাতীয় হর্ন লাগায়, আমিও লাগাইছি। সবাই যদি খুইল্লা ফালায় আমিও খুইল্লা নিমু।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) রাজধানীর এক জরিপ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শব্দের মাত্রা ‘মানমাত্রার’ চেয়ে দেড় থেকে দুইগুণ বেশি। এই শব্দদূষণ সৃষ্টিতে হাইড্রোলিক হর্ন যে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, হাইড্রোলিক হনের্র শব্দ ৯৫ ডেসিবল পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণত ৬০ ডিবি শব্দ সাময়িকভাবে একজন মানুষকে বধির করতে পারে এবং ১০০ ডিবি শব্দ সম্পূর্ণ বধিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
সুনামগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর সামছুল ইসলাম বলেন,‘ সুনামগঞ্জে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের সংখ্যা খুবই কম। যখনই আমাদের নজরে পড়ে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেই। আরও যদি কিছু থাকে তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ট্রাফিক পুলিশ এ ব্যাপারে সব সময় সচেষ্টা রয়েছে।’

  • [১]