- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

হাওরপাড়ের গল্প ২০১৭

অভিজিৎ চৌধুরী
বড় আশা করে গত শনিবার দুর্ব্বীণ শাহের গানের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার সব আশা হতাশায় পর্যবসিত হলো। আমার আশা পূর্ণতা পায়নি। যাক গে – নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে পরিবেশনা শুরু হলো। নৃত্যানুষ্ঠানটি খুব সুন্দর হয়েছে। কিন্তু নৃত্য শিল্পীদের পোশাক আশাকের সহিত গানের বিষয়বস্তু বা ভাবধারার সঙ্গতি দেখতে পেলাম না। কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত। সমবেত কন্ঠের গান খুব ভালো হয়েছে। ‘ক’ গ্রুপের প্রথম পুরস্কার প্রাপ্ত আল মোবিন যে গান গাইল-মোটামুটি বেসুরো হয়েছে। এক কথায় ভালো হয় নাই। তাকে যারা গান শেখায় তাদের উচিত তাকে বলে দেওয়া, গান শুনে দর্শকরা যদি হাততালি দেয় তাহলেই প্রকৃত গান হয়। এর জন্য ক্ষুদে শিল্পীদের গান থামিয়ে হাততালি দেন হাততালি দেন বলা উচিত নয়। এই বয়সে এতো হাততালির দিকে নজর না দিয়ে গানের দিকে      
নজর দিলে নিজের জীবনে হাততালি অনেক পাওয়া যাবে। সঞ্জিব চন্দ্র দাশ ও মাকসুদুর রহমান খুবই ভালো গান গেয়েছে। মাকসুদুর রহমান আমাদের নতুন প্রজন্মের শিল্পী হিসেবে জীবনে উন্নতি করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
এখন পর্যন্ত যতগুলো অনুষ্ঠান হলো তার কোনটিতেই দেশীয় যন্ত্রের প্রাধান্য দেখলাম না। লোক সংস্কৃতির উৎসবে দেশীয় বাদ্যযন্ত্র না থাকলে এটা বেমানান ঠেকে। অনুষ্ঠানের নামের সহিত মানানসই হয় না। শামীম আহমদের গান শুনলাম, সেও ভালো গেয়েছে। কোরিওগ্রাফি খুব উঁচু মানের হয়েছে। বাংলাদেশের যে কোন মানদ-ে এটা ভালো ভাবে উত্তীর্ণ হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। গানগুলি বাছাই করার বিষয়টি প্রশংসার যোগ্য। মেঘনা নামের যে মেয়েটির গান শুনলাম, তার গানটি হৃদয়কে ছুঁয়ে গিয়েছে।
আমার মনে হয় আগামীতে শিল্পী নির্বাচনের জন্য একটা বোর্ড গঠন করলে অনুষ্ঠানের মান আরো ভালো হবে। অনুষ্ঠানের ভেতর রিংকু রিংকু এই নাম বারবার উঠে এসেছে। যদিও রিংকু সাহের দেশীয় যন্ত্রের সাহায্যে গান গেয়েছেন তবু এটা উনি নামের সহিত সুবিচার করতে পারেননি। আমার জানামতে ছাতকে ও সুনামগঞ্জে অনেক ভালো ভালো শিল্পী আছে। তাদেরকে একটু ঘষে মেজে মঞ্চে তুললে তারা আরো সুন্দর গান গাইতে পারবে। এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা যদি আমাদের স্থানীয় শিল্পীদেরকে সঠিক যাচাইয়ের মাধ্যমে তুলে আনতে না পারি তাহলে এ আয়োজনের স্বার্থকতা আসবে না।
নব্বইয়ের দশকে তো উৎসবের পূর্বে প্রতিযোগিতা হতো এবং বিজয়ীদেরকে প্রথম পুরস্কার হিসেবে স্বর্ণপদক দেয়া হতো। প্রতিযোগিতার বিচারক সুনামগঞ্জের বাইরে থেকে আসতেন। প্রতিযোগিতার দিন থেকেই উৎসব শুরু হয়ে যেতো। উৎসবের এক সপ্তাহ পূর্বেই সুনামগঞ্জে সাজ সাজ রব উঠতো। প্রতিদিন রাতে শিল্পকলাতে স্থানীয় শিল্পীদের নির্বাচন করা হতো। এই অনুষ্ঠানেই শিল্পকলার ভেতরে বাহিরে লোকে লোকারণ্য হয়ে যেতো।
উৎসবের কয়েক মাস আগ থেকেই ঘরে ঘরে ওস্তাদদের দৌড় ঝাঁপ শুরু হয়ে যেতো। তখন একটা প্রাণের স্পর্শ পাওয়া যেতো। আর এখন দু’একটা গান শিখেই মঞ্চে উঠার জন্য ধরাধরি শুরু হয়ে যায়। এমন অবস্থা হয় যে আয়োজকদের কূল রাখি না মান রাখি। ভালো শিল্পীরা এখন অনুষ্ঠান থেকে ঝরে পড়ে যায়। সবশেষে এখন অশ্বডিম্ব প্রসব ছাড়া আর কিছুই থাকে না। শিল্পীদের মান ও আমাদের সংস্কৃতির উৎকর্ষ সাধন করতে হলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে নতুন পুরাতন সব শিল্পীদেরকে নিয়ে বসা দরকার বলে আমি মনে করি। এতেই পূর্ণতা আসবে। আমার বিশ্বাস।

  • [১]