অভিজিৎ চৌধুরী
২৯/১০/২০১৭ ঐদিন হাসন রাজার গানের অনুষ্ঠান ছিল। গান গাওয়ার জন্য আমিও উপস্থিত ছিলাম। গিয়ে শুনলাম পুরাতন শিল্পী হিসাবে দিগি¦জয় চৌধুরীও গান গাইবেন। কথা শুনে মনটা খুশিতে ভরে উঠলো। অনেক দিন পর দুইজন একই মঞ্চে গান করবো। অতীতে আমরা দুইজন একই সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় গান গেয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছি। যদিও আমি তার চেয়ে দু এক বছরের বড়। তবুও সে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। আমাদের মধ্যে গান গাওয়া নিয়ে একটা তীব্র প্রতিযোগিতা ছিল। কিন্তু কোন হিংসা বিদ্বেষ আমাদের মধ্যে ছিল না। এ নিয়ে অনেক মজার মজার গল্প হয়তো বলতে পারবো। পরে একদিন লিখব। ভেবেছিলাম গান নিয়ে আর লিখব না। লিখে কি হবে ? অবস্থার উন্নতি তো হচ্ছেই না, বরং অবনতি হচ্ছে। গতকাল গানের অনুষ্ঠানের শুরুতেই শব্দ যন্ত্রের বিদ্রোহের কারণে যে ঘটনাটা ঘটেছে তা দর্শক শ্রোতারাই স্বাক্ষী হয়ে রইলেন। পুরো অনুষ্ঠানের শুরুতেই পরিকল্পনার অভাব প্রকট হয়ে পরিলক্ষিত হয়েছে। এর বেশি আর কিছু লিখার নাই। নৃত্যানুষ্ঠান ও দলীয় সংগীত খুবই ভালো হয়েছে। ‘ক’ ‘খ’ ও ‘গ’ এই তিন বিভাগের প্রথম স্থান অধিকারী শিল্পীদের গান ভালো হয়েছে। ‘ঘ’ বিভাগের প্রথম স্থান অধিকারীর কথা না লিখাই ভালো। ছোটদের মধ্যে ইলহাম রাজার গানও ভালো হয়েছে। এরমধ্যে ভবিষ্যৎ নিহিত আছে। তাকে সংগীতের লাইনে ধরে রাখতে পারলে হাসন রাজার গানের উৎকর্ষ সাধন হবে বলে বিশ্বাস করি। গত রবিবার রঞ্জন, অঞ্জন ও আমি ‘গ’ ও ‘ঘ’ বিভাগের হাসন রাজার গানের প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছি। প্রতিযোগিতায় সব উপজেলা থেকে শিল্পী পাঠানোর কথা থাকলেও অনেক উপজেলা থেকে শিল্পী এসেনি। মুখচেনা দু’একজন শিল্পী ছাড়া আমরা আর কোন ভালো শিল্পী খুঁজে পাইনি। যারা উপস্থিত ছিল তাদের মধ্যেও কোন উৎসাহ উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয় নাই। প্রতিদিন একই কথা অর্থাৎ হতাশার কথা লিখতে ভালো লাগে না। গতকাল আমিও শিল্পী হিসাবে গান গেয়েছি। কি গেয়েছি না গেয়েছি এটা শ্রোতা দর্শকরাই বলতে পারবেন। তবে দ্বিগি¦জয় চৌধুরী, দ্বিপায়ন চৌধুরী, মাকসুুর রহমান ও আরো দু একজন ভালা গান গেয়েছে। বাসায় বসে নাটক দেখেছি কিন্তু কথা শুনি নাই। পরে দর্শক শ্রোতাদেরকে জিজ্ঞেস করে জেনেছি যে নাটকটি খুব ভালো হয়েছে। আমি অনেককে জিজ্ঞেস করে দেখেছি যে, (স্বপ্না দে সহ) আগামীতে এরূপ কোন অনুষ্ঠান হলে কর্তৃপক্ষ যদি শিল্পীদের দিকে পরামর্শের জন্য হাত প্রসারিত করেন তবে তারা নিজেকে উজার করে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসবেন।