বিশ্বজিত রায়, জামালগঞ্জ
হাওরের জনপদ জামালগঞ্জে সবেমাত্র বৈশাখী ফসল ঘরে তোলার কাজ শেষ হয়েছে। এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানের দামও অন্য বছরের চেয়ে বেশি পাচ্ছেন কৃষকরা। হাওরপাড়ে এই সময়ে রীতিমত উৎসবের আমেজ। ঠিক সেই মুহূর্তে এসেছে মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। তাই ফুরফুরে মেজাজে ঈদ কেনাকাটা সারছেন কৃষিজীবী মানুষেরা। করোনা ভীতি উপেক্ষা করে ধনি-গরিব সবাই ভিড়ছেন পোশাক-পরিচ্ছদের দোকানে। পছন্দের জিনিসটি কিনতে বিপনী বিতানসহ দোকানগুলোতেও ভিড়ে ঠাসা মানুষ। ক্রেতাদের তুষ্ট করতে দম ফেলার ফুরসত মিলছে না বিক্রেতাদের। দোকানে দোকানে উপচেপড়া ক্রেতাদের কাছে বিক্রির প্রাণান্তকর চেষ্টা বিক্রেতাদেরও।
ধান বিক্রির টাকায় আনন্দে বাজার চষে বেড়াচ্ছেন শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রায় সব বয়সী মানুষ। দরদাম করে যে যার সাধ্যমতে কিনে নিচ্ছেন পছন্দের বস্তুটি। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে হাটবাজার ক্রেতা-বিক্রেতাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ঈদ কেনাকাটা সারতে আসা লোকজনের মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশি।
হাওরভাটির বন্দর খ্যাত জামালগঞ্জের সাচনা বাজার ঘুরে দেখাগেছে বিক্রেতাদের দম ফেলার সময় নেই।
ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই খোশ মেজাজে আছেন। কেউ কেনাকাটা, কেউ বেচাবিক্রিতে মহাব্যস্ত। ফসল ও দাম দুটোই ভালো হওয়ায় কৃষক পরিবারগুলোর কেনাকাটায় বাড়তি আকাক্সক্ষা কাজ করছে। তাই এবারের ঈদ বাজার সরগরম হয়ে উঠেছে। যদিও ঈদ মানে নতুন কিছু কেনা, তবুও এবারের বাজারে ভিন্নমাত্রা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফসল ঘরে তোলার পরপরই ঈদ আসায় ক্রেতাসাধারণের মাঝে অন্যরকম আনন্দ দেখা দিয়েছে।
বাজার কেমন হচ্ছে- প্রশ্ন করতেই তৃপ্তির হাসি হেসে তুষ্টির কথাই জানান দিয়েছেন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাজারে আসা জামালগঞ্জের সাচনা বাজার ইউনিয়নের কুকড়াপশী গ্রামের উসমান গনি। তিনি বলেন, এইবার গৃহস্থী খুব ভালোই হইছে। তাই বাজার করতেও ভালো লাগতাছে। এবারের ঈদ আনন্দেই কাটব।
বাজার করতে আসা একই ইউনিয়নের সেরমস্তপুর গ্রামের আজির উদ্দিন জানিয়েছেন, এবারের বৈশাখী খুব ভালো হয়েছে। ধানের দাম ভালো হওয়ায় এবারকার ঈদের কেনাকাটায় কারও কৃপণতা নেই। সবাই মনের আনন্দেই কেনাকাটা করছেন। এই আনন্দের কাছে করোনা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না।
স্বামীর সাথে বাজারে আসা ভীমখালী ইউনিয়নের মামুদপুর গ্রামের মোমেনা আক্তার বলেন, ঈদ তো প্রতি বছরই আয়। তবে এবারের ঈদ মানুষ বাড়তি আনন্দে কাটাইব। কারণ সবার গোলা ধানে ভইরা গেছে। ঈদের বাজার-সদাই করতে সবাই মোটামুটি ভালা দামেই ধান বিক্রি করতাছে। সবকিছু মিলাইয়া ভালোই হইব।
সাচনা বাজারের আকাশ ফ্যাশনের মালিক সুব্রত সরকার বলেন, বাজারে মানুষের উপস্থিতি ভালো, বেচাবিক্রিও মোটামুটি ভালোই হচ্ছে। ভালোভাবে ফসল ঘরে উঠায় এ বছর মানুষের পকেটে টাকা আছে। কারণ দাম দিয়ে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ধান বিক্রি করতে পারতেছেন। তাই তাদের মনের দিকটা খুব ভালো। সবাই পরিবার-পরিজন নিয়ে বাজারে আসছেন। মনের আনন্দে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নিচ্ছেন। বেশ ভালোই লাগছে।
বাজারের মহসিন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন, একটা শ্রেণি আছে যারা সারা বছরই কমবেশি কেনাকাটা করে। এছাড়া নিম্ন মধ্যবিত্ত ও গরীব মানুষেরা নির্দিষ্ট উপলক্ষ ছাড়া বাজার-সদাই তেমন করেন না। এবার ফসল ভালোভাবে ঘরে উঠায় এই শ্রেণিটা অনেকটা আনন্দে ঈদ কেনাকাটা করছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর বাজারে স্বাভাবিকভাবেই ক্রেতাসাধারণের উপস্থিতি একটু বেশি। বেচাকেনা মোটামুটি ভালোই হচ্ছে।