- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

হাওরাঞ্চলকে দুর্গত ঘোষণার দাবি সুজনের

সু.খবর ডেস্ক
ক্ষতিগ্রস্ত হাওর এলাকাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা ও সেখানকার লোকজনকে জরুরি সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। সুজনের সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, হাওর এলাকার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। সরকারের একজন সচিব বলেছেন, কোনো এলাকার অর্ধেক মানুষ মারা না গেলে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা যাবে না, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, হাওর অঞ্চলের হাহাকারের কারণ যেমন প্রাকৃতিক, তেমন মানুষসৃষ্ট। যাদের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। এত বিপর্যয় ও ক্ষয়ক্ষতির পরেও কেন এ অঞ্চলকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা হলো না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, হাওর এলাকা ডুবে গিয়েছে, আগামী বৈশাখের আগে ওই এলাকা ভাসবে না। এই মৌসুমে আর ফসল ফলানোর সুযোগ নেই। কোনো সবজি ফলানোর সম্ভাবনাও নেই। সুতরাং এসব এলাকায় খাদ্য সরবরাহে সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হবে।
গবেষক ও কলাম লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, হাওরাঞ্চলের বিষয়টি একটি জাতীয় দুর্যোগ। এসব এলাকার মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিলেই হবে না, তাদের ঋণও মওকুফ করতে হবে। বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হাওর এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরেন সুজনের সহযোগী সমন্বয়কারী সানজিদা হক বিপাশা। তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনের আলোকে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর এলাকাগুলোকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা, কৃষকদের জরুরি সহায়তা ও পুনর্বাসন, বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত, দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া, দুর্নীতির অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত নিয়ে আসার পদক্ষেপ গ্রহণ করাসহ বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন। এ ছাড়া তিনি হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত, হাওরাঞ্চলে ফসল রক্ষা বাঁধকে যুগোপযোগী করা, বাঁধের ডিজাইনে পরিবর্তন আনা, শুকনো মৌসুমে হাওর এলাকার নদ-নদী, খাল-বিল ও হাওর খনন করাসহ স্থায়ী ও টেকসই সমাধান, স্বল্পমূল্যে খোলাবাজারে খাদ্যদ্রব্য বিক্রির ব্যবস্থা করার সুপারিশ করেন।

  • [১]