- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

হাওরাঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়ন থমকে গেছে

বিশেষ প্রতিনিধি
বালু পাথর কোয়ারি এবং করোনার কারণে ভারতের মেঘালয় থেকে পাথর আমদানী বন্ধসহ নানা কারণে ইট, বালু, পাথর, সিমেন্ট রডসহ সকল প্রকার নির্মাণ সামগ্রীর দাম অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যাওয়ায় হাওরাঞ্চলের জেলা সুনামগঞ্জে সরকারি বেসরকারি সকল পর্যায়ের অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ স্থবির হয়ে গেছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন বাসা বাড়ির কাজও অনেকেই বন্ধ রেখেছেন। সরকারি অনেক উন্নয়ন কাজও বন্ধ রেখেছেন ঠিকাদারেরা।
তিন মাস আগে সুনামগঞ্জের হবতপুর, জয়নগর, দুর্লভপুর, মোহনপুর, ইব্রাহিমপুর, বান্দেরবাজার, ব্রাহ্মণগাঁও, ফাজিলপুর, আনোয়ারপুর, অক্ষয়নগরসহ বালু পাথরের মজুত (স্ট্রক) এলাকায় ১২ থেকে ২০ টাকা ফুটে বালু বিক্রি হয়েছে। এখন বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা ফুটে।
সিলেটের ভোলাগঞ্জ, সুনামগঞ্জের বড়ছড়া, বাগলি, চারাগাঁও, ইব্রাহিমপুর লালপুর-ফাজিলপুরে এলসির পাথর এবং স্থানীয় কোয়ারি থেকে উত্তোলন করা পাথর বিক্রি হয়েছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা ফুটে। এখন এসব এলাকায় পাথর পাওয়াই যাচ্ছে না। কিছু ব্যবসায়ীর কাছে সামান্য পরিমানে থাকা পাথর বিক্রয় হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা ফুটে।
৩ মাস আগে রডের টন ছিল ৫৬ থেকে ৫৮ হাজার টাকা। এখন বেড়ে হয়েছে ৭২ থেকে ৭৫ হাজার টাকা। ইট বিক্রয় হয়েছে প্রতি হাজার ৮৫০০ থেকে ৯০০০ টাকা। এখন বেড়ে ১০ হাজার থেকে সাড়ে ১০ হাজার টাকা হয়েছে। একইভাবে সিমেন্ট ছিল ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা, গত কয়েক দিনে সিমেন্টের দাম প্রতি বস্তায় বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা।
বালু, পাথর, রড-সিমেন্টের ব্যবসায়ী ওয়েজখালীর সাগর এন্টার প্রাইজের মালিক সুজিত দেব বললেন, মহাল থেকে উত্তোলন বন্ধ থাকায় স্থানীয় বালু পাথরের দাম বেড়ে গেছে। পাথর পাওয়াই যাচ্ছে না। বালু স্টক থাকায় কেউ কেউ বেশি দামে বিক্রয় করছেন। করোনার কারণে ভারতের মেঘালয়ের লাইম স্টোন আমদানী বন্ধ হয়ে পড়ায় এলসির পাথরও পাওয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে নির্মাণ সামগ্রীর কারণে ব্যক্তিমালিকানাধীন বাড়ি-ঘরের কাজ বেশির ভাগ মালিকরা বন্ধ রেখেছেন। সরকারি কাজও করছেন না ঠিকাদাররা। আমাদের ব্যবসায়ও মন্দাভাব।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাছুম কনস্ট্রাকসনের প্রোপাইটার ফখরুল ইসলাম মাছুম বললেন, কেবল ইট, বালু, পাথর, সিমেন্ট নয়, অন্যান্য সামগ্রীরও অস্বাভাবিকভাবে দাম বেড়েছে। সি-িকেট করে দাম আরও বেশি বাড়িয়ে দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
তিনি জানালেন, তিন মাস আগেও টিউবওয়েলের দেড় ইঞ্চি পাইপের দাম (১৫ ফুট) ছিল ২৩৯ টাকা, এখন সেটি ৪৩১ টাকা। প্রত্যেক আইটেমের এভাবে করোনার অজুহাতে দাম বাড়ানো হয়েছে। যারা কাজ পেয়েছে, তাদের গলায় যেন কাটা লেগেছে, ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা।
তাহিরপুর আমদানী কারক সমিতির সদস্য সচিব রাজেশ তালুকদার বললেন,‘সিলেটের ভোলাগঞ্জ, জাফলং, রাতারগুল, সুনামগঞ্জের ধোপাজান, ফাজিলপুরসহ সকল পাথর মহালে উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। মেঘালয় থেকেও লাইমস্টোন আমদানী বন্ধ রয়েছে। আমদানী চালু অবস্থায় প্রতি টন লাইমস্টোন ২৮০০ টাকা বিক্রি হয়েছে, এখন বিক্রয় হচ্ছে ৩২০০ থেকে ৩৩০০ টাকায়।
সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম বললেন, নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন আমরা। এডিবি বাস্তবায়নের লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হয়ে গেছে। ৬ মাস আগে যে দরে ঠিকাদার চুক্তি করেছেন, এখন তার চেয়ে বাজার দর বেশি। এ কারণে কাজ আদায় করাও কঠিন হয়ে ওঠেছে।

  • [১]