- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

হাওরাঞ্চলে নতুন সংকট- বাতাসে অসহনীয় দুর্গন্ধ

বিন্দু তালুকদার
হাওরাঞ্চলে নতুন নতুন সংকটে উদ্বিগ্ন মানুষ। লাগাতার ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে চৈত্রের মাঝামাঝি সময়ে কোথাও বাঁধ ভেঙে, কোথাও বাঁধ না হওয়া অংশ দিয়ে পানি ঢুকে শীষ বের না হওয়া ধান ডুবেছে। এরপর এক নাগারে কয়েকদিন রোদে (খড়া) হাওরের ধান পঁচেছে। বুধবার সকাল থেকে ঝড়ো হাওয়া এবং সঙ্গে সামান্য বৃষ্টি হওয়ায় হাওরপাড়ের জনবসতি এমনকি সুনামগঞ্জ শহরের বাতাসে অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বুধবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত বাতাস ও কনকনে বৃষ্টির মধ্যে যাদেরকে শহরের রাস্তায় দেখা গেছে তাদের অনেককেই নাকে হাত দিয়ে হাঁটতে দেখা গেছে।
সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়া, হাছননগর, বাধনপাড়া ও উকিলপাড়ার একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন হাওরের ধান পচা দুর্গন্ধ এমনভাবে বাতাসের সঙ্গে আসছে দরজা-জানালা লাগিয়েও থাকা যাচ্ছে না। চিকিৎসকরা বলেছেন,‘এই দুর্ঘন্ধযুক্ত বাতাসে মানুষ অসুস্থ হওয়ার আশংকা রয়েছে’।
খোঁজ নিয়ে জানা   
 গেছে, বাতাসে এমন দুর্গন্ধ সুনামগঞ্জ সদর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, ধর্মপাশা, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর দিরাই-শাল্লা ও জগন্নাথপুর উপজেলার সকল হাওরপাড়ের জনবসতিতে।  
জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ধনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. আতিকুর রহমান বলেন,‘হাওরের কাঁচা ধান পচা দুর্গন্ধ সারা জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। যে সমস্ত এলাকায় ধান ডুবেনি হাওরের পঁচা পানি নদীর পানির সাথে মিশে সেখানেও দুর্গন্ধ ছাড়াচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে স্কুল, হাট-বাজার ও বাসা-বাড়িতে টিকে থাকা কষ্ট হচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে আজ (বুধবার) স্কুল তাড়াতাড়ি ছুটি দেওয়া হয়েছে। ’
দিরাই উপজেলার তাড়ল গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান, ‘হাওরের ধান পচা দুর্গন্ধ সারা জনবসতিতে ছড়াচ্ছে।’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার মিনাবাজার এলাকার বাসিন্দা বাবুল মিয়া বলেন,‘জীবনেও ইলাখান দুর্যোগ দেখছিনা। ধানের পরে মাছ, অখন (এখন) গন্ধে ঘরে থাকা দায়।’
শাল্লা’র আনন্দপুরের বাসিন্দা পিসি দাস বলেন,‘সকাল থেকে হাওরাঞ্চলজুড়ে পূর্ব দিকে বাতাস হলে পূর্ব দিকের দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে হচ্ছে, পশ্চিমে বাতাস হলে পশ্চিমের দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে হচ্ছে, এরপরও টিকা যাচ্ছে না।’
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আশুতোশ দাস বলেন,‘হাওরে ধান পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে তবে বুধবার বিকাল পর্যন্ত কেউ একারণে অসুস্থ বা হাসপাতালে ভর্তি হয়নি। বাতাসে দুর্গন্ধের কারণে শ্বাসকষ্ট, পেটের পীড়াসহ নানা রোগ বালাই দেখা দিতে পারে, জনস্বাস্থ্য হুমকিতে পড়তে পারে। পঁচা দূষিত পানি শরীরে লাগলে নানা চর্ম রোগ দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সারা জেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে মেডিকেল টিম গঠন করে রাখা হয়েছে।’

  • [১]