বিশেষ প্রতিনিধি
খরায় দিশেহারা সুনামগঞ্জের আমনচাষীদের মধ্যে শনিবারের বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। তবে আমন চাষাবাদ নিশ্চিতে আগামী ১৫ দিনে আরও বৃষ্টি হওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। না হয় পানি সেচ দিয়ে চাষাবাদ করতে হবে। তাতে অনেক জমিতে চাষাবাদ নাও হতে পারে।
শনিবার সকাল থেকে দুই দফায় বিশ মিনিট থেকে কোথাও কোথাও আধাঘণ্টা স্বস্তির বৃষ্টি হয়েছে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে। বৃষ্টি পেয়ে আমনের রোয়া দিতে খেতে নামেন অনেক চাষী। কৃষকরা বললেন, এক নাগারে ২০ দিনেরও বেশি খরায় মাটি শুকিয়ে গরম হয়ে আছে, শনিবারের বৃষ্টিতে উত্তাপ কমেছে।
দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের নৈনগাঁও গ্রামের দেওয়ান আলী বললেন, দশ কেয়ার (তিন কেয়ারে এক একর) আমন খেতি (খেত) করার ইচ্ছা আছিল। নিজের তিন কেয়ার আর বাগি (বর্গা করা) কররাম সাত কেয়ার। এরমাঝে সাত কেয়ার রইছি , খরায় মাঝে মাঝে জ¦ইল্লা (আগুনে পুড়ার মতো) যারগি, সকালে মেঘ অওয়ায় (বৃষ্টি হওয়ায়) বাকি তিন কেয়ারও হাল বায়রাম (মাটি চাষ দেওয়া)। ইলা আরও দুই তিন দিন বৃষ্টি অইলে ভালা অইবো।
একই গ্রামের কৃষক রইছ উদ্দিন বললেন, খরায় আমনের রোয়া জলি গেছে। আজকে (শনিবার) মেঘ দেওয়ায় রোয়ার চেয়ারা (চেহারা) একটু ভালা দেখা যার।
বিশ^ম্ভরপুরের শক্তিয়ারখলার কৃষক কাজী জয়নাল মিয়া জানালেন, লাগাতার খরায় আমনের জালায় (চারা) পুকায় ধরেছিল। জমিতে রোপন করা রোয়া মরা শুরু হয়েছিল। বৃষ্টি দেওয়ায় আশা বাড়ছে। পোকা কিছুটা ছাড়বে। শনিবার সকালের বৃষ্টির পর অনেকে জমিতে আইল দিয়ে রেখেছেন। আরেকদিন বৃষ্টি হলেই জমি রোয়া দিতে পারবেন তারা।
একই গ্রামের আবু তালেব বললেন, মাটি শুকিয়ে কোথাও কোথাও ফাটল ধরেছিল। শনিবারের বৃষ্টিতে মাটি ভিজেছে। আরেকদিন বৃষ্টি দিলেই চারা রোপন করা যাবে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিধ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বললেন, আগস্ট মাসে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে যে পরিমাণ বৃষ্টি হবার কথা, তা থেকে ৬০ ভাগ কম হয়েছে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার রাতে সামান্য পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকালে এর চেয়ে একটু বেশি হয়েছে। রবিবার থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বৃষ্টি হবে, তবে পরিমাণে বেশি নয়। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেও বৃষ্টি থাকবে। তবে পরিমাণে কম।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বললেন, পরিমাণে কম হলেও শনিবারসহ গেল তিনদিনের বৃষ্টি আমন চাষে আশার সঞ্চার হয়েছে। তিনদিনে অনেক জমি চাষাবাদ হয়েছে। ৮১ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে ৬০ ভাগ জমি চাষাবাদ শেষ। ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জমি চাষাবাদ করা যাবে বলে জানান তিনি।