বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের হাওরে হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ টিকানোর যুদ্ধ চলছে। বাঁধে ফাটল, বুরুঙ্গা ও ধস ঠেকাতে লড়াই করছেন জেলা, উপজেলা প্রশাসনসহ হাওরপাড়ের কৃষকেরা। দিনের চেয়ে হাওরপাড়ে রাতে উৎকণ্ঠা বেশি, গত তিন দিন হয় দিনে আবহাওয়া ভালো থাকলেও রাত নয়টার পর ঝড়ো, হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। রোববার রাত নয়টায় দিরাইয়ের হুরামন্দিরা হাওরের বাঁধ ভাঙার পর এই উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে। হুরামন্দিরা হাওরের বাঁধ জনবল কম থাকায় ঠেকানো যায় নি বলেছেন উপজেলা দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
জামালগঞ্জের হালি হাওরের হেরাকান্দি বাঁধ, মহালিয়া হাওরের হিজলা গ্রাম সংলগ্ন বাঁধ ও পাগনা হাওরের বৌগলাখালি ক্লোজার ঝুঁকিতে থাকায় বাঁধ রক্ষায় কৃষকসহ সকলে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
মহালিয়া হাওরের ৭ ও ৮ নম্বর পিআইসি এবং হালি হাওরের আছানপুর গ্রামের উত্তর দিকের হেরাকান্দি বাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে। মহালিয়া হাওরের হিজলা গ্রামের পূর্বদিকের বাঁধের সুরঙ্গপথ চঁুইয়ে পানি ঢোকার গতি বৃদ্ধি পেতে থাকলে প্রশাসন ও কৃষকের ২৪ ঘন্টার (দিনরাত) জোর প্রচেষ্টায় সেটি রক্ষা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে ওখানে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। হালি হাওরের হেরাকান্দি বাঁধেও ফাটল দেখা দিয়েছে। অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ এই বাঁধ রক্ষায় এক্সেভেটর দিয়ে মাটি ফেলা হচ্ছে। তবে বাঁধের গোড়ায় ভলগেট দিয়ে বালু না ফেললে এই বাঁধ রক্ষা করা যাবে না বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। পাগনা হাওরের গজারিয়া অংশের স্লুইচ গেইটের কপাট পানির চাপে ভেঙ্গে গিয়ে হাওরে রোববার রাতে পানি ঢুকতে শুরু হয়েছিল। পরে উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয়দের চেষ্টায় প্রায় ৪ হাজার মাটির বস্তা ফেলে জলকপাট নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
হালি হাওরপাড়ের আছানপুর গ্রামের কৃষক মো. সাইদুল ইসলাম জানিয়েছেন, হালি হাওর রক্ষা করতে হলে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হাওরের ভেতরের অংশের হেরাকান্দি বাঁধঘেঁষা প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে যে গর্ত আছে সেগুলো ভরাট করা। বর্তমানে যে জায়গাটাতে মাটি ফেলা হচ্ছে, সেখানে জরুরী ভিত্তিতে ভলগেট দিয়ে বালু ফেলা প্রয়োজন।
এদিকে, দিরাইয়ের বোয়ালিয়া, তুফানখালি বাঁধে বুরুঙ্গা ঠেকানোর কাজ চলছে। শাল্লার ছায়ার হাওর উপ—প্রকল্পের ৮২ নম্বর বাঁধ এবং এবং বরাম হাওরের ২১—২২ নম্বর বাঁধেও ভাঙন ঠেকানোর কাজ চলছে।
হাওরের যে বাঁধগুলোতে ফাটল কিংবা ধস দেখা দিয়েছে সেগুলো আরও সতর্কতার সঙ্গে খেয়ালে রাখার দাবি জানিয়েছেন হাওরপাড়ের কৃষকেরা।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব বললেন, মহালিয়ার বিপজ্জনক অবস্থা ঠেকানোর চেষ্টা হচ্ছে। বাঁধে ছোট ছোট কিছু গর্ত আছে সেগুলো বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। হেরাকান্দি বাঁধেও কাজ চলছে। বলা যায় মহালিয়া হাওর এখন অনেকটা শঙ্কামুক্ত।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান মামুন বললেন, রাতে বাঁধে ফাটল বা ধস দেখা দিলে সমস্যা বেশি হয়। হুরামন্দিরা হওরের বাঁধে রাত নয়টায় ফাটল দেখা দিয়েছিল। ওইসময় ওখানে লোকজন কম ছিলেন। বেশি মানুষ থাকলে হয়তো বাঁধটি রক্ষা করা যেতো। মঙ্গলবার সকাল থেকে বোয়ালিয়া বাঁধে সংস্কার কাজ হয়েছে বলে জানান তিনি।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ জানিয়েছেন, বুধবার থেকে আবহায়া ভালোর দিকে যাবে। উজানে ও সুনামগঞ্জে বৃষ্টি কমে যাবে। বরাক উপত্যকায় ৮০ থেকে ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ায় সুনামগঞ্জ শঙ্কামুক্ত হতে পারে।