- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

হাওরের বাঁধ নির্মাণে ছিনিমিনি- গাফিলতির অবসান হোক

হোসেন তওফিক চৌধুরী
হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে যথাসময়ে সম্পন্ন না হওয়া যেনো এক ট্র্যাডিশনে পরিণত হয়েছে। চলতি মৌসুমে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের নির্ধারিত তারিখের আর দিন কয়েক বাকি। ১৫ই ডিসেম্বর কাজ শুরু হয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার চূড়ান্ত নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বাঁধ নির্মাণ কাজের অগ্রগতি দেখে মনে হয় না নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন হবে। এতে হাওর এলাকার সর্বত্র গভীর উদ্বেগ এবং আশংকা বিরাজ করছে। আশংকা সত্যে পরিণত হোক এটা কেউ কামনা করে না। বাঁধ নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনায় প্রত্যক্ষ করা গেছে আশংকাই সত্য হতে চলেছে এবং যদি এটা হয় তাহলে হাওর এলাকায় মহা সর্বনাশের ঘন্টা বাজবে। বাঁধ নির্মাণে অবহেলা, উদাসীনতা, দুর্নীতি এবং তদারকির গাফিলতিতে এ ধরনের আশংকার উদ্রেক হয়েছে। হাওর পাড়ের কৃষক নেতারা, কৃষক সংগঠন এবং হাওরের ফসল রক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দ সভা, সমাবেশ ও মানববন্ধন করে বাঁধের কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন করার তাগিদ দিলেও অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। কাজে ঢিমেতালা গতির অবসান হচ্ছে না। ফলে সর্বত্র হতাশা দেখা দিয়েছে। সুনামগঞ্জের ছোট বড় ১৩২টি হাওর রয়েছে। এ পর্যন্ত হাওরগুলোতে ৭৪৯টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে এ পর্যন্ত বাঁধের কাজের ৬২ শতাংশ কাজ শেষ। ইতোমধ্যেই পিআইসির লোকজন ৫০ ভাগ টাকা উত্তোলন করেছেন। অবশিষ্ট বিল উত্তোলনের তদবির ও পায়তারা অব্যাহত আছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে মোহালিয়া, শনির হাওর, হালির হাওর, বরাম হাওর, চন্দ্রসোনার থাল সহ কয়েকটি হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ পিছিয়ে রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব হাওরে বাঁধের কাজ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা কম। ইতোমধ্য্ইে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বিভিন্ন হাওরে প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেছেন। আশানুরূপ কাজ না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ ও উষ্মা প্রকাশ করে অবিলম্বে কাজ সমাপ্ত করার তাগিদ দিয়েছেন। তাঁর তাগিদের পর কি হয়েছে জানা যায়নি। বন্যার কবল থেকে হাওরের ফসল রক্ষার জন্য বাঁধ নির্মাণ হয়। কিন্তু সঠিক সময়ে যদি বাঁধ নির্মাণ না হয় তাহলে অকাল বন্যার কবল থেকে ফসল রক্ষার কোন উপায় নেই। প্রকৃতি কারো জন্য অপেক্ষা করবে না। যে কোন সময় প্রকৃতি বিরূপ হতে পারে। এমনিতেই হাওর নদী নালা ফি বছরের পলিমাটিতে ভরাট হয়ে গেছে। নদীর নব্যতা-গভীরতা হ্রাস পেয়েছে। হাওরের পানি নদী টানতে পারে না। তাই বাঁধ ভেঙে নদীর পানি হাওরে প্রবেশ করে হাড় ভাঙ্গা শ্রমের সোনার ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। এতে হাওরপাড়ের কৃষি অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়ে এবং জীবন যাত্রায় ঘোর অন্ধকার দেখা দেয়। এই আশংকা থেকে পরিত্রাণের জন্যই সঠিক সময়ে বাঁধ নির্মাণ একান্ত আবশ্যক। প্রতিবছরই বিভিন্ন ছুতায় বাঁধ নির্মাণে গাফিলতি ও দুর্নীতি হয়। এর কোন দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গৃহিত না হওয়ায় বারবারই একই অবস্থার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। এই অবস্থা কোন মতেই চলতে দেয়া যায় না। অবশ্যই প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে বাঁধ নির্মাণে কেউ ছিনিমিনি এবং গাফিলতি করতে না পারে সেজন্য কর্তপক্ষকে কঠিন-কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
লেখক : সিনিয়র আইনজীবী-কলামিষ্ট।

  • [১]