- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

হাওরের বাঁধ নির্মাণে সংশ্লিষ্টরা রোলমডেল তৈরি করুন

সময় শেষ করে একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে কাজ শেষ না করার জন্য অজুহাত দাঁড় করানো কখনই দক্ষ ব্যবস্থাপনার পরিচয় বহন করে না। অথচ এরকম একটি বিষয়ই সকলের সামনে আনলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়, জেলার ফসল রক্ষার জন্য এ বছর যে বাঁধগুলো সংস্কার/নির্মাণ করা হবে তার মধ্যে ছাতক ও জগন্নাথপুর উপজেলার ৫১টি প্রকল্প প্রস্তুত করাই সম্ভব হয় নি। জেলার বিভিন্ন হাওরে অনুন্নয়ন খাতের আওতায় এবার বাঁধ নির্মাণ/সংস্কারের জন্য ৬৬৬ টি প্রকল্প তৈরির পরিকল্পনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের। অন্য ৯ উপজেলা হতে ইতোমধ্যে ৬১৫টি প্রকল্প জেলায় চলে এলেও বর্ণিত দুই উপজেলার ৫১ টি প্রকল্প আসার বাকি রয়েছে। ফলে প্রকল্পগুলো চূড়ান্ত অনুমোদন ও এসব প্রকল্পের বিপরীতে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব ঢাকা পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি দুঃখজনক। বহু আলোচনা-সমালোচনার পর এবার যেখানে হাওরে বাঁধ নির্মাণের নীতিমালা পর্যন্ত পরিবর্তন করা হয়েছে সেখানে দুই উপজেলায় প্রকল্প তৈরির কাজে এই দীর্ঘসূত্রিতা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। পানি উন্নয়ন বোর্ড জনবল সংকটের বিষয়টিকে এই বিলম্বের জন্য কারণ হিসেবে সামনে আনছে। এখন যে জনবল সংকটের কথা বলা হচ্ছে সেটি আরও আগেই চিন্তা-ভাবনা করা উচিৎ ছিল কর্তৃপক্ষের। কিন্তু প্রশাসনিক সংস্কৃতির চিরাচরিত বৈশিষ্ট্য অনুসরণ করে এখানেও পূর্বরূপই দেখা গেল। কর্তৃপক্ষ অবশ্য আশা প্রকাশ করেছেন এই প্রকল্পগুলো শীঘ্রই তৈরি হয়ে যাবে। আমরা সেই ভরসায় আস্থা রাখতে চাই।
এবার হাওরের সকল বাঁধই পিআইসি’র মাধ্যমে করা হবে। পিআইসি গঠনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের মোটামোটি নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। কমিটি গঠনের জন্য তাঁদের কারোর মুখাপেক্ষী থাকতে হচ্ছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাচিবিক সহায়তা গ্রহণ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এই কমিটি গঠন করবেন। ৩০ নভেম্বর পিআইসি গঠনের সর্বশেষ তারিখ। কিন্তু সোমবার দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত আরেকটি সংবাদ থেকে জানা যায়, রবিবার পর্যন্ত জেলার কোথাও কোন পিআইসি গঠনের কাজ চূড়ান্ত হয় নি। শেষ তারিখের এক সপ্তাহ আগে পিআইসি গঠন না হওয়ার বিষয়টিও সমভাবে দুঃখজনক।
জেলা প্রশাসক সোমবার এক সভার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকলকে সময়মত প্রকল্প ও পিআইসি গঠনের কাজ শেষ করার জন্য কঠিন বার্তা প্রদান করেছেন। এবার নতুন নীতিমালা অনুসারে ভালভাবে বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ করতে হলে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে ভাল সমন্বয় থাকতে হবে। এই সমন্বয়ের জায়গায় কোন ধরনের ঘাটতি হলে শেষ পর্যন্ত কাজের অবস্থা লেজেগোবরে পরিণত হওয়ার আশংকা রয়েছে। যেহেতু জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসাররাই বাঁধের কাজের প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত সেহেতু প্রত্যেকটি ধাপের কাজ যাতে সময়মত শুরু করা সম্ভব হয় সে বিষয়ে অতিশয় সতর্ক থাকতে হবে তাঁদেরকে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের জন্য বিষয়টি নিজেদের অতীত ভাবমূর্তি থেকে বেরিয়ে আসার একটি সুবর্ণ সুযোগ। আর পুরো বিষয়টির সাথে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের প্রধানতম অর্থনৈতিক কর্মকা- বোরো ফসল নির্বিঘেœ গোলায় তোলা জড়িত। আমরা আশা করি হাওরের বাঁধ নির্মাণে সংশ্লিষ্টরা একটি রোলমডেল তৈরি করতে সক্ষম হবেন এবার।

  • [১]