আকরাম উদ্দিন
বিলম্বে হলেও গত সপ্তাহের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের হাওর জলাশয়ে কিছুটা পানি ঢুকেছে, বেড়েছে সুরমা নদীর পানিও। এই পানিতে মাছের পোনা বেশ বড় হয়েছে। জেলেদের জালে ধরা পড়ে দেশীয় মাছ আসতে শুরু করেছে বাজারে। সুনামগঞ্জে দেশীয় মাছের আকাল অনেকটা কমতে শুরু করেছে।
জুলাই মাসের শুরু থেকেই শহর ও শহরতলীর এবং বিভিন্ন উপজেলার হাট-বাজারে দেশীয় মাছ আসতে শুরু করেছে। জেলার সকল হাট বাজারে পুকুরের মাছ বিক্রির পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে দেশীয় মাছও। বিভিন্ন স্থানে সড়কের কিনারে দেশীয় মাছ বিক্রি হচ্ছে। দেশীয় মাছ কিনতে হাওর বা নদীরপাড়ে ক্রেতা সাধারণের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
রবিবার সকালে একাধিক মৎস্যজীবী জানান, গত সপ্তাহে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল নামায় নদীতে পানি বেড়েছে। হাওর বিলেও পানি ঢুকেছে। নতুন পানিতে দেশীয় মাছের পোনা বেশ বড় সড় হয়েছে।
শহরের বাজারে মাছ কিনতে আসা কামরান হোসেন বলেন, এ সপ্তাহে বাজারে অল্প পরিমাণে দেশীয় মাছ দেখা গেছে। কিনে নিয়েছি বিভিন্ন জাতের ছোট মাছ।
সদর উপজেলার মৎস্যজীবী রসরাজ বর্মন, আব্দুল কদ্দুছ, সুমন মিয়া ও আব্দুর রহিম জানান, এ সপ্তাহে বাজারে কিছু দেশীয় মাছ দেখা যাচ্ছে। এখন ধীরে ধীরে মাছের পোনা বড় হবে, ধরা দেবে মাছ শিকারীর জালে। এই মাছ বিক্রি হবে হাট বাজারে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মৎস্যজীবী আব্দুল গফফার, আব্দুল করিম, মজু বর্মন, সঞ্জিত বর্মন বলেন, হাওরে এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণে পাহাড়ি ঢল এসেছে। হাওর বিলে বেশ পানি ঢুকেছে। এবার মাছের পোনার বিভিন্ন স্থানে বিস্তৃতি ঘটেছে। এখন মাছের পোনা তাড়াতাড়ি বড় হবে।
জেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মো. আলাউর রহমান বলেন, গত সপ্তাহে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল এসেছে। মাছের পোনা অনেকটা বড় হয়েছে। কিন্তু মাছের পোনা আরও বড় হতে পোনা নিধন বন্ধ রাখতে হবে। নইলে এবার মাছের উৎপাদন আশানুরূপ হবে না।
সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সীমা রাণী বিশ্বাস বলেন, জলবায়ূ পরিবর্তনের কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বর্ষা দেরীতে শুরু হলেও গত সপ্তাহের ভারী বর্ষণে অনেকটা পানি বেড়েছে। এই কারণে দেশীয় মাছ শিকারীদের হাতে ধরা পড়ছে। তবে হাওর বা নদীতে মাছের পোনা রক্ষায় অভিযান অব্যাহত আছে।