- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

‘হাওরে অনিয়মের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নাই’

স্টাফ রিপোর্টার
হাওরে অনিয়মের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নাই। অনিয়ম ও সঠিক সময়ে কাজ না করায় গত ৩ বছরে ২২ জন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারকে কালো তালিকাভূক্ত করেছি আমরা। প্রকল্প প্রণয়নের ক্ষেত্রে ও প্রকল্প শেষ করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেই আমরা। এ বিষয়ে আমাদের শক্তিশালী একটি টাক্সফোর্সের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তারপরেও এখানে একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। আগামী রবিবারে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে একটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি করে দেবো। তদন্ত কমিটি সুনামগঞ্জে এসে সুষ্ঠু তদন্ত করবে। সেই তদন্ততে যদি হাওরের বাঁধের কাজে কোন সরকারি কর্মকর্তা কিংবা পিআইসির কেউ দুর্নীতিতে জড়িত থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ত্রাণের ব্যবস্থা করা হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম ধর্মপাশায় ভেঙে যাওয়া ডুবাইলের বাঁধ পরিদর্শন শেষে এই কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, পরবর্তীতে সুনামগঞ্জে নদী ও খাল খনন করে স্থায়ী বাঁধের কাজ করা হবে। আর বাঁধ স্থায়ী হলে আগাম বন্যা থেকে সুনামগঞ্জের হাওরের ফসল বাঁচবে। মন্ত্রী জানান, সুনামগঞ্জে এ বছর ৫৩০ কিলোমিটার বাঁধের কাজ করা হয়েছে। তার মধ্যে দেড়শ’ মিটার বাঁধের ক্ষতি হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ১ তারিখ থেকে ৬ তারিখ পর্যন্ত ১২শ’ ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বর্ষা আসলেই হাওরাঞ্চল, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ আতংকে থাকে।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা অনেক বেড়েছে। করোনার মাঝেও আমাদের বৈদেশিক রির্জাভ থেমে নেই। গত এক বছরেও আমাদের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৪ টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। আমরা সুনামগঞ্জ জেলার হাওরকে স্থায়ীভাবে রক্ষা করার চিন্তা করছি। স্থায়ী প্রকল্পের পরিকল্পনা করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। ২ টি প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা রয়েছে।
পর্যায়ক্রমে পুরো হাওর এলাকাকে আমরা স্থায়ী প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসবো। তাহলে স্থায়ীভাবে প্রতিবছর এখানের কৃষক হাসিমুখে ফসল ঘরে তুলতে পারবে। কৃষক শ্রমিকের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী কাজ করছেন। তিনি মানবতার নেত্রী। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কিং মুন তার সম্পর্কে বলেছেন, ‘দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমগ্র বিশে^ শিক্ষকের ভূমিকা পালন করছেন। করোনাকালে আপনারা দেখেছেন কিভাবে তিনি মোকাবেলা করেছেন। আমরা সুনামগঞ্জকে সবোর্চ গুরুত্ব দেই, এবং সেভাবেই কাজ করছি। আশা করছি হাওরাঞ্চলের মানুষ স্থায়ীভাবে সমাধান পেয়ে ঘরে ফসল তুলতে পারবে।
তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে সহযোগিতা করা হবে। সে অনুযায়ী কাজ চলছে। দুর্যোগ মন্ত্রণালয় তালিকা করছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সুনামগঞ্জ সিলেট সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শামীমা শাহরিয়ার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. ফজলুর রশিদ, পাউবোর উত্তর পূর্বাঞ্চল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এসএম শহীদুল ইসলাম, সিলেট সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রবীর কুমার গোস্বামী, জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।

  • [১]