- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

হাওরে কচুরিপানার জট

বিশেষ প্রতিনিধি
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার করচার হাওরের প্রায় ৩০০ হেক্টর বোরো জমিতে অতিরিক্ত কচুরিপানা জমে থাকায় চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এক কেয়ার জমি পরিস্কার করতে দুই থেকে তিন হাজার টাকা খরচ লাগায় অনেকে জমি পরিস্কার করা থেকে বিরত থাকছেন। স্থানীয় কৃষকদের দাবি কাবিখা, কাবিটা প্রকল্পের সহায়তায় কচুরিপানা পরিস্কার করে জৈব সার তৈরি করে ফসলি জমিতে দিলে উৎপাদন বাড়তো, কয়েক’শ প্রান্তিক কৃষকও উপকৃত হতো।
বিগত বর্ষা মৌসুমের শেষ সময়ে হাওরে পানি কম হওয়ায় জেলার অনেক হাওরেই কচুরিপানা আটকা পড়েছে। সবচেয়ে বেশি কচুরিপানা জমে আছে করচার হাওর পাড়ের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সদরের নিকটবর্তী অংশে। হাওরের প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে কচুরিপানা বড় হয়ে জমে থাকায় বেকায়দায় পড়েছেন কৃষকরা। কচুরিপানার কারণে জমির   চাষাবাদ খরচ দ্বিগুন বেড়ে যাবে। বোরো মৌসুমে চাষাবাদের অন্যান্য খরচ মেটানোর পাশাপাশি জমি পরিস্কার করা দরিদ্র কৃষকদের জন্য অসাধ্য হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ জমি পরিস্কার করতে না পারায় চাষাবাদের চিন্তাও বাদ দিয়ে দিয়েছেন।
করচার হাওর পাড়ের মুক্তিকলার কৃষক কদ্দুছ মিয়া বলেন,‘চাষাবাদের খরচ আগের চেয়ে বেড়েছে। জমিতে উৎপাদিত ফসলের মূল্য এবং উৎপাদন খরচে এমনিতেই অসামঞ্জস্য রয়েছে। এই অবস্থায় এবার জমিতে কচুরিপানা  যেভাবে লেগেছে, তা পরিস্কার করা কষ্টসাধ্য হবে। অনেকে হয়তো জমি পরিস্কারও করবেন না। চাষাবাদও করবেন না’।
হাওড় পাড়ের কৃষ্ণনগর গ্রামের কাজল বর্মণ, সুনিল বর্মণ ও এখলাছ মিয়া বলেন,‘প্রতি কেয়ার জমি পরিস্কার করতে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা খরচ লাগছে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক জাহেদুল হক কৃষি প্রণোদনার দেবার সুযোগ নেই জানিয়ে বলেন, কৃষকরাই এই কচুরিপানা পরিস্কার করে রাসায়নিক সারের বিকল্প জৈব সার প্রস্তুত করতে পারেন।

  • [১]