এনামুল হক, ধর্মপাশা
বাড়ি থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরত্বে হাওর। সেখান থেকে বৈশাখে বোরো ধান ঘরে তুলতে গিয়ে হাওরে যাতায়াতের সড়ক ও একটি খালের উপর সেতু না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় কৃষকদের। বৈশাখে বৈরি আবহাওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই কর্দমাক্ত হয়ে যায় হাওরে যাতায়াতের গোপাট (হাওরে যাতায়াতের নিচু সড়ক)। এ সময় হাওর থেকে হ্যান্ডট্রলি, গরু বা ঘোড়ার গাড়ি, ঠেলাগাড়িতে করে ধান পরিবহন করতে গিয়ে কৃষকেরা বিপাকে পড়েন। ধান পরিবহণের বাহন কাদায় দেবে গেলে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পরিবহণ খরচ বেশি হওয়ায় অনেক কৃষক হাওরেই কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হন। তাই দীর্ঘ বছর ধরে এসব ভোগান্তি থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য হাওরের গোপাট থেকে এলাকার প্রধান উঁচু সড়ক পর্যন্ত মাটি ভরাট করার দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় কৃষকেরা। কিন্তু তাঁদের এ দাবির আওয়াজ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কারও কানে যখন পৌঁছায়নি তখন এগিয়ে আসলেন আবুল কাশেম নামের এক ইউপি সদস্য। তিনি স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে এলাকার কৃষকদের সাথে পরামর্শ করে এলাকাবাসীকে নিয়ে নিজেরাই ওই গোপাট ও খালে মাটি ভরাটের কাজ করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। তাই তিনি এলাকায় মাইকিং করে স্বেচ্ছাশ্রমে মাটি ভরাটের কাজ করার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান। ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কাশেমের ডাকে সারা দিয়ে শতাধিক কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ বুধবার সকালে রুই-কাইল্যানী হাওরের গোপাট ও শয়তানখালী খালে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করেন।
ওই হাওরে সদর ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের ১০/১২টি গ্রামের পনের শতাধিক কৃষক বোরো ধান চাষ করেন। হলিদাকান্দা উত্তরপাড়া ব্রীজ থেকে শয়তানখালী খাল হয়ে রুই-কাইল্যানী হাওরের মির্জালীর গোপাট ও রবিরটুক পর্যন্ত হাওরে চলাচলের প্রায় তিন কিলোমিটার জায়গা নিচু থাকায় সহজেই পানি জমে যাতায়াতের দুর্ভোগ তৈরি হয়। ফলে বৈশাখে ধান কাটা শুরু হলেই ধান পরিবহণ নিয়ে স্থানীয় কৃষকেরা চিন্তিত হয়ে পড়েন। বুধবার সকাল ৮টা থেকে মাটি ভরাটের কাজ শুরু হলে সদর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী, অ্যাড. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী কামাল, সাবেক ইউপি সদস্য আবু সাঈদসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তা পরিদর্শন করেন।
অ্যাড. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী কামাল বলেন, ‘দীর্ঘ বছর ধরে এলাকার মানুষ একটি সেতু ও হাওর যাতায়াতের জন্য সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। দাবি পুরণ না হওয়ায় কৃষকেরা কম মূল্যে হাওরেই ধান বিক্রি করতে বাধ্য হন। তাই জনগণ আজ নিজ উদ্যোগে কাজে নেমেছেন। সেতু ও সড়ক নির্মাণ হলেই কৃষকেরা তাদের কষ্টার্জিত ফসল নির্বিঘেœ ঘরে তুলতে পারবে।’
স্থানীয় স্কুল শিক্ষক মোবারক হোসেন বলেন, ‘শয়তানখালী খালের ওপর সেতু না থাকায় হাওর থেকে ধান আনতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। তাই খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।’
ইউপি সদস্য আবুল কাশেম বলেন, ‘বিষয় নিয়ে প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিদের ধারে ধারে ঘুরেছি। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। তাই আমরা নিজেরাই এ কাজ শুরু করেছি। এখনও সরকারি সহযোগীতা পেলে কাজ দ্রুত শেষ করা যাবে।’
সদর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী বলেন, ‘স্বেচ্ছাশ্রমে যদি কাজটি না হয় তাহলে এ হাওরের লক্ষ লক্ষ মণ ধান কৃষকের ঘরে পৌঁছাবেনা। সরকারিভাবে হাওরের রাস্তা সংস্কার করা উচিত।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘স্থানীয়দের এমন উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। সরেজমিনে পরিদর্শন করে সহযোগীতার ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।’