- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

হাওরে পানি কমছে না

বিন্দু তালুকদার
পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে হাওরের বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনে বিলম্বের বিষয়টি দূর হচ্ছে না। কমিটি গঠনের নির্দিষ্ট সময়সীমা (৩০ নভেম্বর) পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ কমিটি গঠন এখনও চূড়ান্ত হয় নি।
একই সাথে পাউবোর কাবিটা নতুন নীতিমালা অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করার কথা থাকলেও হাওরের পানি না কমে উল্টো অসময়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় সময়মত বাঁধ না হওয়ার আশংকা করছেন কৃষক ও পাউবো কর্তৃপক্ষ।
পাাউবোর কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং জেলা কমিটির সদস্য সচিব সুনামগঞ্জ পাউবোর পওর বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুঁইয়া দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন, ‘হাওরের পানি নামতে দেরি হওয়ার কারণে কোন কাজই দ্রুত করা সম্ভব হচ্ছে না। ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত পিআইসি গঠনে সময়সীমা দেয়া হয়েছিল। পিআইসি গঠনের আগে হাওরের বাঁধগুলো পরিমাপ করতে হবে; কিন্তু হাওরের  পানি না কমায় পরিমাপ করা সম্ভব হচ্ছে না। গত দুই দিন ধরে উজান থেকে নেমে আসা নদীর পানি বিভিন্ন হাওরে ঢুকছে। ’
চূড়ান্তভাবে পিআইসি গঠন ও তালিকা না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ পাউবোর পওর বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহীনুজ্জামান।
পাউবো সূত্রে জানা যায়, গত বছরের তুলনায় সুরমা নদীতে দেড় ফুটের বেশি পানি রয়েছে। সিলেট থেকে নেমে আসা সুরমা নদীর পানি নদীর সুনামগঞ্জ অংশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বিভিন্ন হাওরে পানি ঢুকছে। সাগরে নি¤œচাপ ও কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতের কারণে মেঘনার মোহনায় পানি বৃদ্ধি রয়েছে। সুনামগঞ্জের  হাওরাঞ্চলের পানি প্রবাহের রাস্তা মেঘনা নদীর ভৈরব মোহনায় চার দিন আগে পানির স্তর ছিল ১.৮ মিটার। পানি বৃদ্ধি পেয়ে বুধবার পর্যন্ত পানির স্তর ছিল ২.৫ মিটারে। Untitled-1
গত তিন দিন সুরমা নদীর পানি প্রতিদিন ৫-১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পাচ্ছে। রবিবার সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ শহর এলাকায় ছিল ৩.৯৪ মিটারে; পানি বেড়ে বুধবার ৪.১৭ মিটারে প্রবাহিত হয়েছে। সুরমা নদীর পানির স্তর সিলেট অঞ্চলে রবিবার ছিল ৪.১৭ মিটার কিন্তু বুধবার ৫.৪৯ মিটারে প্রবাহিত হয়েছে। ভারতের আসামের বরাক বেসিনে গত কয়েকদিন বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ের পানি উজান থেকে নেমে সিলেট হয়ে সুনামগঞ্জের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জানা যায়, এবছর সুনামগঞ্জের ৩৬ টি বৃহৎসহ মোট ৫৪টি হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় উন্নয়ন প্রকল্পে ৩৭২টি ও অনুন্নয়ন প্রকল্পে ৭১৬টিসহ মোট ১০৮৮ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। ১০৮৮টি প্রকল্প বাস্তবায়নে ১০৮৮ টি পিআইসি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
জমির পাশের প্রকৃত কৃষকদের দিয়ে ৫-৭ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিটি পিআইসি গঠনের জন্য সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পাউবোর স্থানীয় শাখা কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে গতকাল বুধবার দুপুর পর্যন্ত জেলার ১১ উপজেলা থেকেই চূড়ান্ত পিআইসির তালিকা পায়নি পাউবোর সুনামগঞ্জ জেলা অফিস।
পিআইসি গঠনে বিলম্ব হওয়ায় হাওরে বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজে অন্যান্য বছরের ন্যায় দেরি হতে পারে বলে আশংকা করছেন কৃষকসহ হাওর আন্দোলনের নেতাকর্মীগণ
হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের শাল্লা উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব পিসি দাস বলেন,‘অতীতের বছরগুলোতে দেরিতে পিআইসি গঠনসহ নানা কারণে বাঁধ নির্মাণ কাজ সময়মত শেষ হয়নি। এবারও পিআইসি গঠনে বিলম্ব হচ্ছে। পাউবোর লোকজন বলছেন, হাওরের পানি না কমায় তারা কাজ করতে পারছেন না। আমরা দাবি জানাই দ্রুত সম্ভব পিআইসি গঠন ও সময়মত বাঁেধর কাজ শুরু করার।’
জানা যায়, এই বছর সুনামগঞ্জের হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় ৫৫০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার করবে পাউবো। ঠিকাদারের পরিবর্তে সকল প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে পিআইসি। এবার অনুন্নয়ন প্রকল্পের ৬১৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নে ২৮ কোটি ৮৮ লাখ বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছে। বর্ধিত আরও সাড়ে ৬৫ কোটি টাকা মন্ত্রণালয়ে চাওয়া হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৭২ টি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে ৩২ কোটি ৫২ লাখ বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছে। তবে এসব প্রকল্প পূনরায় পরিমাপের পর আরও বরাদ্দ লাগলে মন্ত্রণালয়ে চাওয়া হবে।
সুনামগঞ্জ পাউবোর পওর বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া বলেন,‘ আগে হাওরের পানি নিস্কাশনে ধীর গতি ছিল। আসামের পানি নদী পথে উজান থেকে নেমে এখন হাওরে ঢুকছে। অনুন্নয়ন প্রকল্পের বাঁধগুলোর পরিমাপ না করা পর্যন্ত পিআইসি গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমরা আশা করছি দুইদিন পর নদী পানি কমা শুরু হলে আগামী সপ্তাহে বাঁধের পরিমাপ করা যাবে। পিআইসিও গঠন করা সম্ভব হবে।’ প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের কারণে বাঁধ নির্মাণ ও বোরো চাষাবাদ অন্তত ১৫-২০ দিন পিছিয়ে যাবে বলে দাবি করেন তিনি।  
পাউবোর পওর বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহীনুজ্জামান বলেন,‘ নতুন বিভাগ হওয়াসহ নানা কারণে পিআইসি গঠনে আমাদের একটু দেরি হচ্ছে। হাওরে এখন নতুন করে সমস্যা দেখা দিয়েছে। পানি দ্রুত কমার সময় ছিল এখন; কিন্তু গত দুই-তিন ধরে সকল হাওরেই পানি বাড়ছে। ’

  • [১]