- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

হাওর-অর্থনীতির কথকতা

ইকবাল কাগজী
স্বীকার করছি মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রীর (এম এ মান্নান) বদান্যতায় অতিসম্প্রতি সুনামগঞ্জের ঝুলিতে বেশ কীছু প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ জমা পড়েছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল ইত্যাদি পেয়েছি। ভেবেচিন্তে দেখলে, তা বোধ করি অন্য জেলার উন্নয়নের তুলনায় সামান্যই হবে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তবু ভাগ্য বলে মানি, মুগল আমল থেকে না—পাওয়ার বদলে এই আমলে এসে, এ টুকু তো পেয়েছি। তানাহলে হাওর চিরদিন বঞ্চিত ছিল এখনও তাই আছে। এখানে শিক্ষার হার গতি পাচ্ছে না, হাওরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়নের ছোঁয়া সে—অনুপাতে লাগে নি। লাগে নি যে তার অনেক প্রমাণ চাইলেই পেশ করা যায়। একটি প্রমাণ তো এই যে, হাওরোন্নয়ন একবারেই তলানিতে ঠেকে আছে। এককথায় হাওরাঞ্চলের জেলা সুনামগঞ্জ এখনও অনুন্নয়নের সাগরেই হাবুডুবু খাচ্ছি। এই হাবুডুবু খাওয়ার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো হাওরাঞ্চলের বোরো ফসল ঘরে তোলার নিশ্চয়তা এখনও প্রকৃতির নিয়ম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করার যে—প্রযুক্তি বর্তমানে অবলম্বিত হচ্ছে সেটাকে পুরোপুরি ব্যর্থতায় পর্যবসিত করে চলেছে কায়েমী স্বার্থবাদী দুর্নীতিবাজরা। তারা বার বার প্রতিবার তাদের চক্রান্তকে চরিতার্থ করতে পারঙ্গম হচ্ছে। হাওরের পক্ষে হাওর বাঁচাও অন্দোলন নামের একটি সংগঠন সভা কিংবা মানববন্ধন করে বক্তব্য—বিবৃতি দিচ্ছে এবং প্রমাণ করছে হাওরকে বাঁচানোর নামে মারার তালে আছে এক শ্রেণির দুষ্ট লোকেরা। প্রশাসনের নাকের ডগায় তারা হাওররক্ষা বাঁধের টাকা মেরে খাচ্ছে, আইনমতো বাঁধা দেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা সাক্ষী গোপাল হতে কসুর করছে না। প্রকৃতপ্রস্তাবে প্রমাণিত হচ্ছে যে, কোথায় যেনো কয়েকপক্ষের বা কয়েকেটি চক্রের মধ্যে একটা যোগসাজস আছে। প্রশাসন ও দুর্বৃত্তদের মধ্যে আছে এমকি পারস্পরিক সমঝোতা ও লেনদেনও। চলছে কারচুপি যেমন চলে চিরকাল। সকলেই জেনেও না—জানার ভান করে, মাঝখানে কৃষকের কপাল পোড়ে, কৃষকের কষ্ট বাড়ে। এই কষ্ট বাড়ার পরও কষ্টের শেষ নয়। এই কষ্টের পর আরও বেশি কষ্ট এসে হাজির হয়। কৃষক বাঁচার জন্যেঊণ করে। ঋণগ্রস্ত কৃষক জমি হারায়। তার কষ্ট যায় না, জমি হারিয়ে নিজের ভূতপূর্ব স্বজমিতেই শুমিকের কাজ করে দিনাতিপাত করে। জেমি গিয়ে জমা হচ্ছে যারা হাওররক্ষাবাঁধের টাকা মেরে দিয়েয়ে টাকার কুমির হয়েছে। জবাবদিহিতার কোথাও কোনও বালাই নেই। এবারও ২০১৭ সনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কায় হাওরের কৃষকের দুশ্চিন্তার শেষ নেই।
কেউ হয় তো ভাবতে পারেন হাওররক্ষা বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে বন্যার পানির তোড়ের বিপরীতে টিকে থাকার মতো শতভাগ নির্ভরযোগ্য বাঁধ নির্মাণ হাওরাঞ্চলের প্রকৃতিগত কারণেই সম্ভব নয়। তা তিনি ভাবতেই পারেন। ভাবার স্বাধীনতাকে ঠেকানা যায় না। কিন্তু ভাবনাটি উদ্দে্যশ্যপ্রণোদিত অথবা ইতোমধ্যে কৃত অপরাধকে অস্বীকার করার যৌক্তিকতাকে উপস্থিত করতে পারে। যা প্রতিপন্ন করে ২০১৭ এর মতো দুর্বিপাক মাঝে মাঝেই ঘটতে পারে, এটা কীছুতেই ঠেকানো যাবে না, বরং ফসলহানির ব্যপারটিকে ঠেকানোর অযোগ্য প্রাকৃতিক ঘটনা বলে মেনে নেওয়াই সঙ্গত এবং এই যুক্তিতে প্রকৃতির সঙ্গে সংগ্রামে মানুষের ব্যর্থতাকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়ার সঙ্গে বাঁধভাঙার দায় বন্যার কাঁধে চড়িয়ে দিয়ে বাঁধনির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্তির দ্বারোদঘাটন করে। এবং প্রকারান্তরে হাওররক্ষাবাঁধের বরাদ্দের টাকা নির্বিঘ্নে হজম করে নেওয়ার মাগনা হজমি করতলগত হয়। সত্যি এর চেয়ে আরামপ্রদ কীছু আর পুথিবীতে হতে পারে না।
এমন হলে সেটা মেনে নেওয়া কোনও সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন মানুষের পক্ষে কীছুতেই সম্ভব নয়। ২০১৮ সনে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ছিলেন সাবিরুল ইসলাম। তিনি ২০১৭ সালের ফসলডুবির দুর্বিপাককে অনিবার্য প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা বলে মানতে পারেন নি। তিনি প্রকৃতিকে পরাস্ত করতে মানুষের প্রচেষ্টাকে কাজে লাগিয়ে ছিলেন এবং প্রমাণ করেছিলেন প্রকৃতির অংশ হিসেবে মানুষ প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে, বন্যাকে প্রতিরোধ করা যায়। যে—কেউ সে—বছরের পত্রিকার সংবাদগুলো দেখে নিতে পারেন। দেখবেন, জেলার প্রায় সবকটি বাঁধে তাঁর পদধুলি পড়েছিল, এমনকি দুর্গম এলাকার বাঁধেও তিনি হাজির হয়েছিলন তাঁর দলবল নিয়ে, তদারকি করতে। কেউ বাঁধনির্মাণ নিয়ে কোনও ধরণের দুর্নীতি করতে পারে নি। এই করে তিনি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলেন, সুনামগঞ্জের অকাল বন্যা ফসলহানি করার কোনও ক্ষমতা রাখে না, সেটাকে মানুষের চেষ্টায় প্রতিরোধ করা যায়। আর যাঁরা হাওরডুবিকে অনিবার্য প্রকৃতিক দুর্ঘটনা বলে বর্ণনা করেন তাঁরা আসলে বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না বা মিথ্যাচার করেন । যাঁরা মিথ্যাচার করেন তাঁরা আসলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেন, প্রকৃতির ক্ষমতাকে নিজেদের লোটপাটের হাতিয়ারে পরিণত করেন। ভুলে গেলে চলবে না, প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করেই মানুষ বেঁচে থাকে। এমনকি প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করেই মানুষ অ্যাটম ও হাইড্রোজেন বোমা বানিয়েছে, চীনারা চীনের দুঃখ বলে খ্যাত হুয়াংহু নদীকেও নিয়ন্ত্রণ করেছেন, আমার পদ্মাবন্ধু সেতু বানিয়েছি । মানুষ চাইলে কী না করতে পারে। যে—মানুষ শোষণ করতে পারে সে—মানুষ ইচ্ছে করলেই শোষণ বন্ধও করতে পারে। সাবিরুল ইসলাম প্রতিকার সন্ধানে ব্রতী হয়ে পরবর্তী বছরে হাওররক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ প্রশাসনের উদ্যোগে ঠিকই শতভাগ সফলতার সঙ্গে করাতে সক্ষম হয়েছিলেন। আমাদের প্রশাসন পারে এবং প্রশাসনের কাছে দুর্নীতিবাজরা পরাস্ত হয়, সেটা তিনি প্রমাণ করেছিলেন। কথা হলো দেশের প্রতি ভালোবাসা, দেশের মানুষকে ভালোবাসা। সেই দরদি মনটা না থাকলে যে—কেউ শোষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেন, হোন তিনি সরকারি কর্মকর্তা বা কোনও সাধারণ মানুষ। আমাদের পিআইসরা সাধারণ মানুষ কিন্তু পাউবোর কর্মকর্তারা সরকারি চাকুরে। তাঁরা মিলেমিশে বরাদ্দের টাকা বাটোয়ারা করে গরাধঃকরণ করেন। কেউ ফেরাতে পারে না। প্রশাসন ইচ্ছে করলে পারে কিন্তু সে—সদিচ্ছায় সমৃদ্ধ মানুষ প্রশাসনে সর্বত্র মেলে না। দুঃখ এখানেই।
সেই আনাদি কাল থেকে হাওরের ইতিহাস আসলেই বঞ্চনার ইতিহাস। হাওরকে দেশ—রাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ কীছু দেয় না, কেবল নেয়। মাছ নেয়, গাছ নেয়, বালু নেয় পাথর নেয়। জাতীয় আয়ে হাওরের অবদান সর্বোচ্চ কিন্তু তাঁর উন্নয়ন সবসময় সর্বনিম্ন, প্রায় শূন্যের কোঠায়। মন্ত্রণালয়ের নথিতে হাওরকে ‘সাগর’ বলে দাগিয়ে রাখা হয়েছে সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই। যে—সাগরে কোনও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্ভব নয় । কালক্রমে কালিদহের চর জেগে উঠেছে, মাটি বাতাস স্পর্শ করে আকাশে মুখ তোলেছে, এখানে জনবসতির পত্তন হয়েছে। সাগরে উন্নয়ন কাজ চালানো যাবে নার লক্ষণরেখা এখনও মুছে দেওয়া হয় নি। সম্প্রতি কীছুটা মুছতে শুরু করেছে, সেটা বোধ করি উদ্যমের সঙ্গে শুরু করেছেন আমাদের পরিকল্পনা মন্ত্রী।
হাওর নিয়ে আজকের দেনিক সুনামগঞ্জের খবরের সংবাদ শিরোনামগুলো নিম্নরূপ : ফসলহারা কৃষকের বিলাপ … \ ‘আমাদের মতো ফসল হারা যেনো আর কেউ না হয়’, বিশ্বম্ভরপুরে কয়েকটি বাঁধ ঝঁুকির মধ্যে, দেবে গেছে মাটিয়ান হাওরের একটি বাঁধ, দিরাইয়ে তুফানখালী বাঁধে ফাটল, বাংলাদেশে চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ফসলহানির আশঙ্কা। পাশাপাশি আর একটি দৈনিকের সংবাদ শিরোনামগলো এরকম : নদীতে ঢল ঝঁুকিতে বাঁধ \ বাড়ছে ফসলহানির শঙ্কা, মাটিয়ান হাওরের বাঁধে ফাটল \ হুমকির মুখে সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল, এপ্রিলে তাপমাত্রা ছঁুতে পারে ৪০ ডিগ্রি \ ঘুর্ণিঝড় বন্যার আশঙ্কা। দু’টি পত্রিকাতেই আরও একটি বিশেষ সংবাদ ছাপা হয়েছে : হাওরের সাম্প্রতিক বিপন্ন অবস্থার প্রেক্ষিতে ‘হাওরবাঁচাও আন্দোলনের মানববন্ধন’ করার খবর। মানববন্ধনে বক্তরা সংশ্লিষ্টদের ফসলডুবির দায় বহন করার যুক্তিসম্মত দবি উত্থাপনসহ প্রতিকার দাবি করেন। দাবি না মানলে ‘কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলন’ করবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
হাওরের পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত বদলে যাবে এটাই সত্যি। এর কোনও অন্যথা হবে না, হবার কথাও নয়। আসমানে প্রতিনিয়ত ভারি মেঘ জমছে, উত্তরের পাহাড়ে ও চেরাপুঁঞ্জিতে বৃষ্টি হচ্ছে, উজান থেকে ঢল নামছে, ভাটিতে ঢলের জল উত্তরোত্তর বাড়ছে , নদী উপচে পড়ছে, পানির তোড়ে—চাপে বাঁধ গলছে—ভাঙছে। বর্তমানে প্রলয়ঙ্কর ঘটনা ঘটবে ঘটবে অবস্থা। আশঙ্কা একেবারেই ভিত্তিহীন বা অমূলকও নয়। গতকালের দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ‘আমরা বারবার বলে আসছিলাম, প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়নি বলে কাজের এসব অনিয়ম নিয়ে তেমন কথা উঠেনি কিন্তু যখন এসব দুর্বল বাঁধ ন্যূনমত পানির তোড় সামাল দিতে ব্যর্থ হবে তখন এই নীরবতা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। এখন সেই বাস্তবতার দেখা পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু হনুমানের লেজের আগুনে লঙ্কা পুড়ানোর পর এ নিয়ে হৈচৈ করে লাভ কী ? আমরা স্পষ্টতই ২০১৭ সনের অকাল ও আকস্মিক বন্যার সংকেত দেখতে পাচ্ছি। … অথচ সময় মতো একটুখানি সতর্ক হলে এবং দুর্নীতির লাগাম ধরতে পারলে আজ এ দিন দেখতে হতো না।’ উপর্যুক্ত মন্তব্য পাঠকদেরকে দু’টি বিশেষ বার্তা পরিবেশন করছে। মন্তব্য করা হয়েছে, ‘নীরবতা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে’। এই মন্তব্যে ভেতরে লুকিয়ে আছে সেই বিশেষ বার্তা দু’টির একটি। প্রথমটি আসলেই ভয়ঙ্কর। এর দু’টি দিক । একদিকে ফসলহানির পর হাওর অঞ্চলের খদ্যনিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে, নিশ্চিত করেই বলা যায়, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। অর্থাৎ দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শ্রম্নত হচ্ছে। এবং আপরদিকে গণআন্দোলন ঝাঁপিয়ে পড়বে রাজপথে। তা হতেই পারে। আমলা ও তাদের দুর্বৃত্তপনার সহযোগী টাউটবাটপারদেরকে আসকারা দেওয়ার মাসুল হিসেবে এই দু’টি বিপদকেই এক সঙ্গে সামাল দিতে হবে সরকারকে, যেমন সামাল দিতে হয়েছিল ২০১৭ সালে। আপাতত এমন আশঙ্কার কথা নিয়ে অলোচনায় অবতীর্ণ নাইবা হলাম। কিন্তু ‘একটুখানি সতর্ক হলে এবং দুর্নীতির লাগাম ধরতে পারলে’ বাক্যাংশটির নিহিতার্থ একটু আলাদাভাবে ভাবাচ্ছে এবং ভাবনাটা একবারে অকামা বা নিরর্থক, তাও জোর দিয়ে বলা যায় না। এরও একাট নির্গলিতার্থ আছে, যা খোলে ধরা দরকার। অবস্থাদৃষ্টে বুঝাই যাচ্ছে সতর্ক হওয়ার কোনও প্রয়োজন অথবা তাগিদ সংশ্লিষ্ট কারও পক্ষ থেকে ছিল না এবং লাগাম ধরাই ছিল ছিল কিন্তু টেনে ধরার তাগিদ কেউ অনুভব করেন নি এবং প্রশাসন তো নয়ই। ২০১৮ সালে যেমন লাগাম টানে ধরা হয়েছিল, তেমন করে। কারণ বোধ করি একটাই : হাওররক্ষাবাঁধ নির্মাণ নয়, এমন কি হাওরের ফসল রক্ষারও কোনও সদিচ্ছা কারও ভেতরে নেই, মনে হয় সংশ্লিষ্ট কোনও পক্ষেরই না। হাওররক্ষা বাঁধের দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ না করার একমাত্র উদ্দেশ্য টাকা কামানো বা কাউকে টাকা কামানোর সুয়োগ করে দেওয়া। এমতাবস্থায় হাওরক্ষা বাঁধনির্মাণ একটি উপলক্ষ্য মাত্র হয়ে পড়ে এবং সহজে টাকা কামানোর একটা উপায় ব্যতীত এর অন্য কোনও তাৎপর্য অবশিষ্ট থাকে না। বাস্তবক্ষেত্রে বা কার্যক্ষেত্রে প্রকৃতপ্রস্তাবে এই প্রকল্পটি বরাদ্দদাতা ও নির্মাতা কারও কাছেই এর বেশি কোনও গুরুত্ব বহন করে না বা তাদের কাছে এর বেশি কীছু বলে বিবেচিত হয় না। অর্থাৎ এটি বোরো ফসল রক্ষার কোনও প্রকল্প নয়। বাঁধ নির্মাণ ও বাঁধ নির্মাণকে জড়িয়ে একটি আর্থনীতিক তৎপরতা, কার্যক্ষেত্রের সার্বিক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত বাস্তবতা অন্তত তাই প্রমাণ করে। এর আরও একটি গভীরের কারণ অনায়াসে অনুমিত হতে পারে, তা হলো : দেশের প্রচলিত আর্থনীতিক কর্মক্রিয়ার গতিপ্রকৃতির একটি নির্দিষ্ট গন্তব্য আছে, সেই গন্তব্যে পৌঁছা সফল হবে তখনই যখন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কম দামে জমি বিক্রয় করবে ধনীদের কাছে এবং অদূর ভবিষ্যতে হাওরাঞ্চলের কৃষিতে বৃহৎখামার প্রতিষ্ঠা করবেন পুঁজিপতিরা। বিষয়টা অপাদমস্তক পুঁজিবাদী, সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই। বৃহৎপুঁজিপতিরা তখন হবেন হাওরের সব জমির মালিক আর হাওরপাড়ের সকল কৃষকরা হবেন কৃষিশ্রমিক। তৎপরে ধরেই নেওয়া যায় যে, এই কারণে হাওররক্ষা বাঁধের কোনও কাজই ঠিকমতো হচ্ছে না, দুর্নীতি বাঁধনির্মাণের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাকে গ্রাস করে নিয়েছে এবং নিচ্ছে।
০৬.০৪.২০২২ খ্রি.।

  • [১]