বিন্দু তালুকদার
ভবন নির্মাণের ৩ বছর পর আজ রবিবার উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়। আজ দুপুরে আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্বোধন করবেন পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিন্ত্রী এম এ মান্নান ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বীর প্রতীক।
জানা যায়, গত ২০১০-২০১১ সালে ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সরকারি অর্থায়নে পানি সম্পদ মন্ত্রাণলয়ের আওতায় সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর এলাকায় সুরমা নদীর তীরে তিনতলা সুরম্য ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে কাজ বাস্তবায়িত হয়। ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয় ২০১৩ সালে। ভবন নির্মাণ করা হলেও উদ্বোধন ও জনবল নিয়োগ না দেয়ায় ভবন শূন্য পরেছিল । এজন্য হস্তান্তরও করা হয়নি। তবে এখনও উত্তর দিকের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হলেও কর্মকর্তা পর্যায়ের কাউকে এখানে নিয়োগ দেয়া হয়নি। একজন উপ পরিচালক, একজন সহকারি পরিচালক, দুই জন ডাটা সংগ্রহকারী, একজন অফিস সহকারি, একজন হিসাব রক্ষক, দুই জন ড্রাইভার (একজন গাড়ি চালক ও একজন বোট চালক), একজন নৈশ প্রহরী ও একজন পিয়নসহ মোট ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এই অফিসে থাকার কথা। কিন্তু গতকাল শনিবার দুপুরে অধিদপ্তরের জেলা আঞ্চলিক কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় একজন অফিস সহকারি, একজন নিরাপত্তাকর্মী ও একজন পিয়ন আছেন। তবে ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে অধিদপ্তরের পরিচালক যুগ্ম সচিব মো. নুরুল আমিন এবং উপ পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) শুক্রবার রাতেই সুনামগঞ্জে এসেছেন।
অধিদপ্তরের পরিচালক মো. নুরুল আমিন এবং উপ পরিচালক মো. নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার (পানি সম্পদক মন্ত্রাণালয়) থেকে এটি পরিচালিত হবে। হাওর ও জলাভূমি উন্নয়নে সারা দেশে দুটি অধিদপ্তর রয়েছে একটি কিশোরগঞ্জে অন্যটি সুনামগঞ্জে। কিশোরগঞ্জে পুরাতন ভবনে অধিদপ্তরের কার্যক্রম চালু রয়েছে, সুনামগঞ্জে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে নুতন জনবল কাঠামো তৈরি করা হয়েছে এবং জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।
হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. নাজমুল হাসান বলেন,‘অতীতে দেশের হাওর ও জলাভূমির সঠিক কোন তথ্য ছিল না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহে সকল হাওর-জলাভূমির তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে তথ্য ভাণ্ডার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সুনামগঞ্জ অঞ্চলের হাওরের ভূগর্ভস্থ ও উপরস্থ পানি সঞ্চয় ও হাওরের পানি সরবরাহকারী নদ-নদী নিয়ে কাজ করা হবে। ইতিমধ্যে হাওর ও নদী নিয়ে সমীক্ষা চলছে। গত ডিসেম্বর থেকে হাওরের ভূগর্ভস্থ ও উপরস্থ কী পরিমাণ পানি সঞ্চয় থাকে কী পরিমাণ প্রয়োজন হয় তা নিয়ে সমীক্ষা শুরু হয়েছে। গত জুন থেকে হাওর ও জলাভূমির শ্রেণি বিন্যাস, হাওর-নদী তীরের অবকাঠামো নিয়ে সমীক্ষা চলছে। হাওর ও জলাভূমির উন্নয়নে উপকারীভোগী এবং হাওরপাড়ের লোকজনদের সাথে কথা বলবেন সমীক্ষাকারী সংশ্লিষ্টরা।’
পরিচালক যুগ্ম সচিব মো. নুরুল আমিন বলেন,‘সুনামগঞ্জ জেলার সকল হাওর, জলাভূমি ও নদ-নদীর উন্নয়ন নিয়ে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের এই আঞ্চলিক কার্যালয় কাজ করবে। এই অধিদপ্তর থেকে হাওর এলাকার উন্নয়নে মহা পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন, হাওরসহ সকল জলাভূমি এলাকার জনগণের জীবন-জীবিকা উন্নয়নে এবং পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম ও প্রকল্প গ্রহণে পানি সম্পদ মন্ত্রাণালয় ও অধিপ্তরের সাথে সমন্বয় করে কাজ করবে। অধিপ্তরের সাথে হাওর ও জলাভূমি বিশেষজ্ঞগণ কাজ করবেন। ’
পরিচালক যুগ্ম সচিব মো. নুরুল আমিন আরো জানান, এক সময় হাওর উন্নয়ন বোর্ড ছিল। হাওর উন্নয়ন বোর্ড প্রসারিত করে বর্তমানে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর করা হয়েছে। এই অধিপ্তরের ২১ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা পরিষদ রয়েছেন। এই পরিষদের নির্বাহী প্রধান প্রধানমন্ত্রী, পরিষদে অর্থমন্ত্রী, পানি সম্পদ মন্ত্রী, মৎস্য সম্পদ মন্ত্রী, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ রয়েছেন।