- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

‘হাওর কন্যা সুনামগঞ্জকে’ দেশ বিদেশে তুলে ধরা হবে -জেলা প্রশাসক

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘হাওর কন্যা সুনামগঞ্জ’ নামে ব্র্যান্ডিং বিষয়টিকে তুলে ধরার লক্ষে ‘জেলা ব্র্যান্ডিং’ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় জেলা-উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যকর্মীগণ অংশ নেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন- জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সিভিল সার্জন ডা. আশুতোশ দাশ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)  
সাবেরা আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. শফিউল আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আইনুন আক্তার পান্না, সহকারি পুলিশ সুপার হেলাল উদ্দিন ভুইয়া প্রমুখ।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন,‘ শিল্প-সংস্কৃতির জেলা সুনামগঞ্জ দেশের অন্যান্য জেলা থেকে অনেক সম্পদশালী। সুনামগঞ্জের যেসব সম্পদ রয়েছে তা দেশের আর কোথাও নেই। হাওরের জেলা হলেও এই জেলার রূপ সৌন্দর্য্য ও প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। তবে উদ্যোগের অভাবে এতদিন পিছিয়ে ছিল এই জেলা। বর্তমান সরকার সুনামগঞ্জের উন্নয়নে আন্তরিক। তাই টাঙ্গুয়ার হাওর সংশ্লিষ্ট পর্যটন শিল্প বিকাশের উদ্যোগ নিয়েছে পর্যটন কর্পোরেশন। সুনামগঞ্জকে ‘হাওর কন্যা সুনামগঞ্জ’ ব্র্যান্ডিং এর মাধ্যমে দেশ-বিদেশে তুলে ধরা হবে। জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্যকে বিবেচনায় রেখে জেলার সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে হাওরের স্বাতন্ত্র্যকে ধারণ করে জেলার পর্যটনকে আকর্ষণীয় করা হবে। হাওরের জীব বৈচিত্র, মৎস্য ও জলজ সম্পদ রক্ষা করে হাওরভিত্তিক পর্যটন গড়ে তুললে জেলার পরিচিতি ও সুনাম বৃদ্ধি হবে। জেলা ব্র্যান্ডিং-এর মাধ্যমে জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ চমৎকারভাবে উপস্থাপন করতে হবে। সুনামগঞ্জের হাওরের পর্যটন, মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা, সুনামগঞ্জের লোকজ সংস্কৃতি, স্বাতন্ত্র্য ও সামাজিক উদ্যোগ বাইরে সর্বত্র তুলে ধরা হবে। ’
সুনামগঞ্জের হাওরের অপরূপ সৌন্দর্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য জেলার সবাইকে অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন,‘ হাওরের সৌন্দর্য ও প্রকৃত রূপ অবলোকন করতে হলে শুক্ল পক্ষে সুনামগঞ্জে চলে আসুন। নৌকা নিয়ে হাওর ঘুরে বেড়ান। একবার যে কেউ হাওর ঘুরে গেলে বার বার এই এলাকায় আসবেন প্রকৃতির টানে।’
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, ‘হাওর কন্যা সুনামগঞ্জ’ ব্র্যান্ডিং-এর মাধ্যমে টাঙ্গুয়ার হাওর, ট্যাকেরঘাটের নিলাদ্রী ডিসি পার্ক, বারেকের টিলা, যাদুকাটা নদী, পণাতীর্থ, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থানকে সামনে রেখে লোকজগান, হাসন রাজা’র গান ও রাধারমণ দত্তের ধামাইল গান, বাউল স¤্রাট শাহ আব্দুল করিমের গানকে সম্পৃক্ত করতে হবে।’
কর্মশালায় টাঙ্গুয়ার হাওরের গাছ, নীল পানি, পাখি-মাছকে নিয়ে তৈরি করা ‘হাওর কন্যা সুনামগঞ্জ’ ব্র্যান্ডিং এর খসড়া লোগো দেখানো হয়। লোগোর প্রাথমিক ডিজাইন এবং এই লোগোকে আরো সুন্দর ও সুনামগঞ্জের সব বিষয় সম্পৃক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয় এবং উপস্থিত সবার মতামত নেয়া হয়।  
আরো বক্তব্য রাখেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. জাহেদুল হক, দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী বীর প্রতীক, ছাতক উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল, ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছির উল্লাহ খান, জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাছুম বিল্লাহ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান, শাল্লা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুম বিল্লাহ, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পরিমল কান্তি দে, পিপি ড. অ্যাড. খায়রুল কবির রুমেন, জামালঞ্জ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মনিরুল হাসান, দোয়ারাবাজার উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস, সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সোনিয়া সুলতানা, এলজিইডি কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান, জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান খান, চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহ সভাপতি আমিনুল হক, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী, শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সামছুল আবেদীন, জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, দৈনিক আমাদেরসময়ের জেলা প্রতিনিধি বিন্দু তালুকদার, দৈনিক মানবকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি শাহজাহান চৌধুরী প্রমুখ।
এছাড়া কর্মশালায় উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আনোয়ার আজিম বলেন,‘ টাঙ্গুয়াসহ সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলকে নিয়ে সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্প গড়ে উঠবে। হাওর দেখতে অবশ্যই লোকজন আসবেন। তবে পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে কোনভাবেই প্রকৃতি ও পরিবেশ বিনষ্ট করা যাবে না। হাওরের ধান, মাছ,পাখি, জলজ-বনজসহ সবকিছুকেই রক্ষা করে পর্যটন গড়ে তুলতে হবে। পর্যটনের জন্য কোন কিছুই ধ্বংস করা যাবে না।’  

  • [১]