হাওর বাঁচাও আন্দোলন হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি পাঠিয়েছে। সংগঠনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু ও সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়’র পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ কাজে
চরম অব্যবস্থাপনা ও লুটপাট। ২০১৭ সালের কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ি হাওরের বেড়িবাঁধ সংস্কার কাজে এই পর্যন্ত জেলায় ৬৭৮টি প্রকল্প বাস্তাবায়ন কমিটি(পিআইসি) অনুমোদন করা হয়েছে। শুরু থেকেই আমরা পর্যবেক্ষণ করছি, পিআইসি গঠনে কর্তৃপক্ষ ফসল রক্ষায় গুরুত্ব না দিয়ে লুটপাটের দিকেই বেশী মনযোগী। গত বছরের চেয়ে ১৫০টিরও বেশি প্রকল্প গ্রহণ করে অধিক বরাদ্দ দিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। বিগত বছরের অক্ষত বাঁধে পুনরায় অধিক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বেশির ভাগ প্রকল্পে কাজের অনুপাতে বেশি বরাদ্দ দিয়ে সরকারের টাকা অপচয় করা হচ্ছে। পিআইসি গঠনে নীতিমালা তোয়াক্কা করা হয়নি। কমিটিতে সংশ্লিষ্ট হাওর পাড়ের কৃষকদের প্রাধান্য না দিয়ে দলীয় ব্যক্তি, জনপ্রতিনধি ও অকৃষকদের স্থান দেয়া হয়েছে।
আমরা আরো গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি জেলা ব্যাপী অপ্রয়োজনীয় বাঁধের ছড়াছড়ি থাকলেও অনেক ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কোনো প্রকল্প গ্রহণ না করায় হাওর অরক্ষিত থাকছে। চলমান বাঁধ নির্মাণ কাজের মান নিয়েও আমাদের প্রশ্ন রয়েছে। নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে মাটি উত্তোলনের কথা থাকলেও অনেক বাঁধের গোড়া থেকে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। যার ফলে বাঁধ দুর্বল ও শঙ্কায় থাকছে।
বিবৃতিতে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাতিল, প্রয়োজনীয় বাঁধে নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সমাপ্ত করার আহ্বান জানানো হয়। হাওরে ফসল সুরক্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত স্থানে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাতিল করে বাঁধ নির্মাণ কাজে লুটপাট ও অনিয়ম বন্ধ করতে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি কৃষকদের সাথে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে। শীঘ্রই চলমান কাজের অগ্রগতি ও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবে হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটি। ( প্রেস বিজ্ঞপ্তি)