স্টাফ রিপোর্টার
হাওরে বোরো ফসলডুবির প্রতিবাদে এবং হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি ও ১৩ এপ্রিল কৃষক-জনতার সমাবেশ ও সুনামগঞ্জ পাউবো অফিস ঘেরাও কমর্সূচি সফল করার লক্ষ্যে সংগঠনের উদ্যোগে রবিবার বিকাল ও সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মঙ্গলকাটা ও হালুয়াঘাট বাজারে পৃথক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলকাটা বাজারের সমাবেশে নিরের চর দাখিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল শাহেদ আলীর সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক এমরানুল হক চৌধুরীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের যুগ্ম আহবায়ক বিজন সেন রায়, আমরা হাওরবাসীর প্রধান সমন্বয়কারী রুহল আমীন, সংগঠনের সদস্য সাংবাদিক এমরানুল হক চৌধুরী ,মাসুম হেলাল, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, সালেহীন শুভ, একে কুদরত পাশা, আমিনুল হক, সংগঠক রাজু আহমেদ, প্রদীপ পাল, সাবেক জেলা ছাত্রলীগ নেতা শামীম আহমদ, মঙ্গলকাটা বাজারের বাসিন্দা শাহ নুর আলম, আব্দুর রব, নজরুল ইসলাম মানিক, মহিবুর আলম, ইউপি সদস্য অরুন দাস, মানিক মিয়া প্রমুখ।
এদিকে হালুয়াঘাট বাজারে স্থানীয় বাসিন্দা আলী হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক এমরানুল হক চৌধুরীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সাবেক
ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়া, মুজিবুর রহমানসহ হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।
পৃথক সমাবেশে বক্তারা বলেন, সুনামগঞ্জে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ নির্ধারিত সময়ে না হওয়ায় এবং কাজে ব্যাপক অনিময়-দুর্নীতি হওয়ার কারণে বাঁধ ভেঙে জেলার ৯০ভাগ বোরো ধান তলিয়ে গেছে। জেলার লাখ লাখ ফসলহারা কৃষক এখন দিশেহারা। ফসলহারা কৃষকদের বাঁচাতে সুনামগঞ্জকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করতে হবে। একই সঙ্গে আগামি এক বছর সুনামগঞ্জে খোলা বাজারে চাল বিক্রি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ভিজিডি ও ভিজিএফ কার্ড বিতরণ করাসহ তাদের সকল কৃষিঋণ মওকুফ করতে হবে।
উল্লেখ্য, জেলায় এ বছর দুই লাখ ২৩হাজার ৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছিল। বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৬৩৪ কোটি টাকা। পানি উন্নয়ন বোর্ড হাওরের এই ফসল রক্ষায় ৬৮ কোটি ৮০লাখ টাকা ব্যয়ে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করছে। কৃষকদের অভিযোগ, বাঁধের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়া এবং কাজে অনিয়মের কারণেই হাওরে এই অসময়ে ফসলহানি ঘটেছে। ইতোমধ্যে ভারী বৃৃষ্টিপাত, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে অনেক বোরো ধান তলিয়ে গেছে।