- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

হাওর সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দিকে অগ্রসর হতে হবে

পৌষ মাসের এক সপ্তাহ অতিক্রান্ত হয়েছে। জেলার অনেক হাওর এখনও জলমগ্ন। অন্যান্য বছর এই সময়ে যেখানে জমিতে বোর ধানের চারা লাগানের ধুম থাকতো সেখানে এ বছর জমি থেকে পানি না নামার কারণে কৃষকরা চারা রোপনের কাজই শুরু করতে পারছেন না। গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্নীতির কারণে ফসল হারানোর পর এবার কৃষক সমাজ জলাবদ্ধতা নামক এক ভয়াবহ সমস্যার সন্মুখীন হয়েছেন। হাওরের পানি কেন নামছে না তা নিয়ে গত এক মাস যাবৎ স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বহু প্রতিবেদন ছেপেছে। গত বছর হাওর বিপর্যয়ের পরও এসব বিষয় ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। কিন্তু সময়মত ব্যবস্থা না নেয়ায় ফসল চাষ মৌসুমে সমস্যার প্রকটতা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করা শুরু করেছেন কৃষকরা। কৃষকদের মনে প্রচুর আতঙ্ক, এবারও না জানি বোরো ফসলের ভাগ্যে কী আছে তা নিয়ে। এবারও যদি বোরো ফসল বিনষ্ট হয় বা চাষাবাদ করা না যায় তাহলে কৃষকদের মেরুদ- একেবারেই ভেঙে যাবে।
কেন নামছে না হাওরের পানি? এই প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানে যেসব বিষয় সামনে এসেছে সেগুলো হলো: হাওর মধ্যস্থিত খাল ও নালা এবং নদীর নাব্যতা আশংকাজনকভাবে হ্রাস পাওয়া, সুরমার উজানে মেঘনার মোহনায় নাব্যতা সংকট, হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধগুলো কেটে না দেয়া, জলমহালের ইজারাদাররা হাওরের স্থানে স্থানে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রাখার প্রবণতা, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, অসময়ে বৃষ্টিপাত ইত্যাদি অন্যতম। মূলত হাওরের এই সমস্যাগুলো নতুন বা গবেষণার মাধ্যমে উত্থিত কোন বিষয় নয়। এসব কারণ অতি সনাতন। সকলের জানা বিষয়ও বটে। হাওর গবেষকদের নানা পরামর্শে এসব বিষয় উঠে এসেছে। কিন্তু সমস্যা হলো বিষয়গুলোর স্থায়ী সমাধানকল্পে সরকারের উদ্যোগ আসলে একেবারেই সীমিত। যে উদ্যোগগুলো রয়েছে সেখানেও সমন্বয়ের অভাব প্রকট। হাওরে অসংখ্য স্লুইসগেট আছে, তৈরি হচ্ছে আরও, কিন্তু এগুলো রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে কারও কোন তৎপরতা নেই। ফলে স্লুইসগেটগুলোও এবার জলবদ্ধতা তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। এই স্লুইসগেটগুলোই আবার যখন পানি আটকে রাখার সময় হবে তখন আর পানি আটকে রাখতে পারবে না। নদী ও খাল খননের বিষয়টিকে এবার সামান্য গুরুত্ব দেয়া হলেও কাজ শুরু করা হয়েছে অসময়ে। মেঘনা মোহনায় নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি আশু প্রয়োজন নতুবা সুরমা নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পানির ধারা সাগরে নেমে যেতে পারবে না।
হাওরপ্রধান জেলাগুলোর অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো বোরো ফসল চাষাবাদ। এই ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলে জেলাগুলোর জনজীবনে দুর্ভোগ নিয়ে আসে। পাশাপাশি নষ্ট করে দেশের খাদ্য মজুদ পরিস্থিতিও। এবার হাওরের ফসল নষ্ট হওয়ায় সরকার কেমন খাদ্য সংকটে পড়ে গিয়েছিল তা সকলেই ভালভাবে বুঝেছেন। সুতরাং হাওরকে নিয়ে সরকারের হেলাফেলা করার কোন উপায় নেই। অবশ্যই হাওর সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দিকে অগ্রসর হতে হবে। স্থানীয় নেতৃত্ব ও সংগঠন অথবা প্রভাবশালী যেসব পক্ষসমূহের অস্তিত্ব আছে তাদেরকে এবার হাওরের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে সোচ্চার হতে হবে। হাওরের কাজগুলো করতে হবে এক ছাতার নীচে এসে। এক এক দপ্তরকে দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করালে সমন্বয়হীনতার কারণে মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।  
 

  • [১]