ধর্মপাশা প্রতিনিধি
দুই জনই সব
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা এ অনুষ্ঠানের আয়োজক। অনুষ্ঠানে সংস্থার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্য কেউ উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি মধ্যনগরে অনুষ্ঠানটি সফল করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ সকলের সাথে যোগাযোগ রক্ষার কাজটিও করেছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। উৎসুক এলাকাবাসী আশা করেছিলেন অন্তত অনুষ্ঠানের দিন সংস্থার অন্যান্য সদস্যদের দেখা পাবেন। মূলত এই সংস্থার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া আর কোনো সদস্য আছে কি না তা এখনও অনেকের কাছে অজানা। এসময় অনেককেই মন্তব্য করতে শুনা যায়, এটা কি দুইজনের সংস্থা!
১১টার অনুষ্ঠান ১টায় শুরু
অনুষ্ঠানটি সকাল ১১টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। যেহেতু আমন্ত্রিত অতিথিরা সরকারি কর্মকর্তা সেহেতু স্থানীয় জনগণ মনে করেছিলেন তাঁরা সময়ের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে যথাসময়ে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হবেন এবং নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠান শুরু হবে।
কিন্তু নির্ধারিত সময়ের দুই ঘন্টা পর অনুষ্ঠান শুরু হয়। তবে স্থানীয় জনগণের এতে কোনো ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটেনি। বরং তারা অতিথিদের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছেন। জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম স্থানীয় জনগণের এমন ধৈর্য্যের প্রশংসা করেন।
আসন স্বল্পতা
অনুষ্ঠানে ছিল আসন স্বল্পতা। আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ মঞ্চে আসন গ্রহণ করার পর মঞ্চের উত্তর পাশে ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাঈমা খন্দকার কোনো আসন না পেয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। অনুষ্ঠান শুরুর কয়েক মিনিট পর তাঁকে আসন দেওয়া হয়। এছাড়াও অনুষ্ঠান শুরুর পরও আসন না পাওয়ায় মঞ্চের সামনে জেলা পরিষদ সদস্য মোজাম্মেল হোসেন রোকন, চামরদানি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্নাসহ গণ্যমান্য অনেককেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
শেষ করেন, শেষ করেন
অনুষ্ঠানে দর্শক সারিতে জনপ্রতিনিধি, সাধারণ মানুষ, কৃষক, সাংবাদিকসহ সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এক পর্যায়ে তাঁদের বিভিন্ন মতামত তুলে ধরার জন্য সুযোগ করে দেন উপস্থাপক। প্রত্যেককে দুই মিনিট করে সময় বেধে দেওয়া হয়। অনেকেই বক্তব্য শুরু করার মিনিট খানেকের মধ্যেই উপস্থাপক ‘শেষ করেন, শেষ করেন’ বলতে থেকে অন্য জনকে কথা বলার সুযোগ করে দেন। এতে করে বক্তা তাঁর প্রকৃত বক্তব্য ভালভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি। এছাড়াও উপস্থাপক বক্তার কথা শেষ করার আগেই বিষয়টি তিনি বুঝে নিয়েছেন এমন ভাব দেখাতে থাকেন।
কথা বলার সুযোগ পায়নি প্রকৃত কৃষক
অনুষ্ঠানটি ‘কৃষকের হাওর ভাবনা’ শিরোনামে করা হয়। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের দশজন কৃষককে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়। কোন কোন কৃষক কথা বলবেন তা আগে থেকেই নির্ধারণ করা হয়েছিল। কৃষকের বক্তব্য শুরু হলে দেখা যায় কৃষকের নাম নিয়ে যেসকল ব্যক্তি বক্তব্য রেখেছেন তাদের অনেকেই প্রকৃত কৃষক নয়। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ রাজনৈতিক দলের নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ছিলেন। এতে করে অনুষ্ঠানের প্রকৃত উদ্দেশ্য কিছুটা বিচ্যুত হয়েছে।