- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

হাদাটিলায় শিশুর মৃত্যু ও অবৈধ বালু পাথর উত্তোলন

ছাতকের হাদাটিলায় অবৈধ পাথর উত্তোলন কাজে নিয়োজিত ট্রলির চাপায় জাহাঙ্গীর নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বুধবার। শিশুটির মৃত্যু হলে লাশ গুম করার চেষ্টা করে অপরাধীরা। স্থানীয়রা প্রতিরোধ গড়ে তোললে তারা লাশ গায়েব পারে নি। কিন্তু লুকিয়ে রেখেছিল। স্থানীয় পুলিশ অনুসন্ধান করে অবশেষে লাশটি উদ্ধারে সক্ষম হয়েছে। ছাতকের হাদাটিলা ও দূরবিন টিলায় অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিষয়ে ছাতকের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন যাবৎ নানাভাবে দাবি জানিয়ে আসলেও অজ্ঞাত কারণে প্রশাসন সেটি বন্ধ করতে পারছেন না অথবা বন্ধ করছেন না। পরিবেশ আইন অনুসারে যেকোন পাহাড় বা টিলা কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দ-নীয় অপরাধ। অথচ ছাতকে প্রশাসনের নাকের ডগায় এই টিলাগুলো কতিপয় লোভী পাথরখেকো মানুষ কেটে সমান করে দিচ্ছে। পাথর উত্তোলনকারীরা যে খুবই প্রভাবশালী সেটি তাদের আচরণ থেকেই অনুমিত হয়। এদের কাছে স্থানীয় প্রশাসন যেন অসহায় হয়ে পড়েছে। উন্মত্ত পাথর আহরণের ফলে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট পাহাড়-টিলা ধ্বংস হয়ে পরিবেশ-প্রতিবেশের উপর প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে। আমরা মনে করি প্রশাসনকে আরও অনেক বেশি শক্ত মানসিকতা নিয়ে পাহাড় বা টিলা কাটার এই আয়োজন বন্ধ করা উচিৎ।
অবৈধ প্রক্রিয়ায় পাথর ও বালু আহরণের ফলে ছাতক, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানিগঞ্জে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এইসব মৃত্যুর কারণে এই অবৈধ কাজ এতটুকু পরিমাণে কমেছে সেই খবর আমাদের জানা নেই। যেমন জানা নেই এসব জায়গায় যে মানুষগুলো মৃত্যুবরণ করেছেন তারা কোনরূপ ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন কিনা এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরসহ আইনি প্রক্রিয়া কতদূর অগ্রসর হয়েছে। সম্ভবত এর কিছুই হয় নি। কারণ যারা এসব ঘটনায় মারা যান তারা শ্রমিক ও সমাজের নি¤œবর্ণের লোক। মৃতদের জীবিত আত্মীয় স্বজনের কোমড়ে এত জোর নেই যে জোরে তারা দোষীদের আইনের আওতায় নিতে পারেন। রাষ্ট্র কতটুকু কীভাবে অসহায়দের পাশে এসে দাঁড়ায় তাও আমরা কমবেশি জানি। সুতরাং এরকম অবস্থায় হাদাটিলায় জাহাঙ্গীর মারা যাবে, তার লাশ দাফনের আগেই আবার সোৎসাহে পাথর উত্তোলন শুরু হবে, তাতে আর আশ্চর্য কি।
সুনামগঞ্জের চলতি নদীতে অবৈধ বোমা মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে স্থানীয় কয়েক হাজার বারকি শ্রমিক নিরন্তর আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এই বোমা মেশিন বন্ধ করা যায় নি। মাঝে মধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দুই একটি বোমামেশিন ধ্বংস করা হলেও পরক্ষণেই আবার অন্য মেশিন এসে শূন্যস্থান পূরণ করছে। বোমামেশিন মালিকদের বোধ করি জানাই আছে মাসে দুইমাসে দুইএকটি মেশিন এভাবে ধ্বংস করা হবে। তারা এই ক্ষতি মাথায় রেখেই ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা রেখেছেন। অথচ এই ধরনের বোমামেশিন ব্যবহার করাও আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ছোট নদীতে কার্গো বা বড় ইঞ্জিনচালিত নৌকা ঢোকা নিষিদ্ধ হলেও তা অমান্য করাই এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে যে কেউ মনে করতে পারেন আইন না মানাই বুঝি বা আমাদের দেশে স্বাভাবিক। যারা আইন মেনে চলেন তাদেরকে বোকারাম বলে উপহাস করা হয়।
তারপরেও এমন অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সকলের কণ্ঠ সবসময় সোচ্চার রাখতে হবে এবং অবশ্যই হাদাটিলায় নিহত জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়েও সকলের সমান মনোযোগী থাকতে হবে।

  • [১]