সাইদুর রহমান আসাদ
সুনামগঞ্জের এবার বোরো মৌসুমে সর্বোচ্চ সংখ্যক আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার হয়েছে। সনাতনী পদ্ধতির পাশাপাশি এক হাজারও বেশি হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা হয়েছে। এতে পুরো জেলায় কৃষকদের প্রায় ৭৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
সুনামগঞ্জে এবার ২ লাখ ২২ হাজার ৭৯৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। আবাদকৃত জমিতে ১৩ লক্ষ ৫৩ হাজার মে. টন ধান উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে। যা টাকার অংকে প্রায় ৩ হাজার ৮ শ কোটি টাকা।
আবাদকৃত ধান কাটতে ব্যবহার হয়েছে ১ হাজার ৩৮ টি হারভেস্টার মেশিন। মেশিনে প্রতি বিঘা জমির ধান কাটতে কৃষকদের খরচ হয়েছে ১২শ’ থেকে সর্বোচ্চ ১৭শ’ টাকা। এদিকে সনাতন পদ্ধতিতে এক বিঘা জমির ধান কেটে আনতে ২৪শ’ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয় কৃষকের। সনাতনী পদ্ধতিতে ধান কাটার পর মেশিনে আবারও মাড়াই করতে হয়। কৃষকের ধানের ভাগ (২০ ভাগের একভাগ) দিয়ে মাড়াই করতে হয়েছে। এছাড়াও বিঘাপ্রতি ৪শ’ টাকা দিয়েও মাড়াই করতে হয়েছে। এতে টাকার অংকে বিঘাপ্রতি ধান কাটা ও মাড়াইয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ৪ হাজার টাকা।
এদিকে যারা হারভেস্টার মেশিন দিয়ে মাড়াই করেছেন তাদের খরচ হয়েছে ১৭ থেকে ১৮শ টাকা। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে এতে কৃষকদের প্রায় ৭৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মো. বদরুল ইসলাম। তিনি এবার ধানকুইন্না হাওরে ৮ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন। ফলনও ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘায় ২০ মণ করে ধান উৎপাদন হয়েছে।
তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, এবার হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটার ফলে ২০ হাজার টাকা সাশ্রয় হয়েছে। সনাতনী পদ্ধতিতে এক বিঘা জমির ধান কেটে আনতে ৪ হাজার টাকা লেগেছে। মাড়াইয়ে ৫০০ টাকা, শুকিয়ে গাড়ি দিয়ে বাড়িতে আনতে আরও পাঁচশ’ টাকা খরচ হয়। মোট ৫ হাজার টাকা খরচ হতো। হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটার ফলে বিঘাপ্রতি লেগেছে মাত্র ১৭শ’ টাকা। পরিবহন খাতে আরও খরচ হয়েছে আটশ’ টাকা। বিঘাপ্রতি মোট খরচ হয়েছে মাত্র ২৫শ’ টাকা। এতে আমার ২৫শ’ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
একই ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামের কৃষক মো. আল আমিন চৌধুরী বলেন, ৩০ জন লোকে সারাদিন কাজ করলে ৯ থেকে ১০ বিঘা জমির ধান কাটতে পারে। একটি হারভেস্টার মেশিনে একদিনে ২৫ থেকে ৩০ বিঘার ধান কাটে। তাই এবার সবার আগে ধান কাটা শেষ হয়েছে। টাকাও সাশ্রয় হয়েছে।
শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিমান দাস রাজীব বলেন, মেশিন দিয়ে ধান কাটলে গো-খাদ্য বাড়ে। সনাতনী পদ্ধতিতে ধান কাটলে ধানের অংশ শুধু কেটে আনা হয়। মেশিন দিয়ে কাটলে ধানের গুড়ি (নিচ থেকে) থেকে আনা হয়। এতে খড় বেশি পাওয়া যায়।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেন, এবার সর্বোচ্চ সংখ্যক হারভেস্টার মেশিন দিয়ে হাওরে ধান কাটা হয়েছে। এরফলে হাওরে শতভাগ ধান কাটা শেষ। এছাড়াও মেশিনে ধান কাটার ফলে পুরো জেলায় কৃষকদের প্রায় ৭৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।