- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

হালির হাওরের কর্মসৃজন প্রকল্পে চলছে নৌকা- বরাদ্দের টাকা হাতিয়ে নেবার পাঁয়তারা

জামালগঞ্জ অফিস
অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের প্রকল্প এলাকা দিয়ে নৌকা চলাচল করছে। অথচ কাগজে কলমে বর্তমানে কাজ চলমান দেখানো হয়েছে। হরিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাটি ভরাট কাজের প্রকল্প চেয়ারম্যান নিজেই কোন কাজ না করার কথা স্বীকার করেছেন, আর  মদনাকান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাঠ ভরাট প্রকল্পে কয়েক হাজার টাকার বালু ফেলা হয়েছে নামে মাত্র। আবার অন্য আরেক প্রকল্প চেয়ারম্যান প্রকল্প এলাকায় পানি রয়েছে স্বীকার করে নিজেরা মনগড়াভাবে অন্য জায়গায় প্রকল্প সরিয়ে নেবার কথাও বলেছেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মুখে ভিন্ন সুর থাকলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কঠোরভাবে জানিয়েছে কাজ ছাড়া কোন বিল ছাড় দেওয়া হবে না।
জামালগঞ্জের বেহেলীর ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের বেশীর ভাগ প্রকল্পই পানির নিচে। হালির হাওরের ফসলহানির পর এবার কৃষকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। ফসলহানির ঘটনায় বেহেলীর চেয়ারম্যান সহ সংশ্লিষ্ট পিআইসিদের নামে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগও রয়েছে। এখন অতিদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা তুলে নিজেদের মধ্যে অতীতের মত ভাগবাটোয়ারা করার চিন্তা করছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্রকল্প চেয়ারম্যানরা।  স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ পানির নীচের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ না করেই টাকা উত্তোলন করে তছরুফ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। গেল ১৩ ই এপ্রিল প্রথম ধাপেই হালির হাওরটির বাঁধ ভেঙ্গে ফসিলে তলিয়ে যায়। আর এই হাওরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচীর ২য় পর্যায়ের প্রকল্প অনুমোদন হয় ফসল ডুবির ১৪ দিন পর ২৭ শে এপ্রিল।  
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় ২য় পর্যায়ের বরাদ্দে বেহেলী ইউনিয়নের ৫টি প্রকল্পে ১৫  লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৯৩ জন সুবিধাভোগীর মাধ্যমে। যে সময়ে হাওরের মধ্যে পানি ঠিক সেই সময়ে প্রকল্প অনুমোদন করা অর্থ হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যেই বলে অভিমত এলাকাবাসীর।
সরেজমিনে গত সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্পে গিয়ে       দেখা যায়, বেহেলী ইউনিয়নের ইনাতনগর হালির হাওরের গাছের তলে মাটির রাস্তা নির্মাণে ২ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অথচ এই জায়গার উপর দিয়ে বড় বড় নৌকা চলাচল করছে। প্রকল্প এলাকাতে ১০ থেকে ১৫ ফুট পানি। হিজলা গ্রামের চরের মাটির রাস্তা নির্মাণে ২ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা বরাদ্দ অথচ হিজলা গ্রামের সামনে ১৩ ই এপ্রিলের পর থেকে বড় বড় ভলগেট চলাচল করছে। প্রকল্প এলাকাতে বড় বড় ঢেউ আর ঢেউ। মদনাকান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাটি ভরাট প্রকল্পে ২ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা বরাদ্দ, এখানে নামে মাত্র কয়েকশ ফুট বালি ফেলা হয়েছে। হরিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাটি ভরাট প্রকল্পে ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দের কোন কাজ না করার কথা প্রকল্প চেয়ারম্যান নিজেই স্বীকার করেছেন। শিবপুর পূর্ব পাড়া জামে মসজিদ হইতে মনাছ আলীর বাড়ীর রাস্তা ও রাধানগর ফুটবল খেলার মাঠ হতে বিলপাড় পর্যন্ত রাস্তা মেরামতে ৫ লক্ষ ১২ হাজার টাকার প্রকল্প এলাকার উপর দিয়ে নৌকা চলাচল করছে । এই প্রকল্পে কোন কাজই হয়নি,  দাবি প্রকল্প চেয়ারম্যানের।
হরিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের প্রকল্প চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান বলেন, আমি নামেই প্রকল্প চেয়ারম্যান। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাবই সব কিছু দেখেন। এই প্রকল্পে কোন কাজ হয়নি আজ পর্যন্ত।
রাধানগর ফুটবল খেলার মাঠ হতে বিলপাড় পর্যন্ত রাস্তার প্রকল্প চেয়ারম্যান খোকন মিয়া বলেন, আমার প্রকল্পে পানি থাকায় তা আমরা পরিবর্তন করে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করেছি।
মদনাকান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের প্রকল্প চেয়ারম্যান মনু মিয়া বলেন, মাটি ভরাট করিনি, স্কুলে মাঠে কিছু বালি ফেলা হয়েছে।
ইনাতনগর হালির হাওরের গাছের তলের প্রকল্প চেয়ারম্যান আ: হাসিম ও হিজলার প্রকল্প চেয়ারম্যান মশিউর রহমানের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: শাহাদাৎ হোসেন ভুইয়া প্রকল্প এলাকায় পানির বিষয়ে বলেন, আপনারা লিখেন, যা মন চাই লিখেন, যে রকম ইচ্ছা লিখেন, আপনারা যা পারেন লিখেন, এই বিষয় নিয়ে আমাকে আর কল দিবেন না ভাই !
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রসূন কুমার চক্রবর্তী বলেন, কর্মসৃজন প্রকল্প সহ অন্যান্য প্রকল্পগুলোর তদারকির জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যে পরিমাণে কাজ হবে তার বাইরে কোন বিল দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প চেয়ারম্যানকে পত্র পাঠানো হয়েছে।

  • [১]