আকবর হোসেন, জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জের হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ নিয়ে শংকিত কৃষকরা। বাঁধের কাজের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র ৩ দিন থাকলেও এখনো অনেক বাঁধের কাজ অর্ধেক কাজই হয়নি। হালির হাওরের কাজ নিয়ে উৎকন্ঠায় স্থানীয় কৃষকরা।
জামালগঞ্জের হাওরের ফসল রক্ষার বিভিন্ন বাঁধ ও ক্লোজারের কাজ পরির্দশন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রসূন কুমার চক্রবর্তী। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী, হালির ও পাকনার হাওরের হাওরের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ সহকারি প্রকৌশলী (এসও) এসময় উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার
দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাকনার হাওরের কাইল্লানী, বোগলাখালী, মুচি বাড়ি, গজারিয়াসহ বিভিন্ন বাঁধ ও ক্লোজারের কাজের গুনগত মান ও সর্বশেষ পরিস্থিতি দেখেন।
জানা যায়, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও এখনও অর্ধেক কাজ শেষ হয়নি কোথাও কোথাও। বিশেষ করে হালির হাওরের কাজের পিআইসিরা দেরিতে কাজ শুরু করার ফলে এখনও কাজ চলছে। হালির হাওরের কয়েকটি বাঁধের কাজ ৩০ ভাগ হয়নি।
ক্ষেত মজুর সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড অজিত লাল রায় বলেন, ‘অন্যান্য বছরের চেয়ে এবারো ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ ধীর গতিতে চলছে। তদারকিও কম হচ্ছে বলে স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন। পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর খেয়ালীপনার কারণে জামালগঞ্জের অধিকাংশ বাঁধই ঝুঁকিতে আছে। হাওর রক্ষা বাঁধের ব্যাপারে কোন ছাড় দেওয়া হবে না।
একইভাবে তদারকি কম হওয়া ও কাজ যথাসময়ে শেষ না হওয়ার ব্যাপারে শংকার কথা প্রকাশ করেছেন পাউবোর উপজেলার কমিটির সদস্য ও গণমাধ্যম প্রতিনিধি আকবর হোসেন।
হালির হাওরের পাউবোর দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ সহকারি প্রকৌশলী (এসও) খন্দকার আলী রেজা জানান, হাওরের পানি নামার জন্য দুটি বাঁধে দেরীতে কাজ শুরু হয়েছে। কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য পিআইসিদের তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
পাউবোর উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী নিহার রঞ্জন দাস বলেন, ‘হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ চলমান রয়েছে। কাজ দ্রুত করার জন্য পিআইসি ও এসওদেরকে চাপে রাখা হয়েছে। আশা করি নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারবো।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রসূন কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘হাওর রক্ষা বাঁধের ব্যাপারে প্রথম থেকেই পিআইসি ও পাউবোকে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। এখন নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার জোর তাগিদ দিয়েছি।’