- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

হাসপাতালকে দালালমুক্ত করা হোক

হাসপাতালে দালালচক্র সক্রিয় থাকার কারণে গ্রাম থেকে আগত রোগীরা এদের দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক-ডায়গনস্টিক সেন্টারে গিয়ে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়ে থাকেন। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাািশত একটি সংবাদ থেকে এমন তথ্যই জানা যায়। বলাবাহুল্য দালালচক্রের অব্যাহত আগ্রাসনের হাত থেকে যেন রেহাই নেই কারও। হাসপাতাল বলুন অথবা ভূমি অফিস, বিআরটিএ কিংবা সেটেলম্যান্ট অফিস, পাসপোর্ট অফিস বা সমাজসেবা অফিস; সর্বত্রই দালালদের রমরমা অবস্থা। বিশেষ করে স্বল্পশিক্ষিত বা অশিক্ষিত সেবাগ্রহীতারা এই দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে যান সহজেই। সরলতা ও অজ্ঞতা তাদের দালালমুখী করে। প্রতিটি অফিসকে দালালমুক্ত রাখা ওই অফিসের দায়িত্ব। কিন্তু সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় কখনও নিজের অফিসটিকে দালালমুক্ত করতে পারেন না। সরকারি হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ যেমন বলেছেনÑ হাসপাতালের ভিতর দালালরা সক্রিয় হতে পারে না, যদি হাসপাতালের বাইরে এরা সক্রিয় হয় তখন তাদের করার কিছু থাকে না। ঠিক এরকম ব্যাখ্যাই পাওয়া যাবে অন্যসব সরকারি সেবা-সেক্টরেও। কিন্তু মূল কথা হচ্ছে দেশের মানুষকে নির্বিঘেœ সেবা দানের যে অঙ্গীকারের কথা অহোরাত্র উচ্চারিত হয় সেই জায়গায় এই ধরনের পরিবেশ অনভিপ্রেত।
সরকারি সেবা-সেক্টরে দালালদের এই উপদ্রব বর্তমানে সেবা দান প্রক্রিয়াকে জনস্বার্থের পরিপন্থী জায়গায় ঠেলে দিয়েছে। যতই অফিস প্রধান অস্বীকার করুন না কেন এতে তাদের সম্পৃক্ততা নেই, আদতে সংশ্লিষ্ট অফিস আন্তরিক ও কঠোর হলে অবশ্যই দালালচক্রকে নির্মূল করা সম্ভব। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের নি¤œপদস্ত কিছু কর্মচারী দালালচক্রকে মদদ দিয়ে থাকে। অনেক সময় ওই কর্মচারীরাই বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়গনস্টিক সেন্টারের দালাল হিসাবে দায়িত্বে নেমে পড়েন। হাসপাতালের ওই শ্রেণির কর্মচারীদের সাথে থাকে বেসরকারি রোগ সেবাদানকারীদের সুসম্পর্ক। অনেক সময় বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়গনস্টিক সেন্টারের মালিকানায়ও থাকে এই কর্মচারিদের অংশ। নিজেদের প্রতিষ্ঠানকে লাভবান করার জন্য এই চক্র হাসপাতালের সেবাকার্যক্রমকে অকার্যকর করে রাখেন। যেসব পরীক্ষা হাসপাতালে সম্ভব সেগগুলোর জন্যও রোগীূদের বাইরে পাঠানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে এরূপ ক্ষেত্রেও রোগীদের ভর্তি না করে বাইরে পাঠানো হয়। পত্রিকার সংবাদেই বলা হয়েছে এক শিশু হাতে আঘাত পায়। তাকে স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কিন্তু হাসপাতালে ভাল অর্থপেডিক্স ডাক্তার নেই বলে তাদের বাইরের ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ওখানে টাকার বিনিময়েও উপযুক্ত চিকিৎসা পায়নি শিশুটি।
হাসপাতালে যারা চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন এরা সমাজের একেবারে নীচুতলার মানুষ। সাধারণত এখন স্বচ্ছল মানুষ আর পারতপক্ষে হাসপাতালে আসেন না। এই অস্বচ্ছল ব্যক্তিগুলো হাসপাতালে উপযুক্ত চিকিৎসা না পেয়ে অনেক সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকেন। এতে তাদের জটিলতা বৃদ্ধি পায়। অনেক সময় কেউ কেউ মারাও যান। সরকার হাসপাতালের সেবাসক্ষমতা বৃদ্ধি করছেন। চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দিচ্ছেন। কিন্তু মানুষ এসে সেবাই যদি না পায় তাহলে এই সক্ষমতা বাড়ানোর মানে কী? আমরা জানি প্রতিটি হাসপাতালে বহু আন্তরিক চিকিৎসাকর্মী আছেন। এরা জান-প্রাণ দিয়ে রোগীর সেবা করেন। কিন্তু রোগী যদি ওই অব্ধি যেতেই না পারে তাহলে কীভাবে তাদের সেবা রোগীরা পেতে পারে? হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তাই পুরো হাসপাতালকে দালালমুক্ত করে রোগীদের সেবা উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলতে হবে। আমরা বিশ^াস করি তাঁরা সচেষ্ট হলে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। বেসরকারি ক্লিনিক-ডায়গনস্টিক সেন্টারগুলোর সেবার মান নিয়েও রয়েছে প্রচুর অভিযোগ। টাকা দিয়েও উপযুক্ত সেবা পাওয়া যায় না এমন কথা আজকাল প্রায়শই শোনা যায়। তাই বেসরকারি চিকিৎসা সেবা দানের জায়গায়ও নিয়ম-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা উচিৎ। মানুষের জীবন নিয়ে এখন যে অমানবিক ব্যবসায়বৃত্তি গড়ে উঠেছে তা থেকে আমাদের সচেতনভাবে বেরিয়ে আসতে হবে।

  • [১]