- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

হাসপাতালে প্রসুতি মায়ের প্রতি সেবিকার অমানবিক আচরণ

ছাতকের কৈতক হাসপাতালে প্রসুতি মায়ের প্রতি চরম অবহেলার অভিযোগ এনে ওই হাসপাতালের সেবিকার বিরুদ্ধে সিভিল সার্জনের নিকট অভিযোগ দাখিল করেছেন স্বজনরা। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত সংবাদে বর্ণিত অভিযোগ অনুসারে জাউয়াবাজার ইউনিয়নের হাবিদপুর গ্রামের সন্তানসম্ভবা রেহেনা বেগমকে যথাযথ চিকিৎসা প্রদান করার জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি এবং ওই পরিমাণ টাকা দিতে না পারায় রোগীকে চরম অবহেলা প্রদর্শন করেছেন আমেনা নাহিদ নামের এক সিনিয়র স্টাফ নার্স। টাকা না দেয়ায় রোগীর শরীর থেকে সেলাইন খোলে নেয়া এবং বেড থেকে ফ্লোরে নামিয়ে আনার মতো অমানবিক কাজও করেছেন তিনি। এমন অবহেলার কারণে ওই প্রসুতি মায়ের মৃত সন্তান জন্ম হয়েছে। বিষয়টি শুধু অমানবিকই নয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক কর্মচারীর এ এক সীমাহীন ধৃষ্টতা। স্বজনরা যেহেতু সিভিল সার্জনের নিকট অভিযোগ করেছেন আমরা আশা করব তিনি এর যথাযথ প্রতিকার করবেন।
প্রসুতি মায়েদের নিয়ে চিকিৎসা বাণিজ্য এখন একটি ভয়ানক সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে প্রসুতি মায়ের প্রতি চরম অবহেলা প্রদর্শন করে প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করার ইন্ধন যোগানো হয়ে থাকে। প্রাইভেট ক্লিনিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে সিজারিয়ান করার নামে স্বজনদের নিকট থেকে ২০/২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। যারা সরকারি হাসপাতালেই সন্তান প্রসবের জন্য থেকে যান তাদেরকেও রেহাই দেয়া হয় না। বখশিশ কিংবা অন্য নামে হাতিয়ে নেয়া হয় প্রচুর টাকা। চিকিৎসাজনিত অবহেলায় প্রসুতি ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে থাকে। এখন বিশেষ করে গরীব পরিবারের কোন মা সন্তানসম্ভবা  হলে তাদের দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। প্রসবজনিত বিপুল পরিমাণ টাকা কীভাবে সংগ্রহ করবেন এই উদ্বেগে তারা ব্যতিবস্ত থাকেন। অথচ অবস্থা এমন হওয়ার কথা ছিলো না। ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য পরিষেবা কাঠামোয় জনস্বস্তিই কাম্য ছিলো।
যখন দেশে স্বাস্থ্যকাঠামোর অভাব ছিলো তখন সন্তান প্রসবের জন্য প্রতিটি জনপদে একটি মানবিক কাঠামো ছিলো। এলাকাভিত্তিক দাইমা যারা ধাত্রী নামে পরিচিত ছিলেন তারা শিক্ষায় ও প্রশিক্ষণে পিছিয়ে থাকলেও মানবিক গুণ ও আন্তরিকতায় ছিলেন অনেক উপরে। রাত-বিরাতে খবর পেলেই তারা নির্দ্ধিধায় চলে আসতেন প্রসুতি বাড়িতে। প্রসব করিয়ে কত টাকা পাবেন আদৌ পাবেন কিনা এ নিয়ে কোন চিন্তা ছিল না তাদের। নবজাতকের প্রথম কান্নার শব্দই ছিলো তাঁদের পরম পাওয়া। তখন অবশ্য আধুনিক ব্যবস্থার অভাবে নানা দুর্ঘটনা ঘটত তবে ওই দুর্ঘটনায় ছিল না দাই মাদের কোন অবহেলা। আজ সন্তান প্রসবের বহু আধুনিক পন্থা আবিষ্কৃত হয়েছে সত্য কিন্তু বিদায় নিয়েছে সেই মানবিকতা। আজ সবকিছু অর্থের তূল্যমূল্যে বিবেচিত।  চাহিদামাফিক অর্থ না পেলে সন্তান কিংবা মা মরে যাক তাতেও কিছু যায় আসে না। জাউয়া হাসপাতালে রেহেনা বেগমের মৃত সন্তান প্রসব এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
রেহেনা বেগমের স্বজনদের টাকা নেই বলে সে সন্তান প্রসবের সুবিধা বঞ্চিত হবে একটি স্বাধীন দেশে এর চাইতে লজ্জাজনক বিষয় আর কিছু হতে পারে না। কথা হলো সবাই যেটিকে লজ্জাজনক মনে করছেন স্বাস্থ্য বিভাগ তাতে কতটুকু লজ্জিত হচ্ছেন? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা আমরা করব সিভিল সার্জনের উদ্যোগ থেকে। নিজেদের প্রতিষ্ঠানটিকে মানবিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রমাণ করতে চাইলে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত সেবিকার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই।

  • [১]