- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

হাসপাতালে বসে টাকার বিনিময়ে রোগী দেখা

তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নবযোগদানকৃত একজন নারী চিকিৎসক তাঁর চেম্বারে একটি বোর্ড সাঁটিয়ে রেখেছেন যেখানে লেখা আছেÑ‘সকাল ৯ টা হতে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রাইভেট রোগী দেখা হয় না। প্রাইভেট রোগীর ভিজিট ৩০০ (তিনশত) টাকা’। সরকারি চেম্বারে প্রাইভেট প্র্যাকটিসকে বিজ্ঞাপিত করার মত এমন বোর্ড তিনি টানিয়ে রাখতে পারেন না। অন্তত সরকারি চাকুরি আইন তা সমর্থন করে না। সরকারি চাকুরি সংক্রান্ত যে আইন বলবৎ রয়েছে সেখানে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের কোনো ব্যবসা পরিচালনা বা দ্বিতীয় চাকুরি গ্রহণকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিদ্যমান এই আইন সত্ত্বেও দীর্ঘদিন যাবৎই সরকারি চিকিৎসকরা কর্তব্য-সময়ের পরে প্রাইভেট চেম্বারে বসে নির্দিষ্ট ফি’র বিনিময়ে রোগী দেখে আসছেন। আইন সমর্থন না করলেও এটি রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে আপাতত আমরা কোনো কিছু বলছি না। কিন্তু সরকারি চেম্বারে নিজের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের কথা এমনভাবে প্রচার করার উদাহরণ এর আগে আমরা শুনিনি। তাহিরপুরের এই নবীন নারী চিকিৎসক এক্ষেত্রে অভিনবত্ব দেখালেন বটে। কিন্তু তিনি ফলাও করে টানিয়ে রাখা নিজের বিজ্ঞাপনের প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। শুক্রবার দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে এ সংক্রান্ত যে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে তাতে মিনারা বেগম নামের এক নারী প্রতিবেদককে বলেছেন, তিনি বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় ওই নারী চিকিৎসকের নিকট ৩০০ টাকা ফি’র বিনিময়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ বর্ণিত নারী চিকিৎসক সরকারি হাসপাতালে বসেই টাকার বিনিময়ে রোগী দেখছেন। তাঁর এমন অনৈতিক কর্মকা-ে হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসকরাও লজ্জিত হয়েছেন। সংবাদভাষ্য অনুসারে অন্তত ৩ জন চিকিৎসক ওই ধরনের বোর্ড সাঁটানো ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন। চাকুরিতে যোগদান করার অল্প দিনের মধ্যেই একজন নবীন চিকিৎসকের এমন .অনৈতিক কর্মকা- দেখে আমরা তেমন অবাক হইনি কারণ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের অংশ বিশেষের মধ্যে এই ধরনের মানসিকতা দেখে আমরা অভ্যস্ত। তবে বিস্মিত হয়েছি এ কারণে যে, কতটা বেপরোয়া হলে চাকুরি স্থায়ী হওয়ার আগেই একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা সরকারি চেম্বারে বসে এমন কাজ করতে পারেন তা ভেবে।
শাল্লা উপজেলায় পদায়িত নবীন চিকিৎসকদের বিষয়ে কয়েকদিন আগে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল যেখানে পালাক্রমে তাঁদের কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়টি উঠে আসে। এবার তাহিরপুরের এক নবীন নারী চিকিৎসকের সরকারি চেম্বারে বসে প্রাইভেট রোগী দেখার খবর মিলল। নবীন কর্মকর্তাদের মধ্যে এই ধরনের অভ্যাস দেখে আমরা খুব ব্যথিত ও মর্মাহত হই। কারণ আমরা মনে করি এই নবীনরাই দেশটিকে সমৃদ্ধির উৎকর্ষতর জায়গায় নিয়ে যাবেন। নবীনদের জয়গানে প্রতিটি যুগ মুখরিত থেকেছে। নবীনের পদধ্বনির মধ্যে কবিরা সম্ভাবনার দ্যুতি দেখতে পান। তাই সর্বকালে নবীনদের মধ্যেই জাতি ভরসা খোঁজে। কিন্তু আমরা এ কোন নবীন প্রজন্ম দেখছি যারা কর্মজীবনে প্রবেশ করেই নানা ধরনের বিচ্যুতিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। এদের হাতে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কতটুকু নিরাপদ?
সদ্য এমবিএসএস পাস করে সরকারি চাকুরিতে যোগদানকারী মেডিক্যাল অফিসাররা শুরু থেকেই প্রাইভেট রোগী দেখতে পারেন কিনা এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের দ্বিধা রয়েছে। সরকারি চাকুরি আইন অনুযায়ী তাঁরা এমন কাজ করতে পারেন না কারণ প্রাইভেট রোগী দেখা ব্যবসায়িক কর্মকা- রূপেই বিবেচিত হয়। এখন তাহিরপুরের সংশ্লিষ্ট নারী চিকিৎসক কীভাবে সরকারি চেম্বারে বসে টাকার বিনিময়ে রোগী দেখেন সে বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের পরিষ্কার ব্যাখ্যা আসা প্রয়োজন। বর্তমান বছরটি মুজিববর্ষ হিসাবে পালিত হচ্ছে। এই বছরে সরকারের সবগুলো সেবাখাত সেবার মান বাড়ানোর জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ। এই অঙ্গীকারের জায়গায় যদি বেলা ১১ টায় সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে আসা এক নারীকে টাকার বিনিময়ে সেবা পেতে হয় তাহলে মুজিববর্ষে স্বাস্থ্য বিভাগের অঙ্গীকার চরমভাবে ভুলুণ্ঠিত হয়েছে বলেই সকলে মনে করবেন। নিজেদের ভাবমূর্তি পরিষ্কার করার জন্যই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত স্বাস্থ্য প্রশাসনের।

  • [১]