- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

হাসপাতাল থেকে বিছানাপত্র পাচারে’র চেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের নতুন ভবন থেকে বিছানাপত্র সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাবার সময় আটক করা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার বিকালে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের ব্যবহৃত নতুন ভবনের বিছানাপত্র বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় হাসপাতালের পাশে থাকা স্থানীয় লোকজন হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মচারী সোহাগকে আটক করে। এসময় অ্যম্বুলেন্স চালকরা সোহাগকে এ সকল জিনিসপত্র কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন জিজ্ঞেস করলে সে নার্স রহিমার নাম বলে। এসময় হাসননগর এলাকার লোকজনের সঙ্গে নার্স রহিমা ও ওয়ার্ডবয় সোহাগের বাকবিত-া শুরু হয়।
স্থানীয় লোকজন জানান, শুক্রবার বিকেলে হাসপাতালের পাশেই তারা অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ দেখেন হাসপাতালের আউটসোর্সিং’র এক ওয়ার্ডবয় নতুন হাসপাতালের দুটি বালিশ, দুটি বেডসিট, এবং দুটি কম্বল নিয়ে হাসপাতাল থেকে বাইরে যাচ্ছেন। এসময় তারা সোহাগকে আটক করে এসকল জিনিসপত্র কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে চান। সোহাগ জানান এগুলো নার্স রহিমা ম্যাডাম বাইরে রেখে আসতে বলেছেন। এসময় নার্স রহিমা বেগম নিচে এসে স্থানীয়দের সাথে বাকবিত-ায় জড়িয়ে পড়েন। নার্স রহিমা বেগম বলেন, সরকারি জিনিসপত্র কোথায় নিয়ে যাচ্ছি আপনাদের বলতে বাধ্য নই আমরা।
স্থানীয় যুবক মো. পারভেজ মিয়া বলেন, আমরা বিকেলে হাসপাতালের পাশেই দাঁড়িয়েছিলাম। হঠাৎ দেখি একটি লোক বালিশ, কম্বল, বেডসিট নিয়ে বাইরে যাচ্ছে। সন্দেহ হওয়ায় জিজ্ঞেস করলে তিনি একজন নার্সকে ডাকেন। নার্স এসে আমাদের সঙ্গে বাকবিত-ায় লিপ্ত হন।
ওয়ার্ডবয় সোহাগ এ প্রসঙ্গে বলেন, আমি ফ্লেক্সিলোড দিতে নিচে আসছিলাম। এসে দেখি একজন আয়া নার্সের কাছ থেকে কম্বল, বেডসিট এবং বালিশ নিয়ে নিচে এসেছেন এবং তার কষ্ট হচ্ছে বলে আমি জিনিসগুলো হাতে নেই। এসময়ই স্থানীয় মানুষেরা আমাকে আটকায়।
তিনি বলেন, ‘নার্সের ইনচার্য রহিমা আপা এইসকল জিনিস দুইদিনের জন্য অন্য একজন নার্সকে দিতে চাচ্ছিলেন। ওই নার্স সমস্যায় থাকায় রহিমা আপা তাকে এগুলো ধার দিতে চাচ্ছিলেন।’
সুনামগঞ্জ সদর হাসাপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয়রা বিষয়টি জানিয়েছে। আমি সাথে সাথে এই জিনিসপত্র ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছি এবং আগামীকাল নার্সদের নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এব্যাপারে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. আশরাফুল ইসলাম বলেন, এই বিষয়ে আমি এখনো কিছু জানি না। যদি এরকম কিছু হয়ে থাকে, তাহলে সেটা অন্যায় ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিবো।

  • [১]