- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় মানবিকতার ছুঁয়া দেখতে চাই

পর্যাপ্ত সিটের অভাবে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে স্বাভাবিক অবস্থায় কারও আপত্তি করার কিছু নেই। সিটে শুয়েই হোক আর মেঝেতে থেকেই হোক চিকিৎসাটুকু পেলেই রোগীরা বর্তে যায় আমাদের দেশের সরকারি হাসপাতালে। তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও দোষারোপ করার কিছু থাকে না। কারণ অপর্যাপ্ত সিটের কারণে মেঝেতে রেখেও যে তাঁরা চিকিৎসা দিচ্ছেন সেজন্য বরং ধন্যবাদ দিতে হবে। কিন্তু এই অতি স্বাভাবিকত্ব তখনই অস্বাভাবিক ও নিন্দনীয় হয়ে উঠে যখন দেখা যায় রোগীর নামে সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে সঠিক নীতিমালা অনুসরণ না করে পক্ষপাতিত্ব করা হয়। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে ‘মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেক রোগী’ শিরোনামের সংবাদে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে মেঝেতে রেখে চিকিৎসাসেবা গ্রহীতা বেশ কিছু রোগীর কথা বলা হয়েছে যেখানে রোগীরা অভিযোগ করছেন যে, তাদের পরে আসা রোগীরা হাসপাতালে সিট পেয়ে গেছেন কিন্তু তাদের জায়গা সেই মেঝেতেই রয়েছে। মেঝের এইসব রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের কর্মচারীদের সাথে যাদের সুসম্পর্ক রয়েছে তারা অনায়াসে সিট পেয়ে যাচ্ছে। ঠিক এই জায়গাটিতেই প্রশ্ন আসে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনাগত দিকটি কার্যকর কি না সে নিয়ে। পরে আসা রোগীরা যদি আগে সিট পেয়ে যান তখন বুঝতে হবে কোথাও না কোথাও ব্যবস্থাপনার ত্রুটি রয়েছেই। চিকিৎসকরা এই কাজটি হয়ত করছেন না, কিন্তু হাসপাতালেরই কেউ এ কাজটি করছেন। এটি দেখার কথা চিকিৎসক-কর্মকর্তাদেরই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন শনিবার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ছিল ২৮৬ জন অথচ হাসপাতালে সিট সংখ্যা ২২০ টি। সুতরাং অবশিষ্ট ৬৬ জন রোগীর অবস্থান যে মেঝের উঁচুতে হবে না সে নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। কিন্তু জামালগঞ্জের রাজারবাজ গ্রামের ৬৫ বছরের বৃদ্ধ ইজ্জত আলী শ্বাসকষ্ট রোগ নিয়ে যখন মেঝেতে পড়ে থাকেন তখন আমাদের প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয়, তাকে কি কোনভাবেই একটি সিট দেওয়া যেত না?  তিনি স্বয়ং অভিযোগ করেছেন, তার পরে আসা রোগী ঠিকই সিট পেয়েছেন। অনুরূপ প্রশ্ন তোলা যেতে পারে সদর উপজেলার নরুল্লা গ্রামের ৭০ বছর বয়সী আরেক বৃদ্ধ মনির উদ্দিনের ক্ষেত্রে যিনি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন এখানে। বয়স্ক, শিশু ও নারীরা তো আমাদের রাষ্ট্রে বিশেষ কিছু সুযোগ সুবিধা পাওয়ার অধিকারী। ইজ্জত আলী ও মনির উদ্দিনের মতো অস্বচ্ছল বৃদ্ধদের তো এই সুবিধা আরও বেশি পাওয়ার কথা ছিল। সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা বলেছেন, নতুন ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি চালু হয়ে গেলে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমাদের মনে হয় তখনও এইরূপ সমস্যা থাকবে। কারণ হাসপাতালে সিট বাড়লে রোগীও বাড়বে, উপরন্তু ব্যবস্থাপনার চরিত্র তো সেই একই থাকছে। তো উন্নতির আশা কোথায়? আমরা কর্তৃপক্ষের প্রতি শুধু এই অনুরোধ জানাই, হাসপাতাল হলো অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা। এখানকার ছোট থেকে বড় সবাইকে মানবিক আচরণে অভ্যস্ত হতে হবে। ব্যবস্থাপনায় যখন মানবিকতার মহত্ত্ব যুক্ত হবে তখন এসব সমস্যার সমাধান ঘটবে। অতএব আমরা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় মানবিকতার ছুঁয়া দেখতে চাই।

  • [১]