- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

হায় বিদ্যুৎ হায় বিদ্যুৎ

মানুষ এখন হায় বিদ্যুৎ হায় বিদ্যুৎ করে মাতম করছেন আর অসহনীয় যন্ত্রণা সহ্য করে চলেছেন। তীব্র গরমে সামান্য স্বস্তির জন্য একটুখানি জিরোনোর সুযোগ নেই। রাতে যখন দুই চোখ ভরে ঘুম জাঁকিয়ে বসেছে তখন হাঁসফাঁস গরমে ঘর্মাক্ত হতে হতে ঘুম ভেঙে যায়। সাপ্লাইর পানি নেই। মোটর দিয়ে পানি তোলা যাচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারছে না। বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসাপাতি মুখ থুবরে পড়েছে। এক কথায় এখন শহর জুরে বিদ্যুতের জন্য মানুষের তীব্র ক্ষোভ, হতাশা আর সীমাহীন কষ্ট সীমা ছাড়িয়েছে। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকে, মিসড কলের মতো বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়া, লো-ভোল্টেজ, এরকম বিড়ম্বনায় মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত।  মানুষের মনের তীব্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে গতকাল পৌর মেয়রের নেতৃত্বে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও কর্মসূচীতে। পৌর মেয়র আলটিমেটাম দিয়েছেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অবস্থার উন্নয়ন না ঘটলে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের। পরিহাসের বিষয় হলো, কর্মসূচী শেষ হওয়ার পর বুধবার শেষ বিকেল ও সন্ধ্যায় কয়েক বার বিদ্যুৎ মিসড কলের মতো তামাশা করেছে।
বছর কয়েক যাবৎ সুনামগঞ্জের অসহনীয় বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে মানুষ নানারকম প্রতিক্রিয়া এবং গণমাধ্যমে প্রচুর লিখালিখা হলেও সমস্যা সমাধানে দৃশ্যত কোন সমাধানের উদ্যোগ নেই। স্থানীয় বিদ্যুৎ প্রকৌশলী এক এক সময় এক এক ধরনের কথা বলেন। কখনও গ্রীড লাইন কখনও সঞ্চালন লাইন কখনও সরবরাহে স্বল্পতা কখনও অবৈধ এয়াকন্ডিশনার ব্যবহারের কথা বলছেন তিনি। সামান্য ঝড়ে বিদ্যুতের লাইন ছিড়ে পড়ে এখানে, ছোট্ট বজ্রপাতে বিকল হয় ট্রান্সফরমার। এই অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন ছিল একটি বড় আকারের উদ্যোগের। সুনামগঞ্জের নেতৃবৃন্দকে এক সাথে বসে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত  যাবতীয় সমস্যাদি খুঁজে বের করে এর সমাধানের ব্যবস্থা নেয়া ছিল স্থানীয় মানুষের মনের চাহিদা। কিন্তু এটি হয়নি। বিচ্ছিন্ন কিছু বিষয় ঘটে যেগুলোর দীর্ঘমেয়াদী কোন সুফল দেখা যায় না।
সুনামগঞ্জ পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী নানা রকম কথা বলে ইতোমধ্যে চরম বিতর্কিত হয়েছেন। তিনি বহুবার সরকারের বিদ্যুৎবান্ধব কর্মসূচীকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বক্তৃতা দিয়েছেন। এগুলো গণমাধ্যমে এসেছে। এরকম কথা বলার পরও তিনি বহাল তবিয়তে সুনামগঞ্জের মানুষের উপর ছড়ি ঘুরাচ্ছেন। কোথায় তার শক্তির উৎস? না প্রশাসন না নেতৃবৃন্দ কেউ এই চরম ব্যর্থ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারেননি। এতেই তার ঔদ্ধত্য সীমা ছাড়িয়েছে কিনা এখন সেটিই আমাদের প্রশ্ন।
সুনামগঞ্জের নেতৃবৃন্দকে আমরা বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বড় আকারের গোলটেবিল বৈঠক ডাকার আহ্বান জানাই। ওই বৈঠকে বিদ্যুতের উর্দ্ধতন কর্তা ব্যক্তিগণসহ সুনামগঞ্জের দায়িত্বশীলদের উপস্থিত থাকতে হবে। খোলামেলা আলোচনা করে সমস্যা চিহ্নিত করে স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। সবার আগে ব্যর্থ আবাসিক প্রকৌশলীকে এই জেলা থেকে বিদায় করতে হবে। সুনামগঞ্জে বহু প্রাজ্ঞ নেতা রয়েছেন। তাঁদের প্রতি মানুষের অপরিসীম আশাবাদ। আমরা তাঁদেরকে অতীতে বহুবার অনুরোধ করেছি, বিদ্যুৎযন্ত্রণায় অতীষ্ট মানুষের জন্য কিছু করার। আশা করব তাঁরা এবার কার্যকর উদ্যোগ নিবেন।
মানুসের নিত্যকার জীবনের সাথে শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো জড়িত বিদ্যুৎতের অবনতিশীল পরিস্থিতি সরকারের ভাবমূর্ত্তি ক্ষুণœ করছে। সরকার যখন বিদ্যুতের অব্যাহত সফলতার কথা সাড়ম্বরে প্রচার করছেন তখন সুনামগঞ্জের অবস্থা সেই দাবিকে ধূলোয় উড়িয়ে দেয়। পিডিবিকে গা ঝাড়া দিয়ে দাঁড়াতে হবে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য। নতুবা পিডিবি নামক প্রতিষ্ঠানটি মানুষের অভিশাপ আর হতাশার আগুনে বিলীন হয়ে যাবে। হায় বিদ্যুৎ হায় বিদ্যুৎ অবস্থা থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই।

  • [১]