স্টাফ রিপোর্টার
এখন অগ্রহায়ণ মাস। গত কয়েক দিনের ঠান্ডায় প্রকৃতি জানান দিচ্ছে শীত জেঁকে বসেছে। শীতের সময় মানুষ একটু আয়েশে কাটাতে চায়। কিন্তু পৌর শহরের জনজীবনে কোনো আয়েশ নেই। শহরে বায়ু দূষণের মাত্রা বেশি হওয়ার ফলে দিন দিন দুর্ভোগের নগরীতে পরিণত হচ্ছে। কোনো মৌসুমেই নগরবাসী স্বাচ্ছন্দ্যে রাস্তাঘাটে চলাচল করতে পারে না। বর্ষাকালে ভুগতে হয় জলাবদ্ধতায় আর শুষ্ক মৌসুমে পোহাতে হয় ধূলির দুর্ভোগ।
গত কয়েকদিনে লক্ষ্য করা গেছে, পৌর শহরের ভেতরে রাস্তায় ধূলির পরিমাণ বেড়েছে। সকাল থেকে আলফাত উদ্দিন চত্ত্বর, ডিএস রোড, পুরাতন বাস স্ট্যান্ড এলাকা, নতুনপাড়া, কাজীর পয়েন্ট, ষোলঘর পয়েন্ট থেকে কলোনি পর্যন্ত থাকে ধূলাময়। এই ধূলা সব সময় এসব এলাকার চারপাশের পরিবেশ দূষণ করছে। এতে পথচারী, দোকানদার সহ কেনাকাটা করতে আসা মানুষদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
জানা যায়, শহরের ভেতরে উন্নয়ন কাজ চলার কারণে ধূলার পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। রাস্তা সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার করার কাজ চলছে অনেক এলাকায়।
পৌরশহরের বাসিন্দারা বলেছেন, ধূলা পৌরবাসীর স্বস্তি কেড়ে নিয়েছে। ধূরার কারণে রোগ-ব্যাধির প্রকোপ বাড়ছে। মানুষ পারতপক্ষে রাস্তায় বেরোতে চান না। এজন্য শহরের প্রধান প্রধান এলাকাগুলোতে নিয়মিত পানি ছিটাতে হবে। নয়তো মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে।
ষোলঘরের বাসিন্দা নিমাই সরকার বলেন, ধূলার জন্য রাস্তায় বের হওয়া যায় না। যে দিকেই যাই শুধু ধূলা। এই ধুলির রাজ্য থেকে বাঁচার জন্য আমি সব সময় মুখে মাস্ক ব্যবহার করি।
নতুনপাড়ার বাসিন্দা গৌতম দাস বলেন, যে সব এলাকায় ধুলি উড়ে প্রতিদিন সেখানে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ সবার আগে মানুষের স্বাস্থ্য। মানুষের স্বাস্থ্যের প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরো মনোযোগি হতে হবে।
পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার টং দোকানী রাজীব দাস বলেন, ধুলির জন্য দোকানে বসা যায় না। এজন্য প্রতিদিন ২-৩ বার রাস্তায় পানি দেই। সাথে সাথে শুকিয়ে যায়।
এবিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মীর মোশাররফ হোসেন বলেন, শহরজুড়ে উন্নয়ন কার্যক্রমের কারণে ধূলা-বালির পরিমাণ বেড়েছে। এমনিতেও শীতকালে ধূলা-বালির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। শুধু পানি ছিটানো এর সমাধান নয়। তবে আমরা এর স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজতে চাই।