স্টাফ রিপোর্টার
বুধবার দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে ‘ছেলেকে মেডিকেলে ভর্তি করতে ঋণের জন্য ঘুরছেন হৃদয়ের বাবা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় ধর্মপাশার সরিসাম গ্রামের দরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তান হৃদয় চন্দ্র দাসকে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন সিলেটের এক পুলিশ কর্মকর্তা।
নিজের নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে জানিয়েছেন, হৃদয় চন্দ্র দাসকে তিনি নগদ ১৫ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা প্রদান করবেন।
হৃদয় চন্দ্র দাস এবার মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় জেলা কোটায় (মেধাক্রম ৪৫৩৭) উত্তীর্ণ হয়েছে। হৃদয় ৪ ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। তার বড়ভাই সিলেট এমসি কলেজের মাস্টার্সের (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) ছাত্র। সংসার কোনভাবে চলছে মুলত তাঁর টিউশনির টাকায়। এক ভাই মানসিক রোগী, অন্য ভাই কয়েকদিন আগে গিয়ে ঢাকায় গার্মেন্টসে
কাজ নিয়েছে। বাবা বিনোদ চন্দ্র দাস বাদশাগঞ্জ বাজারে ফুটপাতের এক চালা ঘরে ধোপার কাজ করেন।
হৃদয় বাদশাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি উত্তীর্ণ হয়। ব্র্যাকের দেওয়া প্রতি মাসের ২৫০০ টাকায় ম্যাচে থেকে ময়মনসিংহের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেছে সে।
এদিকে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া ধর্মপাশার বিলালপুর গ্রামের বর্গাচাষীর ছেলে শিক্ষার্থী জাহিদ হাসানকে কুমিল্লার স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ (স্বাচিপ) এর কার্যকরী সদস্য ডা. অঙ্কুর দত্ত এর পক্ষ থেকে ১ম পেশাগত পরীক্ষার যাবতীয় বই ও এপ্রন তুলে দেয়া হয়েছে। ডা. অঙ্কুর দত্ত বুধবার বিএমএ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার মাধ্যমে জাহিদ হাসানকে এসব সহায়তা প্রদান করেন।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সম্মেলন কক্ষে জাহিদ হাসান ও তার বাবা শফিকুল ইসলামের হাতে শিক্ষা সহায়তা প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন কবি ইকবাল কাগজী, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সম্পাদক পঙ্কজ কান্তি দে, বিএমএ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. নুরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সৈকত দাস, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের বার্তা সম্পাদক বিন্দু তালুকদার, দৈনিক ইত্তেফাক ও নিউজ২৪ এর জেলা প্রতিনিধি বুরহান উদ্দিন।
মেডিকেল কলেজের বই ও এপ্রন হাতে পেয়ে জাহিদ হাসান জানান, ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করব এবং সুবিধা বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াব।