- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

হৃদয়ে শাল্লা, সামনে নির্বাচন

সুশান্ত দাশ
ডাকবক্স, মেরাগাছ, ঝোপঝাড়, মরাপুতা কয়েকজন পুলিশের পুলিশ ফেরী হতে আজকের ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজার মূল শাল্লা সদর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এককালে নদী মাতৃক বাংলার নদী ঘেষা বড় বড় গঞ্জ-বাজার গড়ে ওঠলেও অত্র অঞ্চলের মুরব্বী জ্ঞানীগুণীজনরা হয়তো নদী ভাঙা থেকে রক্ষা, ভৌগলিক অবস্থান ও ভবিষ্যত ভেবেচিন্তে সকল কিছুর উর্ধ্বে ওঠে স্থান নির্বাচনে অবকাঠামোগত প্রথম থানা পরিবর্তন করেন। সেই সূচনালগ্নে গড়ে ওঠা নদী ঘেষা শাল্লা গ্রাম ছেড়ে নির্ধারণ করেন ঘুঙ্গিয়ারগাঁও। অত:পর মরাপুতা, ডাকবাক্স, পুলিশ স্টেশন, কয়েকটি টং দোকান হতে বাজার যা বর্তমানে শাল্লা সদর। অবস্থানগত ৩ নং বাহারা ইউনিয়নের ঘুঙ্গিয়ারগাঁও ঘেষা ঘুঙ্গিয়ারগাওঁ বাজার হলেও ঐতিহাসিকভাবে নামে রয়েছে ঐ শাল্লা গ্রাম নামেই। যাক এসব কোন সমস্যা না বরং আমাদের পূর্বসূরীদের অগ্রিম চিন্তার ফলন।
এই পূর্বসূরীদের নাম ধাম তৎপরিচয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে না জানলেও তাঁদের উত্তরসূরীদের একটা প্রজন্ম মোটামুটি ভাবে ব্রিটিশ পিরিয়ড হতে স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা রাজনীতির জায়গায় বিদ্যমান তা পরিলক্ষিত হয় বই পুস্তকে। যা কালের সাক্ষী হিসাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক। এই সমস্ত বইয়ে শাল্লার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট হতে দেখা যায় “এ অঞ্চলের রাজনৈতিক প্রবাদ পুরুষ প্রজাস্বত্ত্ব আইন প্রবক্তা করুণাসিন্ধু রায়ের আন্দোলনের সাথী ছিলেন শাল্লার আঙ্গারুয়া নিবাসী হৃষিকেশ মজুমদার, যোগেন্দ্র চন্দ্র দাস, মহেন্দ্র চন্দ্র দাস। আরো জানা যায় ভারত বিভাগের পূর্বে এ অঞ্চলের লস্কর বাবু, নরেন্দ্র রায় সহ কিছু মানুষ কংগ্রেস দল থেকে মানুষকে গানের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে সচেতন করতেন। ১৯৪২ সালে কমরেড শ্রীকান্ত দাশের রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রবেশ। তাঁর রাজনৈতিক নেতা ছিলেন কমরেড মনিসিংহ এবং সাংস্কৃতিক গুরু ছিলেন কমরেড সত্যেন সেন এবং সাহিত্যিক রনেশ দাসগুপ্ত। তখন রাজনৈতিক দল ছিল দুটি, কংগ্রেস ও কমিউনিস্ট পার্টি। সে সময় কংগ্রেসের নেতা ছিলেন যতীন্দ্র ভদ্র, সুনামগঞ্জে কমিউনিস্টের নেতা ছিলেন করুণাসিন্ধু রায়। স্থানীয় নেতা ছিলেন হৃষিকেশ মজুমদার। সুরমা বেহেলী উপত্যকায় কৃষক সমিতির সভাপতি ছিলেন করুণাসিন্ধু রায়। ১৯৪৭ এর দেশ বিভাগের পর মুসলীম লীগের স্থানীয় নেতা ছিলেন কালাই মিয়া চৌধুরী। ১৯৪৮-এ ভাষা আন্দোলনের দানা বাঁধায় এই এলাকায় কমিউনিস্ট নেতারা যেমন- কমরেড মনিসিংহ, প্রসূন কান্তি রায়, বারীন দত্ত, সালাম ভাই সহ অনেকেই আত্মগোপনে ছিলেন। তখনকার সময়ে কৃষক সমিতি নেতারা ছিলেন- উমেশ চক্রবর্তী, ছাদির মিয়া, মহিম চন্দ্র দাস, যোগেশ চন্দ্র চৌধুরী, যোগেশ্বর দাস, মধু মিয়া, ডা: কৃষ্ণধন, মন্নান চৌধুরী, হৃষিকেশ মজুমদার, শ্রীকান্ত দাশ, আবীর রঞ্জন দাস(ছাত্র), প্রভাকর চৌধুরী(ছাত্র), সুরেশ চন্দ্র দাস(ছাত্র)। ১৯৫৮ সালের নির্বাচনে শ্রীকান্ত দাস, মহিম দাস ও হৃষিকেশ মজুমদার কৃষক সমিতির একনিষ্ট কর্মী ছিলেন। ১৯৫৪ সালে প্রসূন কান্তি রায় যুক্তফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত হন। ১৯৫৬ সালে খাগমারি সম্মেলনে শ্রীকান্ত দাশ ও কবি শাহ আব্দুল করিম গণসঙ্গীত শিল্পী হিসাবে অংশগ্রহণ করেন।
১৯৭০ এর নির্বাচনে ন্যাপ থেকে এ অঞ্চলের গণমানুষের প্রিয় নেতা জনাব সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আলোড়ন সৃষ্টি করে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এবং বাংলাদেশ জন্মের পর তিনিই একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য যিনি সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ছিলেন। সুতরাং ভাটি বাংলার শাল্লার মানুষের নিকট বিষয়টি সত্যিই গৌরবের। (বই- বাংলার দুর্গম জনপদ শাল্লা,পৃষ্ঠা- ৪১, লেখক- এ.এস.এম. ইউনুছ)।
অপরদিকে বীর মুক্তিযাদ্ধা অ্যাডভোকেট বজলুল মজিদ খসরু প্রণীত ‘রক্তাক্ত -৭১’ বইয়ে শাল্লা থানায় ৫২ সদস্যের সংগ্রাম কমিটির তথ্য দিলেও শুধু ২৩ জনের নাম জানা যায়। তাঁরা হলেন (১) সঞ্জব আলী (কমিটির চেয়ারম্যান, কান্দিগাঁও) (২) রামানন্দ দাস (সদস্য সচিব), আঙ্গারুয়া নওয়াগাঁও) (৩) সুরেশ দাস (৪) যোগেশ চৌধুরী (নাইন্দা) (৫)নজরুল ইসলাম (৬) সচীন্দ্র দাস(আবদা)(৭)শ্যামল চৌধুরী(কৃষ্ণপুর (৮)আলতাব আলী লস্কর(শাল্লা)(৯)অলিউর রহমান(শাল্লা)(১০)আব্দুস সাত্তার (দামপুর) (১১) যোগেশ দাস (কাদিরপুর) (১২) রবীন্দ্র চন্দ্র বৈষ্ণব (ভেড়াডহর) (১৩) ময়নুল চৌধুরী (আটগাঁও) (১৪) শ্রীকান্ত দাশ (আঙ্গারুয়া) (১৫) মহিম দাস (নারকিলা) (১৬) কবীন্দ্র দাস (শাশখাই) (১৭) ছাদির মিয়া (মার্কুলী) (১৮)অধীর চন্দ্র দাস (চাকুয়া) (১৯) রাকেশ চন্দ্র রায় (গদানগর/গঙ্গানগর) (২০)মনীন্দ্র চৌধুরী (মামুদনগর) (২১) সোমচান দাস (২২) রুক্ষ্মিণী দাস (২৩) প্রভাংশু চৌধুরী (সাউদেশ্রী) প্রমুখ।
শান্তি কমিটিতে ছিলেনÑ (১) আব্দুল খালিক (দৌলতপুর) (২) শরাফত আলী (সুলতানপুর) (৩) কালাই মিয়া চৌধুরী (মনুয়া) (৪) হাশিম মোড়ল (কান্দিগাঁও) (৫) খলিল উল্লা (চব্বিশা) (৬) নুর মিয়া (মোহাম্মদ নগর) (৬) এলিম উদ্দীন (উজানগাঁও)।
মুক্তিযুদ্ধে কিছু রাজাকার আহত নিহত হলেও স্বাধীনতার পক্ষের ও বিপক্ষের অনেকেই সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে রাজনীতিতে বহাল তবিয়তে বিচরণ করার জায়গা খুঁজে নিতে পেরেছেন। স্বাধীনতার সূচনালগ্নে তাঁরা থাকলেও পরবর্তীতে অনেক জ্ঞানীগুণী জনও রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছেন। তবে স্বৈরচার পতন সহ নব্বই দশকে প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতি তথা ছাত্র ইউনিয়নের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে শাল্লায়। আবার সোভিয়েত ইউনিয়নে কমিউনিজন পতনের ফলে কমিউনিস্ট নেতা জহির আহমদ সোনা মিয়া এলাকায় দেখে দেখে কিছু সংখ্যক শিক্ষক, কৃষক নেতাদের নিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। এর আগে দিরাই হতে নাসির উদ্দীন চৌধুরী তাঁর চাচা জনাব দবিরুল ইসলামকে নিয়ে জাতীয় পার্টির বীজ বপন করেন। যদিও ঐ স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন কালাই মিয়া চৌধুরী যিনি ১৯৪৭ এর দেশ বিভাগের পর মুসলীম লীগের স্থানীয় নেতা, ১৯৭১-এ শান্তি কমিটির নেতা ছিলেন।
শুরুতে কংগ্রেস, কমিউনিস্ট, ন্যাপ ভাসানী, ন্যাপ মুজাফ্ফর এইসব রাজনৈতিক দলই শক্তিশালী ছিল শাল্লায়। পরবর্তীতে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আওয়ামী রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হলে উনার অনুসারী অনেকেই তাঁর পেছনে ছুটে যান। আর এর পর হতেই রাজনীতির একটা শেইড তৈরি হয়েছে বলে অনেকের মতামত হতে জানা যায়।
(২)
ব্রিটিশ শাসনামলে রাজশক্তির ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করার জন্য ১৮৭০ সালে চৌকিদারী আইন পাশ হয়। গ্রাম চৌকিদারি আইন ১৮৭০ এর অধীনে ইউনিয়ন পরিষদের সৃষ্টি হয়। ১৮৮৫ সাল থেকে ১৯১৯ সাল পর্যন্ত বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের নাম ছিল ইউনিয়ন কমিটি।
১৮৮৫ সালের আইনে তিনস্তর বিশিষ্ট গ্রাম স্বায়ত্বশাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্তরগুলো হল (১) জেলা কমিটি, (২) থানা কমিটি ও (৩) ইউনিয়ন কমিটি। তখন এর সদস্য সংখ্যা ছিল ৫ থেকে ৯ জন। তারা ইউনিয়নের অধিবাসীদের দ্বারা নির্বাচিত হতেন। প্রথম অবস্থায় ইউনিয়ন কমিটির চেয়ারম্যান পদ ১৮৮৫ সালের বিধানে ছিল না। ১৯০৮ সালে চেয়ারম্যান পদের সৃষ্টি করা হয়। চেয়ারম্যান পদটি ১৯১৪ সালে প্রচলিত হয়। তখন সদস্যগণের মধ্য থেকে চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রথা ছিল। ইউনিয়ন কমিটির কার্যকাল ছিল মাত্র ২ বছর।
১৮৮৫ সালের ইউনিয়ন কমিটি ভেঙে নতুন কমিটির নামকরণ করা হয় ইউনিয়ন বোর্ড। এখানে সাধারণত গড়ে ১০টি গ্রাম নিয়ে একটি ইউনিয়ন বোর্ড গঠিত হয়। ইউনিয়নের গড় আয়তন ছিল ১০ থেকে ১৫ মাইলের মধ্যে, এর গড় জনসংখ্যা ছিল ১০ হাজার।
উক্ত ইউনিয়ন বোর্ডের কার্যকাল ছিল ৩ বছর। ১৯৩৫ সালে ইউনিয়ন বোর্ডের কার্যকাল ৪ বছর করা হয়। এই আইনে প্রেসিডেন্ট ছাড়াও একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়।
১৯৫৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান সময়কালে আইন সংশোধন করে প্রকাশ্যে ভোট দান বাতিল করে গোপন ব্যালটে ভোট চালু হয়। ইউনিয়নকে ৩টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়। এই আইনে সর্বপ্রথম নারীদের ভোটাধিকার দেয়া হয়। ১৯৫৯ সালে ইউনিয়ন বোর্ডের নাম পরিবর্তন হয়ে ইউনিয়ন কাউন্সিল হয়। উক্ত ইউনিয়ন কাউন্সিলের কার্যকাল ছিল ৫ বছর। ভাইস চেয়ারম্যান পদ ১৯৬৫ সালে বাতিল করা হয়।
১৯৭১ সালে ইউনিয়ন কাউন্সিলের নাম পরিবর্তন করে নাম রাখা হয় ত্রাণ কমিটি। ১৯৭২ সালের ১ লা জানুয়ারি ইউনিয়ন কাউন্সিল ও ত্রাণ কমিটি ভেঙ্গে ইউনিয়ন পঞ্চায়েত নামকরণ করা হয়। ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর নতুন সংবিধান প্রণীত হয়। ১৯৭৩ সালের ৩০ শে জুন জাতীয় সংসদ কর্তৃক বিধি প্রণীত হয়। ইউনিয়ন পঞ্চায়েত-এর নাম পরিবর্তন করে নাম রাখা হয় ইউনিয়ন পরিষদ। জিয়ার সামরিক শাসনামলে ১৯৭৬ সালের ২০শে নভেম্বর স্থানীয় স্বায়ত্ত্বশাসন অধ্যাদেশ জারি করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদের নাম ঠিক রেখেই সব সরকার কাজ চালিয়ে যায়। ১৯৮৩ ও ১৯৯৩ সালে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) অধ্যাদেশ অনুযায়ী প্রত্যক্ষ ভোটে একজন চেয়ারম্যান ও ০৯ জন সাধারণ সদস্য এবং সংরক্ষিত আসনে ০৩ জন মহিলা সদস্য নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদকাল-৫ বছর। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৩টি ওয়ার্ডের পরিবর্তে ৯টি ওয়ার্ড সৃষ্টি সহ ৩ জন মহিলা সদস্যকে সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়।
স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির হিসাব মতে ইতিহাসের পাতা পড়লে চোখে পরে ১৯৭১ সালে ইউনিয়ন কাউন্সিলের নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে ত্রাণ কমিটি হতে আজকের ইউনিয়ন পরিষদ। যা সারা বাংলাদেশে ৪৫৭১ টি। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় ৪টি। এসব হচ্ছে ১নং আটগাওঁ ইউনিয়ন, ২নং হবিবপুর ইউনিয়ন, ৩নং বাহাড়া ইউনিয়ন, ৪নং শাল্লা ইউনিয়ন।
শাল্লা উপজেলার সবকটি ইউনিয়নের সকল প্রার্থীরা তাঁদের নিজ নিজ গুণে বলীয়ান হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তবে সাধারণ জনমানুষের ইউনিয়ন নির্বাচনকে ঘিরে চক্ষুদৃষ্টি সদর ইউনিয়নকে নিয়ে। তাই লেখার মূল উপজীব্য বিষয়ও হচ্ছে সদর ইউনিয়ন।
প্রথম বার চেয়ারম্যান বাবু মহেন্দ্র্র সরকারের নামসহ আজকের সদর ইউনিয়ন হিসাবে পরিচিত ৩নং বাহাড়া ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত ১০ জন নির্বাচিত চেয়াম্যানের নাম দেখতে পাওয়া যায়। তাঁদের মধ্যে ৩য় বার চেয়ারম্যান ছিলেন নাইন্দা গ্রামের বাবু যোগেশ চৌধুরী এবং ৭ম বার চেয়ারম্যান ছিলেন ডুমরা গ্রামের বাবু নরেশ চন্দ্র চৌধুরী। বাবু যোগেশ চৌধুরীর ভাতৃষ্পুত্র কাজল বরণ চৌধুরী ও বাবু নরেশ চৌধুরীর তনয় বিশ্বজিত চৌধুরী নান্টু। যাঁরা আসছে-ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রতিদ্বন্দ্বি।
কাজল বরণ চৌধুরী একজন মেধাবী শিক্ষক। পিতা যোগেন্দ্র চন্দ্র চৌধুরী। গুণগত মানের শিক্ষকদের মাঝে একক ও অন্যতম। বিশেষ করে ছাত্র/স্কুল জীবনে ছাত্ররাজনীতি বিমুখ অনেক ভাল মানের শিক্ষক থাকলেও উনি ছিলেন ছাত্র রাজনীতি ও রাজনীতি প্রিয় রাজনৈতিক সচেতন শিক্ষক। নব্বই দশকের প্রথমার্ধ্বে গিরিধর স্কুলে চাকুরী নিলেও বসবাস করতেন উপজেলা সদর শাল্লাতে। নির্ধারিত স্কুলটাইম,ছাত্রদের প্রাইভেট পড়ানো ব্যতীত বাকী সময়টুকু স্থানীয় রাজনীতি চর্চায় সময় কাটান। একটা বিষয় উল্লেখ করতেই হয়, প্রায় নব্বই দশকের মাঝামাঝি হতে শাল্লায় যে ক’জন ইয়াং শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় সহ রাষ্ট্রের প্রথম সারির স্তরে স্থান করে নিতে ভাল পড়াশোনায় স্বপ্ন দেখাতে আলোড়ন করেছেন তাঁদের মধ্যে একজন কাজল বরণ চৌধুরী। বহির্বিশ্বে শাল্লার যে তরুণেরা মেধার স্বাক্ষর নিয়ে স্ব স্ব কাজে উদীয়মান তারাও প্রায় সবাই ঐ স্যারেরই ছাত্র। পেশা হিসাবে শিক্ষকতা হওয়ায় সমগ্র উপজেলাতে তাঁর ছাত্র। আবার অনেক ছাত্র উপজেলা প্রশাসনে কর্মরত ও ভোটার। দেখা যায় তাঁর ঐসব ছাত্রদের অভিভাবকদের সাথে আরেকটি নেটওয়ার্কিং অন্যরকম। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাথে ছিলেন জড়িত। ছিলেন শিক্ষকতার পাশাপাশি কৃষকলীগের সাথে সম্পৃক্ত। তাছাড়াও জানা যায় ছিলেন ১৯৮৪-১৯৮৯ পর্যন্ত বৃন্দাবন কলেজ ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত। কাজেই ছাত্র, কর্ম ও রাজনৈতিক জীবন হতে বর্তমান পর্যন্ত সমাজের সাধারণ জনমানুষের সাথে নানা সম্পর্ক বিদ্যমান।
অপরদিকে বিশ্বজিত চৌধুরী নান্টু ছাত্র ইউনিয়ন-ছাত্রলীগ করে যুবলীগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত। সুদূর ছাত্রাবস্থা থেকেই তার মুখ পরিচিত। শুধু তাই নয় পত্রিকার পাতায় যখন শিরোনাম হয় “রাজাকার পুত্র স্বগৌরবে বলে আমার বাবা রাজাকার, সাকা চৌধুরীর মতো যুদ্ধাপরাধীর ভিত্তিপ্রস্তর ভাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে ছায়া হিসাবে সহযোগিতা, শাল্লা কলেজে ছাত্রভর্তির নামে লুটপাট; এসবের প্রতিবাদে মানুষের চোখের সামনে নান্টু চৌধুরী। আবার নীরিহ মৎস্যজীবী যখন তাঁর সারাদিনের খাবার জুটানোর জন্য বাজারে মাছ বিক্রির জায়গা না পেয়ে বাড়ি ফিরে যেতে চায় তখন নান্টুর গর্জনেই সেই মাছ বিক্রেতা মাছ বিক্রি করে ঘরে ফিরে। সেই মাছ বিক্রেতা এতোটাই নিঃস্ব চেয়ারম্যান দূরের কথা গ্রামের মেম্বারের কাছে যেতে পারে না কিন্তু নান্টুর চোখের সামনে তাঁদের ভরসা। অপরদিকে হবিবপুর নওয়াগাঁও যখন সাম্প্রদায়িকতার বিশ বাষ্পে আক্রান্ত তখনো নান্টু সম্মিলিত মানববন্ধন প্রতিবাদ প্রতিরোধে ধাবমান; যদিও রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতায় আটকে যায়।
ইউনিয়ন পরিষদ হল বাংলাদেশে পল্লী অঞ্চলের সর্বনিম্ন প্রশাসনিক একক। কাজেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্থানীয় রাজনীতিকরা সাধারণ গণমানুষের গণসচেতনতাকে কতোটুকু জাগ্রত করতে পেরেছে কিংবা নির্বাচিত হয়ে কি-করছে সেই জায়গাতে আজ চিন্তা করতে হবে। মনে রাখতে হবে গরু পাহাড়া দেওয়ার জন্য রাখালের প্রয়োজন হয় এখন যদি এর উল্টো ঘটে তাহলে সেই সমাজ সামাজিকতায় গণসচেতনতা দূরের কথা নষ্টের দিকে অগ্রসর হয়। তারপরও মানুষ আশাবাদী। একজনকে ভোট দিবে। একজন জয়ী হবে। সব প্রার্থীদের প্রতি শুভ কামনা।
লেখক: প্রবাসী।

  • [১]