- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

হেলিকপ্টারে ইউপি নির্বাচনের সমাবেশে গেলেন জেলা আ.লীগের নেতারা

স্টাফ রিপোর্টার
হেলিকপ্টারে চড়ে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনী প্রচারণায় গেলেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন। আওয়ামী লীগ নেতাদের এই বিলাসবহুল প্রচারণার বাহন বৃহস্পতিবার জেলাজুড়ে আলোচনার বিষয় ছিল। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন বলেছেন, হেলিকপ্টার চড়ে ব্যক্তিগত দাওয়াতে আজমিরিগঞ্জে গিয়েছিলে জেলা সভাপতি, ওখান থেকে কিছু দুরে শাল্লায় পরে নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেওয়া হয়েছে। দলের জেলা নেতারা এই প্রচারণা আচরণবিধি লঙ্ঘন করে করেছেন বলে দাবি করেছেন, শাল্লা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল লেইছ চৌধুরী।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় হেলিকপ্টারযোগে আজমিরিগঞ্জ কলেজ মাঠে গিয়ে নামেন। সেখান থেকে জলসুখা হয়ে গ্রাম শাল্লা বাজার মাঠের নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের এই দুই নেতা।
সমাবেশে বক্তৃতা করার সময় আগামী পাঁচ জানুয়ারি শাল্লা উপজেলা পরিষদের চারটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের ভোট দেবার আহ্বান জানান।
উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. অলিউল হকের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জেলা যুবলীগের সদস্য দিপু রঞ্জন দাসের সঞ্চালনায় নির্বাচনী জনসভায় এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাড. অবনী মোহন দাস, জেলা আওয়ামী লীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুল হাসান চৌধুরী, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. আবুল কালাম চৌধুরী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. সুয়েব চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাল্লা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. ছাত্তার মিয়া, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিন, শাল্লা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান জামান চৌধুরী ফুল মিয়া, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল গণি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য অ্যাড. মো. আল-আমিন, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা মজিবুর রহমান, যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম রফিক প্রমুখ বক্তব্য দেন।
শাল্লা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল লেইছ চৌধুরী এই শোভাযাত্রা ও সমাবেশ প্রসঙ্গে বললেন, হেলিকপ্টারে চড়ে আজমিরিগঞ্জ কলেজ মাঠে নামেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিশাল মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা সহকারে গ্রাম শাল্লা মাঠে আসেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, তাঁরা ৪০ ফুট প্রস্ত ও ৬০ ফুট দৈর্ঘ্যরে বিশাল মঞ্চে ওঠে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন। তাঁদের সঙ্গে থাকা কিছু নেতা কর্মীরা শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্য রাখেন। আমি যেহেতু দলের কর্মী, তাঁরা আমার নেতা, দলের ক্ষতি হলে, আমার কষ্ট লাগবে, আমার নেত্রী দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনারও খারাপ লাগবে, এজন্য আমি নিরব ছিলাম, কিন্তু গ্রাম শাল্লার মানুষ নিরবে প্রতিবাদ জানিয়েছে, তারা এই সমাবেশে যান নি।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রসঙ্গে বললেন, আমরা কেউই আচরণবিধি লঙ্ঘন করি নি। হেলিকপ্টারে চড়ে নির্বাচনী প্রচারণায় যাওয়া হয় নি। হেলিকপ্টার নির্বাচনী এলাকায়ও নামানো হয় নি। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমানের জামাতা আজমিরিগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি মিসবাহ্ উদ্দিন ভুইয়া’র পারিবারিক অনুষ্ঠানে দাওয়াতে গিয়েছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই সুযোগে শাল্লার দলীয় মনোনীত প্রার্থীরা নির্বাচনী সমাবেশের আয়োজন করেন। যেহেতু ওখানে প্রচারণা দেওয়া হয়েছিল আমরা উপস্থিত থাকবো, সমাবেশ হবে। এজন্য সমাবেশে যাওয়া জরুরি ছিল। সমাবেশে দলীয় প্রার্থীদের নৌকায় ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের কিছুই হয় নি।

  • [১]