- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

১০ টাকা কেজি চাল প্রাপ্তদের তালিকা তৈরির কাজ দ্রুত শেষ করুন

জেলার ৯১ হাজার ছয়শত সাতাশ পরিবারকে ১০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারের এই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচী প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর, মার্চ ও এপ্রিল মাসে চালু থাকবে। কর্মসূচীর আওতায় তালিকাভূক্ত দরিদ্র পরিবারগুলো প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাল কিনতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী আজ কুড়িগ্রামের চিলমারীতে এই কর্মসূচীর উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে। ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রয়ের যে সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে সেই সময়ে বাজারে সাধারণত চালের দাম বেশি থাকে। এই সময়ে দরিদ্র জনসাধারণকে খাদ্য নিরাপত্তা দানের উদ্দেশ্য নিয়েই সরকার ভর্তুকি দিয়ে এই কর্মসূচী শুরু করেছেন। এটি প্রধানমন্ত্রীর একটি অঙ্গীকার পূরণের বিষয়ও বটে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন ১০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহের। তাঁর এই ঘোষণা নিয়ে তখন অনেক উপহাস ও বিদ্রুপ করা হয়েছিল বিরোধী মহল থেকে। এখন প্রধানমন্ত্রী কার্যত নিজের ঘোষণা বাস্তবায়ন করে উপহাস ও বিদ্রুপকারীদের মুখের উপর জবাব দেওয়া শুরু করলেন। আমরা দরিদ্র জনসাধারণের কল্যাণে সরকারের গৃহিত এই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর সফলতা কামনা করি।
এই কর্মসূচীর আওত্য়া জেলার যে ৯১ হাজার ছয়শত সাতাশ পরিবারকে স্বল্পমূল্যে চাল সহায়তা দেয়া হবে তার তালিকা প্রণয়নের দায়িত্ব উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদের। এই তালিকা উপজেলা যাচাই বাছাই কমিটির মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে।  গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায় যে, জেলার ১১ উপজেলার মধ্যে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোন তালিকা এখনও উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়নি। কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেছেন, এই কাজ সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তারা এক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা দেখাচ্ছেন। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জানিয়েছেন, মাত্র চারটি উপজেলার তালিকা তিনি হাতে পেয়েছেন। যে কর্মসূচীটি আজ প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করছেন এবং যেটি সেপ্টেম্বর মাস থেকেই শুরু হবে, অধিকাংশ উপজেলার তালিকাই যেখানে তৈরি হয়নি সেখানে দরিদ্র মানুষরা এর সুফল পাবেন কীভাবে? শেষ মুহূর্তে এসে গা ঝাড়া দিয়ে হয়তো যেনতেন প্রকারে একটি তালিকা ধরিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু প্রেরীত ওই তালিকার সাথে বাস্তবতার মিল থাকবে পুরোপুরি এমন আশা করাও সংগত হবে না। এরকম হলে সরকার সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রী যে মহৎ আকাক্সক্ষা নিয়ে কর্মসূচীটি শুরু করেছেন তা মাঠে মারা যেতে পারে। আমরা এ বিষয়ে এখনই তড়িৎ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য খাদ্য বিভাগ ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
ইতোপূর্বে সরকারী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর খাদ্য সহায়তা নিয়ে আমরা নানা ধরনের দুর্নীতির কথা শুনেছি। এই দুর্নীতিগুলো যাতে নবপ্রবর্তিত কর্মসূচীর মধ্যে ভাইরাস হয়ে ঢুকে না পড়ে সেজন্য আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানাই। ৩০ কেজি চালের স্থলে যাতে দরিদ্ররা ৩০ কেজিই চাল পান, ওজনে এক দুই কেজি ঠকানো না হয়; নানা কায়দায় যাতে দরিদ্রের নামে বরাদ্দকৃত চাল কালোবাজারীর মাধ্যমে পাচার না হয়, বেশি দাম নেয়া না হয়, মানহীন চাল সরবরাহ না করা হয়, তালিকা প্রণয়নের নামে কেউ যাতে হয়রাণির শিকার না হনÑ এসব বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিৎ বলেও আমরা মনে করি। সরকারের অবস্থান পাকাপোক্ত করার রাজনৈতিক প্লাটফরম সংগঠনকে এসব বিষয়ে তৃণমূলে সজাগ পাহাড়াদারের ভূমিকা রাখতে হবে। আবারও বলছি পাহাড়াদােেরর ভূমিকা, ভক্ষকের ভূমিকা নয়।

  • [১]