স্টাফ রিপোর্টার
‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ এই সেøাগানে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্র পরিবারকে ১০ টাকা কেজি টাকা দরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে। জেলার ১১ উপজেলায় ৮৭টি ইউনিয়নের ৯১ হাজার ৬২৭ জন ভোক্তা কার্ডের মাধ্যমে এই কর্মসূচির আওতায় চাল ক্রয় করার সুযোগ পাচ্ছেন।
জেলার ৯১ হাজার ৬২৭ জন ভোক্তাকে কার্ডের মাধ্যমে চাল বিক্রি করার জন্য জেলায় ৯৭ ইউনিয়নে ১৭১ জন ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে। এসব ডিলার সম্প্রতি চাল বিক্রি শুরু করেছেন।
ভোক্তাদের কাছে চাল বিক্রি শুরু করার পরই বিভিন্ন এলাকার লোকজন জানিয়েছেন সরকারিভাবে নিয়োগকৃত ডিলার হয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাই ডিলার হয়েছেন।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শাল্লার উপজেলার ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন আটগাঁও ইউনিয়নের মাহমুদনগর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে হেলাল উদ্দিন, একই ইউনিয়নের বাজারকান্দি গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে রাহুল সরকার, হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আওয়ামী লীগ নেতা স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুলের ভাই রাজেশ চন্দ্র মজুমদার ও একই ইউনিয়নের শাসখাই গ্রামের আ.লীগ নেতার ছেলে বাদল চন্দ্র দাস, বাহাড়া ইউনিয়নের ঘুঙ্গিয়ারগাঁও গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতার ভাই মহাদেব সরকার ও একই ইউনিয়নের ডুমরা গ্রামের উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নরেশ চৌধুরীর ছেলে সেন্টু চৌধুরী, শাল্লা ইউনিয়নের সীমেরকান্দা গ্রামের আ.লীগ নেতা আরাফাত রহমান ও একই ইউনিয়নের আদিত্যপুর গ্রামের আ.লীগ নেতার ছেলে অজয় তালুকদার।
এই অবস্থা শুধু শাল্লা উপজেলাই নয়। একই অবস্থা জেলার অন্যান্য উপজেলায়। যাদের ডিলার নিয়োগ করা সবাই সরকার দলীয় নেতা-কর্মী আর না হয় ক্ষমতাসীন সরকার দলীয় নেতাদের আত্মীয়-স্বজন।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ডিলারগণ হলেন, পাবর্তীপুর গ্রামের সবুজ মিয়া ও আব্বাস আলী, মঈনপুর (মনমতেরচর) গ্রামের এরন মিয়া,ইসলামপুরের ওহিদুল ইসলাম, মনোহরপুর গ্রামের নুরুজ্জামান, লালপুর গ্রামের মিজানুর রহমান, রাবারবাড়ি গ্রামের মুনসুর আলী, শ্রীপুর গ্রামের ফরহাদ ইসলাম, মাইজবাড়ির সুলতান আহমদ, বদিপুর গ্রামের বুরহান আলী, নিয়ামতপুর গ্রামের রথীন্দ্র কুমার রায়, কলাইয়া গ্রামের নিজাম উদ্দিন, ব্রহ্মোত্তর গ্রামের আবু তালেব, নতুন পৈন্দা গ্রামের মনিমোহন দাস, বিরামপুর গ্রামের ইমদাদুল হক, সিংপুর হাটির মহসিন মিয়া ও লালপুর (রতনশ্রী) গ্রামের মনিরুল হক।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার কেশবপুর গ্রামের লিয়াকত আলী, কান্দগাঁও গ্রামের সাকির আহমদ, ইনামনগর গ্রামের ভজন গোস্বামী, উজানীগাঁও গ্রামের আলমগীর রহমান রিপন, পিঠাপশি গ্রামের নজরুল হোসেন, খুদিরাই গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস, ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের জাবেদ নূর, রায়পুর গ্রামের হাবিবুর রহমান, নোয়াগাঁও গ্রামের ছালেহ আহমদ চৌধুরী, ছয়হারা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, বীরগাঁও গ্রামের ছায়েক নূর, হাঁসকুড়ি গ্রামের মনোয়ার হোসেন, দূর্বাকান্দা গ্রামের গিয়াস উদ্দিন, দক্ষিণ গাজীনগর গ্রামের হেলন মিয়া, তেহকিয়া গ্রামের নূর আলম ও গনিনগর গ্রামের আব্দুল হান্নান।
দিরাই উপজেলার সরকারিভাবে ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন উপজেলার গচিয়া গ্রামের হেলাল উদ্দিন, তাজপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়ারকাপন গ্রামের জাকারিয়া হোসেন, পেরুয়া গ্রামের মনোজ কান্তি রায়, সিরিয়ারচর গ্রামের উপেন্দ্র মল্লিক, খাগাউরা গ্রামের চন্দন মজুমদার, বাউসী গ্রামের হেমেন্দ্র চন্দ্র বৈষ্ণব, তাড়ল গ্রামের শামীম চৌধুরী, হাতিয়া গ্রামের সুহেল আহমদ, লৌলারচ গ্রামের বরুন কুমার ভুইয়া, হাসিমপুর গ্রামের প্রাণকৃষ্ণ রায়, মধুরাপুর গ্রামের মিলন চৌধুরী, টংগর গ্রামের নাছিম খান, সিকন্দরপুর গ্রামের আবু বকর, কেজাউরা গ্রামের কামরুজ্জামান চৌধুরী, উর্ধ্বনপুর গ্রামের ধন মিয়া চৌধুরী, নানচী গ্রামের আফাজ উদ্দিন, বাসাখরচ গ্রামের আব্দল হাইউম।
জামালগঞ্জ উপজেলার ডিলারগণ হলে, বেহেলী গ্রামের নির্মাল্য কান্তি রায়, রহিমাপুর গ্রামের গোপিকা রায়, উত্তর কামলাবাজ গ্রামের অসিত রায় চৌধুরী, সংবাদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম ভুইয়া, দুর্লভপুর গ্রামের গোলাম জিলানী আফিন্দী রাজু, রামপুর গ্রামের রোসেল আহমেদ, মাহমুদপুর গ্রামের আবু তাহের, ফেকুল মাহমদুর গ্রামের শাহাব উদ্দিন, পূর্ব লক্ষীপুর গ্রামের মোতাসিম বিল্লাহ সিদ্দিকী ও সাচনা গ্রামের আলাল উদ্দিন।
ধর্মপাশার ডিলারগন হলেন, নিজগাবী গ্রামের কবীর আহমেদ শাহ, চাপাইতি গ্রামের শফিকুল ইসলাম, ধর্মপাশা নতুনপাড়া গ্রামের মনুজেন্দ্র চৌধুরী ও মোস্তাক আহমেদ, মহেশপুর (ভাতগাঁওবাদে) গ্রামের হাবিবুর রহমান, সুনই গ্রামের শাহজাহান কবির, মধ্যনগর গ্রামের ওবায়দুল হাসান খান, দৌলতপুর গ্রামের হানিফ মিয়া, জিংড়ীগড়া (লেঙ্গুর) গ্রামের এরশাদ আকন্দ, বীর উত্তর বীর গ্রামের দেনিয়ার হোসেন খান পাঠান, রাজাপুর দক্ষিণ হাটির বদরুল হুদা চৌধুরী, সাউদপাড়ার আইউব আলী, টুপিরকোনা গ্রামের শাহ আলম, বিছারকান্দি গ্রামের মেহেরুল ইসলাম, কালাগড়া দুদাঙ্গা গ্রামের আব্দুল মজিদ, নধ্যনগরের গোবিন্দ রায় ও শম্ভু রায়, ইসলামপুরের জাকির হোসেন, নুরপুরের দোলোয়ার হোসেন ও হরিপুর গ্রামের আব্দুল হাই।
তারিহপুর উপজেলার ডিলারগণ হলেন, আনোয়ারপুর গ্রামের আব্দুর নূর, বানিগাঁও গ্রামের শফিক মিয়া, তরং গ্রামের শামসুল আলম আখঞ্জি, কুকুরকান্দি গ্রামের হারুন মিয়া, মধ্য তাহিরপুর গ্রামের রঞ্জু মুখার্জী, সুলেমানপুর গ্রামের অদুদ মিয়া, পৈলনপুর গ্রামের দেবাশীষ শর্মা চৌধুরী ও আবুল কালাম, জামলাবাজ গ্রামের আক্তারুজ্জামান ও পাঠানপাড়া গ্রামের মুহিবুর রহমান চৌধুরী।