- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

১২৫ কোটির সড়ক টিকল না ২ বছর

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জসহ হাওরবাসীর স্বপ্নের আব্দুজ জহুর সেতু দিয়ে ২ বছর ধরে যান চলাচল শুরু হলেও যাত্রীভোগান্তি লেগেই আছে। সেতুর ওপারের তিন উপজেলা জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর সড়কে খানাখন্দক থাকায় দূরপাল্লার বাস ঐ উপজেলা পর্যন্ত যাচ্ছে না। এ কারণে প্রায় ১০ লাখ মানুষ কাঙ্খিত যোগাযোগ সুবিধা পাচ্ছে না। অন্যদিকে, এক বছর আগে সুনামগঞ্জের নিয়ামতপুর-তাহিরপুর এবং ২ বছর আগে সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়ক প্রায় ১২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ শেষ হলেও এই দুই সড়কের বেশিরভাগ অংশই এখন ভাঙাচোড়া।
সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরের উপজেলা তাহিরপুর। এই উপজেলার যোগাযোগ সড়কের বেহাল অবস্থা। তাহিরপুর থেকে আনোয়ারপুর পর্যন্ত সড়কে খানা-খন্দকে ভরপুর, নিয়ামতপুর-তাহিরপুর সড়কেও একই অবস্থা। ২ বছর আগে সুনামগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর উপর হওয়া আব্দুজ জহুর সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু হলেও এখনো যাত্রীদের সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জের ২০ কিলোমিটার, সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের ১৫ কিলোমিটার এবং সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কে ইজিবাইক, সিএনজি অটোরিক্সা, মোটর সাইকেল ও লেগুনায় চলাচল করতে হয়। অথচ. সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কটি পর্যটকদের জন্য এবং সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়ক ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই তিন উপজেলার বাসিন্দাদের রাজধানী ঢাকায় যেতে হলে সুনামগঞ্জ এসে বাসে উঠতে হয়। জেলা শহরে আসতে হলেও মোটর সাইকেল, সিএনজি, লেগুনা বা অটোরিক্সায় চলাচল করতে হয়।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ ২০১৫ সালের ৩০ জুন ৭৪ কোটি ৬ লাখ ৪ হাজার টাকা ব্যয়ে নিয়ামতপুর – তাহিরপুরের ১৭ কিলোমিটার অংশের কাজ শেষ করে এবং ২০১৬ সালের ৩০ জুন ৫১ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কের ১৮ কিলোমিটার কাজ শেষ করে । এই দুটি সড়কেরও এখন বেহাল অবস্থা।
তাহিরপুরের গণমাধ্যমকর্মী বাবরুল হাসান বাবলু বলেন,‘তাহিরপুর এখন দেশি-বিদেশী পর্যটকদের কাছে পরিচিত নাম। টাঙ্গুয়ার হাওর, নিলাদ্রী লেক, মেঘালয় থেকে নেমে আসা যাদুকাটা, পাহাড়ঘেষা লাউড়ের গড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য হাজারো পর্যটক প্রতিদিন এখানে আসেন। অথচ. এখানকার সড়ক দিয়ে কোন বাস চলাচল করে না, এটি খুবই দুঃখজনক।’
বিশ্বম্ভরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন কুমার বর্মণ বলেন,‘ইজিবাইক এবং মোটর সাইকেল নির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থা হওয়ায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। আব্দুজ জহুর সেতু হয়েছে। কিন্তু ভোগান্তি এখনো রয়েই গেছে।’
জামালগঞ্জের গণমাধ্যম কর্মী আকবর হোসেন বলেন,‘সাচনাবাজার জেলার বড় হাট হিসাবে পরিচিত, জেলার নৌ-বন্দর হিসাবেও খ্যাত এটি। এই বাজারের সঙ্গে জেলা সদরের যোগাযোগ হওয়ায় পুরো জামালগঞ্জ উপজেলাবাসী উপকৃত হয়েছে। কিন্তু জেলা সদর কিংবা দূর পাল্লার বাস এই সড়কে চলাচল না করায় মানুষ সড়ক ও সেতুর কাঙ্খিত সুবিধা ভোগ করতে পারছে না। এখন সাচনাবাজার থেকে লেগুনায়- মোটর সাইকেলে জেলা সদরে গিয়ে যাত্রীদের দূরপাল্লার বাসে উঠতে হয়।’ তিনি জানান, কাজ শেষ হতে না হতেই সড়কের টুকেরঘাট থেকে নিয়ামতপুর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার অংশের পিচ ওঠে গেছে। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন,‘২ বছর আগে ৭৪ কোটি ৬ লাখ ৪ হাজার টাকা ব্যয়ে নিয়ামতপুর-তাহিরপুর সড়ক এবং ৫১ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে সুনামগঞ্জ জামালগঞ্জ সড়কের কাজ শেষ হয়। অথচ দেখতে দেখতেই সড়কের বেহাল অবস্থা হয়েছে।’
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সফিকুল ইসলাম বলেন,‘সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের আনোয়ারপুর-তাহিরপুর অংশ বিগত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অংশে নতুনভাবে কাজ করার জন্য দরপত্র আহ্বান এবং গ্রহণ করা হয়েছে। এই অংশ কাজ করার পর ঐ সড়কে বাস চলাচলে কোন সমস্যা থাকবে না। সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ এবং নিয়ামতপুর-তাহিরপুর সড়কে ২০১৫-১৬ সালে কাজ শেষ হলেও কাজ শুরু হয়েছিল ২০১০ সালে। এই কয়েক বছরে বন্যায় সড়কের ক্ষতি হয়েছে। আমরা সড়ক মেরামত ও সংস্কারের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি।’
জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন,‘সুনামগঞ্জ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি। তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। তাহিরপুরসহ আব্দুজ জহুর সেতুর ওপর পাড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলীরা বলেছেন, যার যার অংশ মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছেন তাঁরা। পরিবহন মালিক সমিতিকে বলা হয়েছে, তারা ঐসব উপজেলা সড়ককে রুট হিসাবে চালু করতে চাইলে- আমরা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

  • [১]