অমিত দেব, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘ আট বছর পর বহুল প্রত্যাশিত এ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কারা প্রার্থী হচ্ছেন এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে শুরুতেই ১২ সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম আলোচনায় ওঠে এসেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় ফোরামে কথা বলাও শুরু করেছেন। জগন্নাথপুরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলেই বিরোধ রয়েছে। দুই দলের একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলেও শুনা যাচ্ছে। জগন্নাথপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু অবশ্য বলেছেন,‘জগন্নাথপুর আওয়ামী লীগে কোন বিরোধ নেই’। একই ধরনের মন্তব্য করেছেন, জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু হুরায়রা ছাদ মাস্টার। তিনি বলেন,‘বিএনপিতে কোন গ্রুপিং নেই, গত ১৮ বছর ধরে পাল্টা-পাল্টি কোন কমিটিও হয়নি’।
বুধবার নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিলে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাছাই ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রার্থীতা প্রত্যাহার ও ৬ মার্চ ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারী জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের ফলাফল নিয়ে দুই প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আকমল হোসেন ও বিএনপি নেতা আতাউর রহমানের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। পরে নির্বাচন কমিশন দুই বিজয়ী ভাইস চেয়ারম্যানের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করে এবং ২০০৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি চেয়ারম্যান পদের ফলাফল স্থগিত ঘোষণা করা হয়। পরে নির্বাচন কমিশন বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন উপজেলার ৬০ নম্বর শাহারপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পূন:ভোট গ্রহণ হবে। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতা আতাউর রহমান হাইকোর্টে রিট করেন। এই রিটের প্রেক্ষিতে ২৫ মে হাইকোর্ট নির্বাচন স্থগিত করে কেন আতাউর রহমানকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হবে না এই মর্মে নির্বাচন কমিশনের উপর রুল জারী করেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও দেলোয়ার হোসেনের সমন্বয়ে দ্বৈত বেঞ্চ চেয়ারম্যান প্রার্থী আতাউর রহমানের দায়ের করা রিট আবেদন খারিজ করে দেন। ফলে নির্বাচন কমিশনের বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলার ৬০ নম্বর শাহারপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণে আইনী বাধা অপসারিত হয় এবং ওই কেন্দ্রে ২০১০ সালে পুনঃ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
পুনঃনির্বাচনে আকমল হোসেন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে ৫ বছর মেয়াদ পূরণের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত ৫ বছর দায়িত্ব পালনের আদেশ দেন। চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি তাঁর ৫ বছর মেয়াদ পূরণ হয়।
এদিকে, সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় সম্ভাব্য প্রার্থীরাও দৌঁড়ঝাঁপ শুরু করেন। নির্বাচন কমিশন বুধবার এই উপজেলার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।
বহুল প্রত্যাশিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়টি বুধবার জগন্নাথপুরে দিনভর সকল মহলে ছিল প্রধান আলোচনার বিষয়। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও নড়েচড়ে বসেন। দলীয় বলয়ে নিজের প্রার্থী হবার আগ্রহের কথাও জানান অনেকে।
বিশেষ করে সম্ভাব্য প্রবাসী প্রার্থীরা মুঠোফোনে নির্বাচনের দিনক্ষণের তারিখ জানা ও শুভাকাঙ্খিদের সাথে যোগাযোগ করতে থাকেন।
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তাঁরা হলেন- বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আকমল হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হরমুজ আলী, যুক্তরাজ্য প্রবাসী সৈয়দ আবুল কাশেম ও হারুণ রাশীদ।
এছাড়াও পাটলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক, চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরশ মিয়ার নামও শোনা যাচ্ছে।
বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু হুরায়রা ছাদ মাস্টার, গত নির্বাচনে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী আতাউর রহমান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে তাদের ঘনিষ্টজনরা জানিয়েছেন।
এছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা মুজিবুর রহমান, যুবলীগ সভাপতি কামাল উদ্দিন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী জুবায়ের আহমদ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবির আহমদ, প্রভাষক শিব্বির আহমদ ওসমানীর নাম শোনা যাচ্ছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু বলেন,‘উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন আমিও চাইবো। জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগে কোন বিরোধ নেই। জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ ছিল, কোথাও কেউ নৌকার বিরোধীতা করেনি। সম্প্রতি হয়ে যাওয়া জেলা পরিষদ নির্বাচনেও জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সকল দায়িত্বশীল নেতা কর্মী দলীয় সমর্থিত প্রার্থী’র পক্ষেই ছিল। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও আমরা সকলেই দলের সিদ্ধান্তের পক্ষেই থাকবো’।
জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আবু হুরায়রা ছাদ মাস্টার বলেন,‘দল নির্বাচনে গেলে আমি প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়ন চাইবো। দীর্ঘদিন ধরে আমি দল করছি, আশা করি আমার ত্যাগের বিষয়টি মূল্যায়ন করা হবে। জগন্নাথপুর বিএনপিতে কোন বিভেদ নেই। গত ১৮ বছর ধরে পাল্টাপাল্টি কোন কমিটিও জগন্নাথপুরে হয়নি’।